নিজস্ব প্রতিবেদক:
সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় ১৫ পারা গ্রুপে ১ম স্থান অর্জনকারী হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া এবং ৩০ পারা গ্রুপে ৩য় স্থান অর্জনকারী হাফেজ মাহমুদুল হাসান আশরাফীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর।
রোববার (২৫ আগস্ট) মাগরিবের পর রামপুরার চৌধুরীপাড়ায় আওয়ার ইসলাম অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশ্বজয়ী দুই হাফেজকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ার ইসলাম সম্পাদক মুফতি হুমায়ুন আইয়ুব, আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি আব্দুল কাইয়ুম মোল্লা, মারকাজুল মদিনা, সাইনবোর্ড, ঢাকার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মইনুদ্দিন; মারকাজুল ফুরকান শিক্ষা পরিবারের প্রিন্সিপাল হাফেজ মোশারফ হোসেন মাহমুদ; ফাতিমাতুযযাহরা (রা.) মহিলা মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মাহমুদ জাকির প্রমুখ।
আওয়ার ইসলাম সম্পাদক মুফতি হুমায়ুন আইয়ুব বলেন, আমরা পূর্বেও বিশ্বজয়ী হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিমকে আওয়ার ইসলামের একদিনের সম্পাদক বানিয়েছিলাম এবং হাফেজ আবু রায়হানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছি। সেই ধারাবাহিকতায় আজকেও আমরা বিশ্বজয়ী দুই হাফেজকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, বিশ্বজয়ী হাফেজরা আলেম হতে না পারার একটা আক্ষেপ বড়দের মধ্যে রয়েছে। আমি এই দুই হাফেজকে বলব, পৃথিবীতে জয়-পরাজয়, টাকা-সম্পদের মোহ আছে, কিন্তু ইলমের নুরের মতো পৃথিবীতে আর কিছু নেই। তারা যেন ইলম অর্জন থেকে বিরত না হয় সেই আহ্বান জানান তিনি।
হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া নিজের বিশ্বজয়ী হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ওস্তাদ, ছাত্র এবং পরিবারের দোয়ায় বিশ্বজয়ী হয়েছি। সকলের কাছে দোয়া চাই, আল্লাহ তায়ালা যেন আমাকে কবুল করেন। তিনি প্রতিযোগিতার কথা স্মরণ করে বলেন, সেখানে যাওয়ার পর প্রথম প্রথম ভয় লাগলেও ফাইনালে ওঠার পর তা কেটে গেছে।
হাফেজ মাহমুদুল হাসান আশরাফী বলেন, কোরআন শিখতে পেরেছি, এটাই আমার অনেক বড় পাওয়া। এটা আমার তৃতীয় বিজয়, এর আগেও আমি ইরানে প্রথম হয়েছি। ওস্তাদদের দোয়ায় আল্লাহ তাআলা আমাকে কবুল করেছেন।

মুফতি আব্দুল কাইয়ুম মোল্লা বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে মাদরাসার বিরুদ্ধে একটা ন্যারেটিভ সৃষ্টি হয়েছিল, আমি মনে করি এই বিজয়ের মাধ্যমে এই ন্যারেটিভ আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বজয়ের ধারাবাহিকতা শুরু হওয়ার পর সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সচিব পর্যন্ত তাদের সন্তানদের হাফেজ বানাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
তিনি প্রতিযোগিতার কথা স্মরণ করে বলেন, আপনারা জানলে অবাক হবেন, সেখানে সব দেশের প্রতিযোগীরা সৌদি আরবে এসে বাংলাদেশী প্রতিযোগীদের খুঁজছিল। কারণ, বাংলাদেশী প্রতিযোগী আসা মানেই তাদের সঙ্গে হাড্ডহাড্ডি লড়াই হবে। তারা কোনো ভুল করলে আমরা জিতব, না হয় তারাই বিজয়ী হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা মোট ৪ জন প্রতিযোগীকে নিয়ে গিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, প্রত্যেকেই বিশ্বজয়ী হয়েছে।
আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা তুলে ধরে মুফতি আব্দুল কাইয়ুম মোল্লা বলেন, শারীরিক শাসনমুক্ত, ভয়মুক্ত মাদরাসা গড়ে তুলতে চাই। বিশ্বজয়ী হাফেজ তৈরি করতে চাই।
আইও/