সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


নবি যুগে যেসব খেলাধুলা করা হতো

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: বিভিন্ন হাদিসের আলোকে প্রমাণিত হয় যে খেলাধুলা ইসলামে বৈধ এবং ক্ষেত্রবিশেষে তা প্রশংসিত ও পছন্দনীয়। তবে খেলাধুলার উন্মাদনায় বুঁদ হয়ে আল্লাহ-রাসুল, নামাজ-রোজা, ইবাদত-বন্দেগি ও পরকালকে বেমালুম ভুলে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। এ ব্যাপারে আছে বিশেষ সতর্কবাণী ও কঠিন শাস্তির ঘোষণা।

কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘এক শ্রেণির মানুষ এমন আছে, যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশ্যে ‘লাহওয়াল হাদিস’ তথা অবান্তর কথাবার্তা ক্রয় করে অন্ধভাবে এবং তা নিয়ে করে ঠাট্টা-বিদ্রুপ। এদের জন্য আছে অবমাননাকর শাস্তি।’ (সুরা লুকমান, আয়াত: ৬)

রাসুলুল্লাহ সা. মুমিনদের উপকারী শরীরচর্চা ও বৈধ বিনোদনের অনুমতি দিয়েছেন। বিশেষত যেসব খেলাধুলা ও শরীরচর্চা মুমিনের ব্যক্তিগত উপকার ও সমাজের কল্যাণ আছে তার অবকাশ ইসলামে আছে।

ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা

রাসুলুল্লাহ সা. স্বয়ং ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেন। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতা করিয়েছেন। এই প্রতিযোগিতা হাফয়া থেকে শুরু হয়ে সানিয়্যাতুল বিদায় শেষ হতো।

বর্ণনাকারী বলেন, আমি মুসা (রা.)-কে বললাম, এর দূরত্ব কী পরিমাণ হবে? তিনি বললেন, ছয় বা সাত মাইল। আর প্রশিক্ষণহীন ঘোড়ার প্রতিযোগিতা শুরু হতো সানিয়্যাতুল বিদা থেকে এবং শেষ হতো বনু জুরাইকের মসজিদে। আমি বললাম, এর মধ্যে দূরত্ব কত? তিনি বললেন, এক মাইল বা তার তদ্রুপ। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-ও এই প্রতিযোগীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৮৭০)

তীর নিক্ষেপ

রাসুলুল্লাহ সা. তীর নিক্ষেপকে উৎসাহিত করে বলেন, ‘আল্লাহ একটি তীরের অসিলায় তিনজন লোককে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন—তীর নির্মাতা যে নির্মাণকালে কল্যাণের আশা করেছে, এই তীর নিক্ষেপকারী এবং তা নিক্ষেপে সাহায্যকারী। তিনি আরো বলেন, তোমরা তীরন্দাজি কোরো ও ঘোড়দৌড় শিক্ষা করো। তবে তোমাদের ঘোড়দৌড় শেখার তুলনায় তীরন্দাজি শেখা আমার কাছে বেশি পছন্দনীয়। ’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৬৩৭)

মল্লযুদ্ধ

ইসলামের সোনালি যুগে প্রচলিত একটি খেলা ছিল মল্লযুদ্ধ। এমনকি দ্বিন প্রচারের স্বার্থে মহানবী (সা.) নিজেও একবার মল্লযুদ্ধে অংশ নেন।

মক্কার একজন বিখ্যাত মল্লযোদ্ধা ছিল রুকানা বিন ইয়াজিদ। একদিন মহানবী সা. তাঁকে দ্বিনের দাওয়াত দিলে সে তা প্রত্যাখ্যান করে। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বলেন, আমি যদি মল্লযুদ্ধে তোমাকে পরাজিত করি, তবে কি তুমি আল্লাহর ওপর ঈমান আনবে? রুকানা তাতে সম্মত হলো। অতঃপর মহানবী (সা.) তাঁকে মল্লযুদ্ধে পরাজিত করেন। (সিরাতে ইবনে হিশাম : ১/৩৯০)

হাঁটার প্রতিযোগিতা

দ্বিনের দাওয়াত, যুদ্ধের অভিযান ও জীবিকার অনুসন্ধানে বের হà¦