রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ।। ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন বিচার বিভাগকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি: আইনমন্ত্রী অচিনপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিশ্চিহ্ন প্রায় ৩০০ পরিবার কোরআনের আলো ছড়ানোর আগেই সড়কে নিভল হাফেজ দম্পতি ও শিশুকন্যার প্রাণ নরসিংদীতে দুই মাহফিলে বয়ান করবেন আওলাদে রাসূল মাওলানা মাহমুদ মাদানী যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছে ঘর, বৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছে গাজাবাসীর শেষ আশ্রয়টুকুও! ইসলামী যুব আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলা শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা বেশি সম্পদ নয়, তৃপ্তি ও কৃতজ্ঞতাই প্রকৃত সফলতা: মসজিদে নববির খতিব

কোরআনের আলো ছড়ানোর আগেই সড়কে নিভল হাফেজ দম্পতি ও শিশুকন্যার প্রাণ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বপ্ন ছিল একটি মাদরাসা গড়বেন। সেই মাদরাসা থেকে তৈরি হবে একঝাঁক হাফেজ ও হাফেজা। চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে পবিত্র কোরআনের আলো। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে পাশে ছিলেন মেয়ে ও জামাতা। নিজেদের গড়া মাদরাসায় দুজনের কাঁধেই ছিল গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এরই মধ্যে তাঁদের সংসারে এসেছিল নতুন অতিথি। সাত মাসের শিশুকন্যাকে ঘিরে সাজানো হয়েছিল ছোট্ট সুখের পৃথিবী।

কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই থেমে গেল সব আয়োজন। যে মাদরাসাকে ঘিরে ছিল এত স্বপ্ন, সেটি রয়ে গেল। শুধু আর ফিরবেন না হাফেজ মোর্শেদ আলম, তাঁর স্ত্রী হাফেজা ইকরামা বেগম ও তাদের সাত মাস বয়সী শিশুকন্যা রিফা। এক দুর্ঘটনায় নিভে গেল একই পরিবারের তিনটি প্রাণ, ভেঙে গেল একটি পরিবারের সাজানো স্বপ্ন।

গতকাল শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে জামালপুরে একটি মাহফিল শেষে নিজেদের মাদরাসায় ফিরছিলেন তাঁরা। পথে মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের বুরুঙ্গা এলাকায় একটি ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই মারা যান মোর্শেদ আলম (২৫), তাঁর স্ত্রী ইকরামা বেগম (২৩) ও তাঁদের শিশুকন্যা রিফা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইকরামার মা হাবিবা বেগমের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল একটি হাফেজিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করবেন। সেখানে কোরআনের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে গড়ে উঠবে অসংখ্য হাফেজ ও হাফেজা। মায়ের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ২০২৪ সালে হাফেজা মেয়ে ইকরামা বেগমের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয় ইন্দুল্লামারী এলাকার হাফেজ মোর্শেদ আলমের।

এরপর ২০২৫ সালে ইকরামার বাবা রেজাউল করিম ‘হারুনুর রশিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’ নামে একটি হাফেজিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে নারী বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইকরামাকে এবং পুরুষ বিভাগের দায়িত্ব পান তাঁর স্বামী মোর্শেদ আলম। দুজন মিলে শিক্ষার্থীদের কোরআন শিক্ষায় গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করেন।

এরই মধ্যে সাত মাস আগে তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান রিফা। সন্তান, সংসার ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভালোই কাটছিল তাঁদের দিনগুলো। স্বামী-স্ত্রী দুজনের চোখেই ছিল আরও অনেক শিশুকে কোরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন।

কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। যে মাদরাসার প্রতিটি আয়োজনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল তাঁদের শ্রম ও ভালোবাসা, সেখানে আর একসঙ্গে ফেরা হবে না তাঁদের। যে শিশুকন্যাকে ঘিরে ছিল ভবিষ্যতের কত পরিকল্পনা, তাকেও সঙ্গে নিয়েই চলে গেলেন তাঁরা।

তিনজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মাদরাসা ও আশপাশের এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রিয় শিক্ষকদের হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। সহপাঠীদের কান্না আর স্মৃতিচারণে ভারী হয়ে ওঠে মাদরাসার পরিবেশ।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ