নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে প্রাইভেটকারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪) নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনটির নেতারা ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচার এবং নিহতের পরিবারের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল কে এম বিল্লাল হোসাইন এসব দাবি জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফুটপাতে বিশ্রামরত অবস্থায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানকে একটি প্রাইভেটকার চাপা দিলে তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজ এবং মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কে গাড়ি চালাচ্ছিল এবং দুর্ঘটনার জন্য কার দায় রয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা জরুরি।
তারা বলেন, কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের সামাজিক, রাজনৈতিক কিংবা আর্থিক প্রভাব যেন তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করতে না পারে, তা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। একজন শ্রমিকের জীবন তার আর্থিক বা সামাজিক অবস্থানের কারণে কোনোভাবেই মূল্যহীন হতে পারে না।
ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের নেতারা বলেন, মেহেদী হাসানের পরিবার যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের ভবিষ্যৎ জীবিকা, পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. মেহেদী হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
২. কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের সামাজিক, রাজনৈতিক কিংবা আর্থিক প্রভাব যেন তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. নিহত শ্রমিকের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং আইনানুগভাবে দায়ী ব্যক্তি বা পক্ষের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে।
৪. মেহেদী হাসানের পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা, পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাজধানীর ফুটপাত ও সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বিবৃতির শেষে নেতৃবৃন্দ নিহত মেহেদী হাসানের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
আইও/