শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
মস্কো সফরে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ১৯০ দেশের মানুষ ব্যবহার করছে মুসলিমদের তৈরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আলফাফা এনসিপির নতুন আহ্বায়ক কমিটিতেও যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ মাহদি দুর্গাপূজায় দেওয়া বক্তব্য নিয়ে ক্ষমা চাইলেন হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান পারস্পরিক দ্বন্দ্ব নয়, সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে: আমিরে মজলিস পার্বত্যাঞ্চলকে অশান্ত করার ষড়যন্ত্র চলছে: জমিয়ত ‘মুসলিম হওয়ার কারণে মানুষকে হেয় করা হচ্ছে, এতে আমি ক্লান্ত’ ‘সাজেকে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি’ ম্যানহাটনে পীর সাহেব চরমোনাইয়ের দোয়া মাহফিল ও জুমাপূর্ব বক্তব্য নতুন প্রজন্মের ঈমান রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে: মাওলানা আরশাদ মাদানি

‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল কুরআন-সুন্নাহবিরোধী, সংশোধন করতে হবে’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামি শরিয়া বিশেষজ্ঞদের মতামত না নিয়ে তড়িঘড়ি করে জাতীয় সংসদে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাস করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। তিনি দাবি করেছেন, নতুন এ আইন কুরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এর মাধ্যমে ইসলামি উত্তরাধিকার আইনের ফারায়েজের বিধান লঙ্ঘনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, মুসলমান-প্রধান এ দেশে আলেম-ওলামাদের মতামত উপেক্ষা করে ইসলামি শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন গ্রহণযোগ্য হবে না। তাই সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ সংশোধন করতে হবে।

তিনি বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল বিলটি সংসদে উত্থাপনের আগে ইসলামি শরিয়া বিশেষজ্ঞদের প্রকাশ্য মতামত গ্রহণ করা। আল্লাহর কিতাব কুরআনের নিজস্ব আইনি কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের মতো করে আইন প্রণয়ন করা শরিয়াহকে অবজ্ঞা করার শামিল।

সংসদে শরিয়াহবিরোধী আইন পাস হলেও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সরকারকে সতর্ক করে হেফাজতের এ নেতা বলেন, ধর্মীয় বিধি-বিধানে হাত দিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিক্ষুব্ধ করা উচিত হবে না। ইসলামি আইনের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

‘জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান’ নামে পিতা-মাতার কাছ থেকে সন্তানদের সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন পদ্ধতির সমালোচনা করে মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, এ পদ্ধতিতে দাতা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করতে পারবেন। দাতার মৃত্যুর আগে গ্রহীতা মারা গেলে সম্পত্তি তার ওয়ারিশদের কাছে চলে যাবে।

তার দাবি, নতুন আইনটি বাহ্যিকভাবে সুন্দর মনে হলেও এর মাধ্যমে একজন বা কয়েকজন উত্তরাধিকারীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া এবং অন্যদের বঞ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে শরিয়াহসম্মত সম্পদ বণ্টননীতি তথা ফারায়েজের বিধান লঙ্ঘিত হবে।

ইসলামি উত্তরাধিকার আইনে কার কতটুকু সম্পত্তি প্রাপ্য, তা কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক বাস্তবতা, পারিবারিক প্রয়োজন বা অন্য কোনো যুক্তির দোহাই দিয়ে আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত মিরাসের বিধানে পরিবর্তন বা সংশোধনের সুযোগ নেই।

ইসলামি উত্তরাধিকারের নির্ধারিত অংশ পাশ কাটানো কিংবা মৃত্যুর পর সম্পত্তির বণ্টন নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করা সম্পূর্ণ অবৈধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিরমিজি শরিফের একটি হাদিস উদ্ধৃত করে মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করেছেন। অতএব কোনো উত্তরাধিকারীর জন্য অসিয়ত নেই।’

তবে দাতার মৃত্যুর পর সব প্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিশ স্বেচ্ছায় ও সম্মতির ভিত্তিতে কোনো বিষয়ে রাজি হলে সেটি ভিন্ন বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, তখন তা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে উত্তরাধিকার বিধান পরিবর্তনের বিষয় থাকে না; বরং ওয়ারিশদের নিজস্ব সম্মতির বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

জীবিত অবস্থায় কোনো ব্যক্তি নিজের সম্পত্তি কন্যাকে হেবা করলেও সম্পত্তিটির ব্যবস্থাপনা, ভোগদখল ও আয় নিজের জন্য সংরক্ষণ এবং মৃত্যুর পর তা কন্যার কাছে হস্তান্তরের শর্ত যুক্ত করলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও দাবি করেন মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।

তিনি বলেন, প্রকৃত হেবা সম্পন্ন হওয়ার অর্থ হলো সম্পত্তি দাতার মালিকানা থেকে সম্পূর্ণ বের হয়ে গ্রহীতার মালিকানায় চলে যাওয়া। দাতা নিজের জন্য আজীবন ভোগদখল বা জীবনস্বত্ব সংরক্ষণ করলে তা হেবার মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ