নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন ইসলামি বইমেলায় লিটলম্যাগ কর্নারের জন্য স্টল বরাদ্দ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ তরুণ লেখক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিকর্মীদের একটি অংশ। মেলা কর্তৃপক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, সিদ্ধান্ত জানাতে বিলম্ব ও মেলা কমিটির একটি অংশের আপত্তিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘লিটলম্যাগ আন্দোলন, বাংলাদেশ’।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে লিটলম্যাগ আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসলামি বইমেলায় লিটলম্যাগ কর্নার বরাদ্দের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। সর্বশেষ বুধবার মেলা কমিটির বৈঠকের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর প্রত্যাশা থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। পরে যোগাযোগ করা হলে কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যায়।
মেলা কমিটির সদস্য দেওয়ান মো. মাহমুদুল ইসলাম তুষার বলেন, ফাউন্ডেশন বিষয়টি যথাযথভাবে অনুধাবন করতে পারেনি, চিঠির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। অন্যদিকে কমিটির আরেক সদস্য আহমদ রফিক জানান, ফাউন্ডেশনই লিটলম্যাগ কর্নার বরাদ্দে অপারগতা প্রকাশ করেছে।
তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক রেজ্জাকুল হায়দারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মেলা কমিটির প্রকাশক সদস্যদের একটি অংশ লিটলম্যাগ আন্দোলনের বিষয়ে ‘ক্লিয়ারেন্স’ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিগত বছরের কিছু ঘটনাকে সামনে এনে ওই অংশ আপত্তি জানিয়েছে এবং লিটলম্যাগ কর্নার বরাদ্দ দেওয়া হলে বইমেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে মত দিয়েছে।
লিটলম্যাগ আন্দোলনের দাবি, তাদের সঙ্গে যুক্ত তরুণদের একটি বড় অংশ মূলধারার কওমি শিক্ষাব্যবস্থা থেকে উঠে আসা। ইসলামি সাহিত্য, গবেষণা, ইতিহাস ও সমকালীন চিন্তাচর্চায় নতুন ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন তারা। ইসলামি বইমেলার পরিসর থেকে বেরিয়ে যাওয়া নয়, বরং এর ভেতরেই নতুন প্রজন্মের লেখক ও চিন্তকদের তুলে ধরাই তাদের উদ্দেশ্য বলে দাবি সংগঠনটির।
বিগত বছরের বইমেলায় লিটলম্যাগ চত্বরে বিভিন্ন মত ও পথের মানুষের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেছে আন্দোলনটি। তাদের অভিযোগ, ওই ঘটনায় লিটলম্যাগ আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের উপস্থিতির জের ধরে লিটলম্যাগ কর্নারে আলো নিভিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। তবে আন্দোলনটির দাবি, ওই ঘটনায় তারা আক্রান্ত পক্ষ ছিল, অভিযুক্ত পক্ষ নয়।
লিটলম্যাগ আন্দোলন বলছে, মতের ভিন্নতা কোনো সাহিত্যিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্যোগকে বন্ধ করে দেওয়ার কারণ হতে পারে না। ইসলামি বইমেলাকে শুধু বই বিক্রির স্থান নয়, ইসলামি সাহিত্য, চিন্তা ও সংস্কৃতির বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
এক বিবৃতিতে সংগঠনটি লিটলম্যাগ কর্নারের জন্য স্বাধীনভাবে স্টল বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় লেখক, সংস্কৃতিকর্মী ও লিটলম্যাগ আন্দোলনের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানায় সংগঠনটি।
আইও/