মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬ ।। ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
মাদরাসা শিক্ষার কারিকুলাম যুগোপযোগী ও কর্মসংস্থানমুখী করার উদ্যোগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ছেলেদের জন্যও উপবৃত্তির ভাবনা সরকারের বাইতুল মোকাররম প্রতিষ্ঠায় শামসুল হক ফরিদপুরীর অনন্য অবদান হেরা গুহার নিঃসঙ্গ ভাবনা বুলবুল হত্যা: সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে ওসির সঙ্গে ইসলামী যুব আন্দোলনের সাক্ষাৎ দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি ঢাকা মেডিকেল এলাকার আশপাশ যেন গাঁজাখোর জোন: কে এম শরীয়তুল্লাহ জামেয়া দ্বীনিয়া দারুল আবরার মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা হেলাল উদ্দিন আফতাবি-র ইন্তেকাল ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমীরে মজলিসের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ২৩২

কুরআনের পথে চললেই বদলে যাবে দেশ: আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমান বিশ্বের প্রখ্যাত আলেম ও আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্কলার আল্লামা ড. খলীলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানী বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম আদর্শ ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে ঐক্য, ন্যায়, নিরাপত্তা, কুরআনের শিক্ষা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, আপনারা সবাই মিলে এই দেশটিকে এমনভাবে গড়ে তুলুন, যেন বাংলাদেশ সারা বিশ্বের জন্য একটি আদর্শ ও অনুসরণীয় রাষ্ট্রে পরিণত হয়। কুরআনের পথে চললেই বাংলাদেশ বদলে যাবে বলে জানান তিনি।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজের আগে গুরুত্বপূর্ণ বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।

বয়ানের শুরুতে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও মহানবী (সা.)-এর প্রতি দরূদ পেশ করে বায়তুল মোকাররমের মতো ঐতিহাসিক মসজিদে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, বায়তুল মোকাররমের খতিব এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আল্লামা নোমানী সুরা আন-নাহলের ১১২ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করে বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য দুটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের প্রতিটি মানুষের খাদ্যের নিশ্চয়তা দেওয়া। এমন রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত থাকবে না এবং কেউ অভুক্ত থাকবে না।

তিনি হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সেই ঐতিহাসিক দোয়ার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন, যা তিনি একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জনপদের জন্য আল্লাহর কাছে করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি সূরা ইবরাহিমের ৩৫ নম্বর আয়াতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বাংলাদেশের জনগণের উদ্দেশে আল্লামা নোমানী বলেন, আল্লাহ তাআলা এ দেশকে অসংখ্য নিয়ামতে সমৃদ্ধ করেছেন। এই নিয়ামতের যথাযথ শুকরিয়া আদায় করতে পারলে আল্লাহ আরও কল্যাণ ও সমৃদ্ধি দান করবেন। তিনি এ প্রসঙ্গে সূরা ইবরাহিমের ৭ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করেন।

দেশের আলেম-উলামা, শিক্ষাবিদ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেশাজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারবে।

রাজনীতিবিদ, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনজীবী এবং সর্বস্তরের মুসলিম নারী-পুরুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন অন্তত কয়েকটি আয়াত হলেও অর্থ-অনুবাদসহ কুরআন অধ্যয়ন করা উচিত। কুরআনের শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার পথনির্দেশনা দেয়।

তিনি জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিভেদ ও অনৈক্য থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে এবং শয়তানের প্ররোচনায় বিভক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে আলেম-উলামার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আল্লামা নোমানী বলেন, একটি আদর্শ সমাজ গঠনের সূচনা হতে হবে প্রতিবেশীর অধিকার আদায়ের মাধ্যমে। প্রত্যেকের উচিত প্রতিবেশীর সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং নিজের কারণে যেন কারও কোনো ক্ষতি বা কষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকা।

তিনি সরকারি সম্পদ রক্ষা, অকারণে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ থেকে বিরত থাকা, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এমন কর্মকাণ্ড এড়িয়ে চলা, পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বজায় রাখা, নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করা এবং মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

বয়ানের শেষদিকে সমাজসেবা ও প্রতিবেশীর অধিকার বাস্তবায়ন নিয়ে নিজের কিছু অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি দেশ ও জাতির ঈমান, আমল, শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

পরে জুমার নামাজ শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালিকের অনুরোধে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন আল্লামা ড. খলীলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানী।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ