বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেছেন, হজরত মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) ছিলেন মুসলমানদের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক রাহবার। তিনি আজীবন দ্বীনের প্রচার-প্রসার, ইসলামী শিক্ষা বিস্তার এবং দেশে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে কিশোরগঞ্জের আখড়াবাজার ব্রিজ সংলগ্ন শাপলা মঞ্চে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত ‘হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) ছিলেন হাজারো আলেম-উলামার উস্তাদ। তিনি অসংখ্য মসজিদ, মাদরাসা ও খানকাহ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামের খেদমতে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পর ১৯৮১ সালের ২৯ নভেম্বর বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) দেশে খেলাফতভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সে আন্দোলন চালিয়ে যান। তিনি মুসলমানদের এমন রাজনৈতিক চেতনা দিয়ে গেছেন, যার মাধ্যমে দ্বীন ও রাজনীতির সমন্বয়ের শিক্ষা পাওয়া যায়।
কিশোরগঞ্জ ঐতিহাসিক শহীদি মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আনজার শাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা সাইদুর রহমান ও মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী।
মাওলানা সাইদুর রহমান বলেন, হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর রাজনৈতিক দর্শন ও ইসলামী চিন্তাধারাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। তিনি জাতিকে গুনাহ থেকে তওবা করে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, স্বাধীনতার পর বহুবার ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও জনগণ কাঙ্ক্ষিত শান্তি পায়নি। কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হলে সমাজে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর আমির মাওলানা মাহবুবুর রহমান, কিশোরগঞ্জ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন আলম আকন্দ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, জেলা প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা আতাউল্লাহ, মাওলানা আলমগীর হোসাইনী ও মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আনজার শাহ বলেন, রাজনীতিকে ইবাদতে পরিণত করতে হলে আদর্শভিত্তিক দ্বীনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
জেডএম/