সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৮ পৌষ ১৪৩২ ।। ২৩ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
কায়কোবাদকে ফের সংসদে দেখতে চায় মুরাদনগর উপজেলা জমিয়ত ‘তিন ভাই মিলে খুন করলেন কেন?’ বিস্মিত বিচারকের প্রশ্ন ‘মোশাররফ ঠাকুরের বক্তব্য অবমাননাকর, তাকে ক্ষমা চাইতে হবে’ নানুপুর মাদরাসার খতমে বুখারি ও দোয়া মাহফিল ১৬ জানুয়ারি ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল পিকআপ ভ্যান, দুই ভাইসহ নিহত ৩ ‘নিকাব নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে মোশাররফ ঠাকুরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে’ ভারতে পৌঁছালেন তালেবান-নিযুক্ত প্রথম কূটনীতিক, দিল্লি দূতাবাসে তোড়জোড় জামায়াত-শিবির কখনো ইসলামি দল হতে পারে না: সিরাত সম্মেলনে বক্তারা প্রার্থিতা ফিরে পেলেন রিকশা প্রতীকের আরও তিন প্রার্থী এলপিজি আমদানি নিয়ে বড় সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ঈদের নামাজের নিয়ম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি মোজ্জাম্মেল হক রহমানী॥

ঈদের নামাজ দ্বীনের অন্যতম ঐতিহ্য। ঈদের নামাজের উদ্দেশ্য হচ্ছে, মুসলমানদের শক্তি-সামর্থ্য ও গৌরব-মহিমা প্রকাশ করা। ঈদের নামাজ মূলত মুসলমানরা তাদের দুটি ধর্মীয় উৎসবের দিন আদায় করে থাকেন। সাধারণত এটি বরাদ্দকৃত কোন খোলা জায়গা (ঈদগাহ) অথবা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। আর এটিই সুন্নত।

এতে অত্যাধিক মুসলমান ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারে। ঈদের নামাজ জামাতে পড়া শর্ত। একাকী ঈদের নামাজ পড়া বৈধ নয়। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজের পদ্ধতি একই। ঈদের নামাজের জন্য কোনো আজান বা ইকামাত নেই।

মুসলিম উম্মাহ প্রতি বছর দু'টি ঈদ উদযাপন করে। ঈদের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। বছরে দুই বার ঈদের নামাজ পড়ার কারণে অনেকেই নামাজ পড়ার নিয়ম ভুলে যান। তাই ঈদের নামাজের নিয়ম তুলে ধরা হলো—

প্রথম রাকাত

প্রথমে অতিরিক্ত ছয় তাকবির দিয়ে ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ত করবে। অতঃপর তাহরিমার জন্য আল্লাহু আকবার বলে নাভির নিচে হাত বাঁধবে এবং ছানা পড়বে। অতঃপর অতিরিক্ত তিনটি তাকবির বলবে।

প্রথম তাকবির
কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে আল্লাহু আকবার বলে হাত ছেড়ে দিবে, বাঁধবে না এবং কোনো কিছু পড়বেও না, তিন তাসবিহ পরিমাণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকবে।

দ্বিতীয় তাকবির
কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে আল্লাহু আকবার বলে হাত ছেড়ে দিবে, বাঁধবে না এবং কোনো কিছু পড়বেও না, তিন তাসবিহ পরিমাণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকবে।

তৃতীয় তাকবির
কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে আল্লাহু আকবার বলে নাভির নিচে হাত বাঁধবে, ইমাম সাহেব আউযুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ পড়ে, সূরা ফাতেহা পাঠ করবে এবং এর সঙ্গে অন্য যেকোনো একটি সূরা মিলাবে। মুক্তাদিরা মনোযোগ সহকারে ইমাম সাহেবের কেরাত শ্রবণ করবে, কোনো কিছু পাঠ করবে না। অতঃপর অন্যান্য নামাজের ন্যায় রুকু-সিজদা করে, প্রথম রাকাত পূর্ণ করে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবে।

দ্বিতীয় রাকাত

ইমাম সাহেব দ্বিতীয় রাকাতের জন্য সূরা ফাতেহা পাঠ করবে এবং এর সঙ্গে অন্য যেকোনো একটি সূরা মিলাবে, মুক্তাদিরা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করবে, কোনো কিছু পাঠ করবে না। অতঃপর অতিরিক্ত তিনটি তাকবির দিবে।

প্রথম তাকবীর
কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে 'আল্লাহু আকবার' বলে হাত ছেড়ে দিবে, বাঁধবে না এবং কোনো কিছু পড়বে না, তিন তাসবিহ পরিমাণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকবে।

দ্বিতীয় তাকবির
কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে 'আল্লাহু আকবার' বলে হাত ছেড়ে দিবে, বাঁধবে না এবং কোন কিছু পড়বে না, তিন তাসবিহ পরিমাণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকবে।

তৃতীয় তাকবর
কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে 'আল্লাহু আকবার' বলে হাত ছেড়ে দিবে, বাঁধবে না এবং কোন কিছু পড়বে না, তিন তাসবিহ পরিমাণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকবে।

অতঃপর 'আল্লাহু আকবার' বলে রুকুতে যাবে, হাত উঠাবে না। এভাবে রুকু-সেজদা করে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করবে। তারপর ঈদের নামাজ পড়ার পর ইমাম খুতবা দেবে আর মুসল্লিরা মনোযোগের সঙ্গে শুনবে।

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথ নিয়মে ঈদের নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: সিনিয়র শিক্ষক, মদিনাতুল উলুম মাদরাসা বসুন্ধরা, ঢাকা।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ