বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ১ রমজান ১৪৪৭


বিএনপির সমর্থন পেয়েও কেন হারলেন জমিয়ত নেতারা?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

||বিশেষ প্রতিনিধি||

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জয়জয়কার। ভূমিধস জয় নিয়ে প্রায় ২০ বছর পর ক্ষমতায় ফিরছে দলটি। তবে এই জোয়ারের মধ্যেও দলটির সমর্থন পাওয়া মিত্রদের অনেকেই ভোটের মাঠে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের চারজন প্রার্থীও। বিএনপির সমর্থন পাওয়ার পরও তারা জয়ের দেখা পাননি। বিষয়টি নিয়ে ঘরে-বাইরে চলছে নানা আলোচনা।

এবারের নির্বাচনে জোট-পাল্টা জোটের খেলা হয়েছে। তবে শুরু থেকেই জমিয়ত ঘোষণা দিয়ে বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে। দলটি দেশের বেশির ভাগ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা হওয়ার পর তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়। বিএনপি চারটি আসনে তাদের ছাড় দেয়। বাকি সব আসনে বিএনপির পক্ষে কাজ করেন জমিয়তের নেতাকর্মীরা।

বিএনপি থেকে ছাড় পাওয়া চারটি আসনের মধ্যে সিলেট-৫ থেকে দলের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, নীলফামারী-১ থেকে মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুর ইসলাম আফেন্দী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ থেকে দলের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে চারজনের কেউই বিজয়ী হতে পারেননি। ফলে ইসলামি কয়েকটি দল এবার নতুন করে সংসদে গেলেও জমিয়তের কোনো প্রতিনিধিত্ব থাকছে না আইন সভায়।

জমিয়তের প্রার্থীরা কেন পরাজিত হলেন সেটা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। পরাজয়ের পেছনে নানা কারণ থাকলেও অন্তত তিনজনের পরাজয়ের পেছনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন। ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, বিএনপিকে যেখানে ২৯৫টি আসনে সহযোগিতা করেছে দলটি, সেখানে চারটি আসনে বিএনপি কি চাইলে বিদ্রোহীদের থামিয়ে শরিকদের বিজয়ী করে আনতে পারতো না! কোনো কোনো শরিকের ক্ষেত্রে এমনটা করেছেও বিএনপি। যেমন আন্দালিব রহমান পার্থ কিংবা জুনায়েদ সাকির আসনে বিদ্রোহীদের না থামালে তাদের পক্ষে বিজয়ী হয়ে আসা কঠিন হতো। যদিও দলের বিদ্রোহীদের কারণে অন্তত ২১টি আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীরাই পরাজিত হয়েছেন। বহিষ্কারসহ নানা চাপেও তাদের দমানো যায়নি।

সিলেট-৫ আসনে জমিয়ত সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহকে পরাজিত করেছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদ ওরফে চাকসু মামুন। তিনি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের নিকটাত্মীয় হওয়ার পরও ছাড় দেনি। বিএনপির ভোট তাদের মধ্যে কাটাকাটি হওয়ার কারণে এখানে বিজয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিস প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান।

এই আসনে মুফতি আবুল হাসান দেয়ালঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮২১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক খেজুরগাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৬৪৪ ভোট। আর তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন)। ফুটবল প্রতীকে তার প্রাপ্ত ভোট ৫৬ হাজার ৩৬৯। এখানে উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং চাকসু মামুনের ভোট একসঙ্গে করলে খেজুরগাছ বিজয়ী হয়ে যেতো।

নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনটি অবশ্য জামায়াত অধ্যুষিত। এখানে বিদ্রোহী না থাকলেও কূলিয়ে উঠতে পারেননি মাওলানা আফেন্দী। এই আসনে ১ লাখ ৫০ হাজার ৮২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী মো. আবদুস সাত্তার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি–সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের খেজুরগাছের প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ ভোট। এই আসনে গণভোটের ফলাফল ‘হ্যাঁ’ ভোট ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৮৫।

এবারের নির্বাচনে বেশ আলোচিত আসন ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২। এখানে বিএনপির আলোচিত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবের বিপরীতে প্রার্থী হন। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার পরও তাকে দমানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়েছেন রুমিন ফারহানাই। হাঁস প্রতীক নিয়ে রুমিন ফারহানা পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট। তার নিকটবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব খেজুরগাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯২৭ ভোট। প্রায় ৩৭ হাজার ভোটে পরাজিত হন। এখানে জামায়াত জোট থেকে প্রার্থী ছিলেন এনসিপির মাওলানা আশরাফ উদ্দীন মাহদী। তিনি উল্লেখযোগ্য ভোট পাননি। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে এখানে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব অনায়াসে উঠে আসতে পারতেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে কুপোকাত হয়েছেন। এই আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী পেয়েছেন ৮০ হাজার ৬১৯ ভোট। বিএনপির সাবেক এমপিসহ একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী যে ভোট কেটেছেন তা একসঙ্গে করলে তিনিও জয়ের দেখা পেতেন।

এদিকে জমিয়তের আরেক গ্রুপের প্রার্থী মাওলানা রশীদ বিন ওয়াক্কাসও যশোর-৫ আসনে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছেন।সাবেক এমপি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের ছেলে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেও জয়ের দেখা পাননি। তার পরাজয়ের পেছনেও ভূমিকা রেখেছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দ্বিতীয় এবং রশীদ বিন ওয়াক্কাস হয়েছেন তৃতীয়। বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ