মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সৌদি আরবে হামলা নিয়ে হুথি কর্মকর্তার প্রশংসা মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি, এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি দেশে ৮,২২৯টি এমপিওভুক্ত মাদরাসা রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আর ‘যথেষ্ট নয়’: কাতার ১০ মাসে হাফেজা হলেন ১৪ বছরের তানজিলা লংমার্চের দাবির সঙ্গে জামায়াত আমিরের সংসদের বক্তব্য দ্বিমুখিতা: পীর সাহেব চরমোনাই খন্দকের যুদ্ধ—ঐক্য, কৌশল ও আল্লাহর সাহায্য সাক্ষরতা বাড়াতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে: ববি হাজ্জাজ মক্কায় মসজিদুল হারামের কাছে হোটেলে অগ্নিকাণ্ড ২০২৭ থেকে হজযাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক

১০ মাসে হাফেজা হলেন ১৪ বছরের তানজিলা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পবিত্র কুরআনের ৩০ পারা হিফজ করতে যেখানে অনেক শিক্ষার্থীর কয়েক বছর সময় লাগে, সেখানে মাত্র ১০ মাসে পুরো কুরআন মুখস্থ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ১৪ বছর বয়সী তানজিলা আক্তার। তার এ সাফল্যে পটুয়াখালীর মহিপুরের বিপিনপুরের জিলাপিতলায় অবস্থিত জামিয়া হযরত ওমর ফারুক (রা.) মাদরাসায় আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তানজিলার এ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ মাদরাসার পক্ষ থেকে তাকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। এ সময় মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তানজিলা আক্তার মহিপুর সদর ইউনিয়নের নিজামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা হাফেজ মো. সালাউদ্দিন হাওলাদার পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। প্রায় ১০ মাস আগে জামিয়া হযরত ওমর ফারুক (রা.) মাদরাসার বালিকা শাখার হিফজখানায় ভর্তি হয় তানজিলা। এরপর নিয়মিত অধ্যবসায়, একাগ্রতা এবং শিক্ষিকাদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে অল্প সময়ের মধ্যেই কুরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করে সে।

সম্মাননা পেয়ে উচ্ছ্বসিত তানজিলা আক্তার বলেন, মাদরাসার শিক্ষিকারা অত্যন্ত যত্ন ও আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করেন। কোনো অংশ কঠিন মনে হলে তারা সহজ করে বুঝিয়ে দিতেন। অল্প সময়ে কুরআন হিফজ করতে পেরে আমি খুবই খুশি। ভবিষ্যতেও নিয়মিত কোরআন পড়তে চাই এবং কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে চাই।

একমাত্র মেয়ের এমন সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা হাফেজ মো. সালাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, ছোটবেলা থেকেই মেয়ের কোরআনের প্রতি আগ্রহ ছিল। হিফজের সময় সে অনেক পরিশ্রম করেছে। কখনো ক্লান্ত হলেও পড়া বন্ধ করেনি। তার এ অর্জন আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি এবং মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞ।

মাদরাসার বালিকা হিফজ শাখার শিক্ষিকা হাফেজা মোসা. মারজিয়া আক্তার বলেন, তানজিলা অত্যন্ত মেধাবী ও মনোযোগী শিক্ষার্থী। নতুন সবক মুখস্থ করার পাশাপাশি পুরোনো পড়া ধরে রাখার ক্ষেত্রেও তার আন্তরিকতা ছিল। অনেক সময় দেখা যেত, অন্যরা বিশ্রাম নিলেও তানজিলা কোরআন মাজিদ নিয়ে মগ্ন থাকত। নিয়মিত অনুশীলন ও আমাদের নির্দেশনা মেনে চলার কারণেই অল্প সময়ে সে হিফজ সম্পন্ন করতে পেরেছে।

তিনি আরও বলেন, মাত্র ১০ মাসে হিফজ শেষ করা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এটি মহান আল্লাহর রহমত এবং তানজিলার কঠোর পরিশ্রমের ফল।

স্থানীয় আলেম ও ব্যবসায়ী হাফেজ মো. মতিন বলেন, কুরআন হিফজ করা অত্যন্ত মর্যাদার বিষয়। তবে শুধু কোরআন মুখস্থ করাই শেষ কথা নয়; এর অর্থ ও শিক্ষা অনুধাবন করে সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করাই প্রকৃত সাফল্য। তানজিলার জন্য আমাদের দোয়া ও শুভকামনা রইল।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এলাকায় এমন একটি মাদরাসা রয়েছে, যেখান থেকে মাত্র ১০ মাসে একজন মেয়ে হাফেজা হয়েছে। এর আগে একই মাদরাসার বালক শাখা থেকে মাত্র আট মাসে একজন ছাত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেছে। এটি নিঃসন্দেহে পুরো মহিপুরবাসীর জন্য গর্বের।

জামিয়া হযরত ওমর ফারুক (রা.) মাদরাসার মুহতামিম মুফতি আবুল কালাম আজাদী বলেন, ‘একজন ছাত্রীর জন্য কুরআনুল কারিমের ৩০ পারা মুখস্থ করা নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। মাত্র ১০ মাসে হিফজ সম্পন্ন করে তানজিলা প্রমাণ করেছে, সদিচ্ছা, কঠোর পরিশ্রম ও উপযুক্ত পরিবেশ থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব।’

দোয়া ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাদরাসার উপদেষ্টা হাফেজ আব্দুল বারেক, প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল খালেক কবিরাজ, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মোস্তফা সরদার, সিনিয়র সহ-সভাপতি কিরণ হাওলাদার, সহ-সভাপতি মোশাররফ মুসুল্লি, নাজিমে তালিমাত হাফেজ মো. হারুন হাওলাদারসহ শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ