তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার ও আমাদের সমাজ
জানুয়ারি ১০, ২০২৩ ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

মুফতি আব্দুল হামিদ ।।

বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতির কারণে আজ তথ্য ও প্রযুক্তির যথেষ্ট অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের ফলে মানুষ যেমন উন্নতির স্বর্ণ শিখরে আরোহণ করেছে তেমনি তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে নিজেদেরকে ধ্বংশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যবহারে মানুষের জীবনের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় চলমান। এটি ছাড়া একটি দিন অতিবাহিত হয় না আমাদের। গবেষণার প্রান্তে আলোচিত হয়েছে বর্তমানে শতে অন্তত ৬৪ জন প্রতিদিন গড়ে ৪ ঘন্টা করে কোন না কোন প্রযুক্তি নির্ভর স্কিনের সামনে সময় ব্যয় করে। অর্থাৎ বিভিন্ন ধরনের ভিডিও ইত্যাদি দেখে। এই অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে আমরাই এটিকে আমাদের নানাবিধ ক্ষতির কারণে পরিণত করেছি।

ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নিজের সকল পরিচয় গোপন রাখতে পারে বলে কাউকে হুমকি দেওয়া , মিথ্যা সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, অথবা প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য ব্যক্তিগত অন্তরঙ্গ মুহূর্তের দৃশ্য ধারণ করে বিভিন্ন অনলাইন সাইট ছড়িয়ে দেওয়া এসব কাজ অনায়াসে সম্ভব হয়।

তথ্যপ্রযুক্তি হলো তত্ত্ব পরিচালনা ও বিতরণের জন্য কম্পিউটার সিস্টেম সফটওয়্যার এবং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিকাশ রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি সম্পর্কিত ব্যবহার হল তথ্যপ্রযুক্তি বা ইনফরমেশন টেকনোলজি আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি কিছু অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও জ্ঞানহীন মানুষের হাতে আক্রান্ত অপরাধের একটা বড় অংশ এইসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়। মানুষের আবেগ ও অনুভূতিতে আঘাত আনার মাধ্যম হিসেবে এখন ব্যবহার করা হচ্ছে।

আর এই মূল্যবোধহীন মানুষরা এগুলোকে তাদের আয়েশের বস্তু বানিয়ে ফেলছে। দেশের ব্যবহৃত ইন্টারনেটের অর্ধেকের বেশি ব্যয় হচ্ছে পর্নোগ্রাফিক ও বিভিন্ন অনলাইন গেমস, টিক টক , ও লাইকি এর মত অ্যাপসে। শহর ভাই স্কুলের ৬০ শতাংশ ছেলেমেয়ে আজ পর্ণোগ্রাফি আসক্ত হয়েছে।

আর এই পর্নোগ্রাফিতে মাত্রাতিক্ত আসক্তি তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারের ফল। তাই সন্তানের হাতে বড় বড় উন্নত মোবাইল বা ট্যাব দেওয়ার আগে একটু ভাবুন , সে এর নিরাপদ ব্যবহার করতে পারবে কিনা। তা না হলে নতুন প্রজন্মের মেধার অপচয় ঠেকানো যাবে না। তার সাথে তাল মিলিয়ে বেড়ে যাবে আরো বিভিন্ন অপরাধ। ফলে নতুন প্রজন্ম শারীরিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি মানসিক অবক্ষয়ের শিকার হচ্ছে। বিশ্বে প্রতিদিন ৭০০ মানুষ আত্মহত্যা করছে শুধু তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারের শিকার হয়ে। পাশাপাশি এটি বর্তমান প্রজন্মকে নেশাগ্রস্থ করছে। ফলে প্রজন্ম বইমুখী না হয়ে সময় দিচ্ছে ফেসবুকে, মোবাইলে, ও ইন্টারনেটে স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই সর্বনাশা আন্তর্জাতিক চক্রান্ত থেকে বাঁচানোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

২০২০ সালে সিটি সাইবার ক্রাইম ইন্ডাস্ট্রিগেশনের এক পরিসংখ্যান তথ্য হতে জানা যায় ১৮বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে ৭%,১৯থেকে ২৫ বছর বয়সী ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ৩৪%,২৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে ৩৬%, ৩৬ থেকে ৫৫ বছর বয়সে নারী পুরুষের মধ্যে ২০%, এবং ৫৫ থেকে বেশি বয়সী নারী ও পুরুষের মধ্যে ৩%, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে নানান রকম অপবাদ ও কর্মকান্ডে জড়িত হচ্ছে। বিভিন্ন অনলাইন গেমস যেমন ফ্রী ফায়ার পাবজি এজাতীয় অনলাইন গেমস ও অনলাইন সাইটগুলো যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে নানা রকম মানুষ তাদের অভিযোগ করে যায়। ফলে দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমান সময়ে দেশে ব্যবহার হচ্ছে ২৬০০জি বি পি এস এর ৫০ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে টিক টক, লাইকি, ফ্রী ফায়ার পাবজি অনলাইন গেমস, পরনোগ্রাফি দেখার জন্য যা খুবই দুঃখজনক।

ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারে আজ কাল পরকীয়া সহ নানা রকম অসামাজিক কার্যক্রম ও সাইবার অপরাধ দিন দিন যেনো বেড়েই চলছে, এবং লেখা পড়ায় অমনোযোগিতা দেখা দিচ্ছে। অন্যায় অনাচার অমানবিক কার্যকালাপ দিন দিন বেড়েই চলচে। তাই আমাদের জন্য জরুরি হলো উল্লিখিত সাইট গুলো বন্ধ করা, এবং প্রবেশ অধিকার রোধ করা।আর এগুলো কার্যকর হলে ফিরে পাব আমরা সোনালী যুগের সোনালী কিশোর কিশোরী।যুবক যবতী। সমাজের প্রতিটি সেক্টরের মানুষকে উদ্ভাসিত আলোর দিকে। অন্যথায় অচিরেই আমাদেরকে গ্রাস করে ফেলবে পাপাচারের আধার। তাই আমাদের সকলেরই সতর্ক হওয়া উচিত যেন আমাদের আদরের সন্তানরা এমন বিপদ গামী পথে চলে না যায়। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে হিদায়াতের আলোর দিকে পথপদর্শন করে পরিপূর্ণ সফলতা দান করোন। আমীন।

-এটি