রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে ফের অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম। গতকাল দুই পক্ষের সংঘর্ষের এক দিন পর আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে মিছিল নিয়ে ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন ফোরামের সদস্যরা। তবে এদিন ঘটনাস্থলে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেখা যায়নি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই মতিঝিলের দিলকুশা এলাকায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের আশপাশে জড়ো হতে থাকেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা। পরে সকাল ১০টার দিকে মিছিল সহকারে তারা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের।
যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ব্যাংকের সামনে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি রয়েছে। গতকালের সংঘর্ষের পর আজকের কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকাজুড়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সোমবার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে সচেতন গ্রাহক ফোরামের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গ্রাহক ফোরাম ও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ফোরামের সহ-সভাপতি ও ব্যবসায়ী মোতাছিম বিল্লাহসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করে সংগঠনটি। পরে উভয় পক্ষ থেকেই পাল্টাপাল্টি আহত হওয়ার দাবি করা হয়।
সোমবারের কর্মসূচিতে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়োগ এবং ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের প্রভাব ও হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানায় সচেতন গ্রাহক ফোরাম। ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিকের অভিযোগ, কর্মসূচি শুরুর পর আগে থেকে অবস্থান নেওয়া অবৈধ নিয়োগে চাকরিচ্যুত সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এস আলমের অনুসারীরা গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের ওপর হামলা চালান।
আজকের অবস্থান কর্মসূচিতে ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অশুভ তৎপরতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গ্রাহকরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার করে ব্যাংকের স্বার্থে তা বাজেয়াপ্ত করতে হবে। অবৈধভাবে নেওয়া ঋণ সুবিধার সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
নুর নবী মানিক আরও বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪(খ) ধারা অনুযায়ী এস আলম গ্রুপের অবৈধভাবে ধারণ করা শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে তা বাজারে বিক্রি অথবা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
আইও/