শিরোনাম :
বিশ্বজুড়ে আলোচিত-সমালোচিত কে এই শায়েখ আদেল কালবানী?
নভেম্বর ২৩, ২০২১ ২:০১ অপরাহ্ণ

।।কাউসার লাবীব।।

শায়েখ আদেল কালবানী। তার পুরো নাম শায়েখ আদিল বিন সেলিম বিন সাইদ আল কালবানি আবু আবদুল্লাহ। রিয়াদের বাদশাহ খালিদ মসজিদের ইমাম ও খতিব এবং মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ মাসজিদুল হারামের খণ্ডকালীন সাবেক ইমাম। তিনি রমজান মাসে ১৪২৯ হিজরিতে তারাবীহ নামাজে ইবাদতকারীদের নেতৃত্বের দায়িত্ব পান।

তিনি ৩ এপ্রিল ১৯৫৯ খৃষ্টাব্দ মোতাবেক ১৩৭৮ হিজরির ২৫ শে রমজান জুমাবার জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রস আল খাইমাহ থেকে আগত একজন দরিদ্র অভিবাসীর পুত্র। যিনি ১৯৫০ এর দশকে সৌদি আরব এসেছিলেন। তাঁর বাবা সরকারী ক্লার্কের কাজ করতেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থার কারণে তিনি উচ্চ বিদ্যালয় শেষ করে সৌদি আরব এয়ারলাইন্সে চাকরী নিয়েছিলেন; যেখানে কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্যকালীন ক্লাসে অংশগ্রহন করেন।

আরো পড়ুন- মায়ের দু‘আ আমাকে কাবা শরীফের ইমাম বানিয়েছে: শায়েখ আদেল কালবানী

শায়েখ আদেল আল-কালবানির পরবর্তী ইসলামিক পড়াশোনার প্রথম শিক্ষক ছিলেন শায়েখ হাসান ইবনে গানিম আল-গানিম। তিনি তার কাছে সহিহ আল-বুখারী, জামে আত-তিরমিযী এবং তাফসিরে ইবনে কাসির অধ্যয়ন করেছেন। তিনি শায়েখ মোস্তফা মুসলিমের সাথে পড়াশোনা করেছিলেন; যিনি ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাফসিরের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি শায়েখ আবদুল্লাহ ইবনে জিবরিন ও শায়েখ আহমদ মোস্তফার সহপাঠী। ১৯৯৪ সালে তিনি সৌদিতে ইমামের দায়িত্ব পালন করার জন্য সরকারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হোন।

তিনি দরিদ্র ঘরের সন্তান ও অভিবাসী হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে কাবা শরীফের ইমাম হোন সে বিষয়ে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে ২০১৭ সালে লন্ডনের এক কনফারেন্সে জানিয়েছিলেন, ‘এর পেছনে রয়েছে তার মায়ের হৃদয় নিঙড়ানো দোয়া।’

আরো পড়ুন- টিভি বিজ্ঞাপনে কাবার সাবেক ইমামের অভিনয়: সমালোচনার ঝড়

তিনি রিয়াদে বেশ কয়েকটি মসজিদের কমিটিতে ছিলেন। বিশেষত রাজা খালিদ বিন আবদুল আজিজের মসজিদটিতে কয়েক যুগ ধরে। ২০০৮ সালে তাকে মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ মসজিদুল হারামে তারাবীহ নামাজের ইমামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে পরবর্তীতে তাকে মসজিদে হারামের ইমামতি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সৌদি আরব জুড়ে বহু দাওয়াহ কার্যক্রমে অংশ নেয়াসহ তার দাওয়াতি কার্যক্রম সেখানে বেশ সমাদৃত।

শায়েখ কালবানি তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইসলামী দাওয়ার প্রচার-প্রচার, হৃদয় জুড়ানো তেলাওয়াতের জন্য বেশ সমাদৃত হলেও বেশকিছু বিষয়ের কারণে তিনি বিশ্বজুড়ে সমালোচনার শিকারও হয়েছেন।

বিশেষ করে ২০১০ থেকে একটি ফতোয়া কে কেন্দ্র করে তিনি চরম বিতর্কিত হয়ে পড়েন। তিনি ফতোয়া দিয়েছিলেন নাচ, গান, বাদ্যযন্ত্র সবকিছু বৈধ, অবৈধের কোনো প্রমাণ নেই। তবে তার এমন ফতোয়ার বিরুদ্ধে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড ইমাম শায়েখ আব্দুর রহমান আস-সুদাইস ও শায়েখ সৌদ ইবনে ইবরাহিম আশ-শুরাইম গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং মানুষজনকে সচেতন ও সতর্ক করেছেন।

শুধু ফতোয়াই নয় বরং তিনি স্ব-শরীরে বিভিন্ন নৃত্য অনুষ্ঠানেও উপস্থিত হয়ে থাকেন। এমনকি বিভিন্ন জুয়ার ক্লাব উদ্ধোধন করা ও কেসিনো ক্লাবে তাশ খেলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আরো পড়ুন- ‘শায়খ আদিল কালবানি’র দ্বীন থেকে বিচ্যুতি আমাদের যে শিক্ষা দেয়

শায়েখ আদেল আল কালবানি অনলাইনের এক গেমের প্রচারণায় টিভি বিজ্ঞাপনে অভিনয় করে নতুন করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। রিয়াদ সিজন ২০২১ এর উৎসবের ‘কমব্যাট ফিল্ড’ নামের ভার্চ্যুয়াল গেমের প্রচারণার জন্য নির্মিত ভিডিওতে অন্য তারকাদের সঙ্গে তাকে দেখা যায়।

এই ঘটনার পর তাকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে সৌদি আরব, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। আমিরাতভিত্তক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ গত শনিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভার্চ্যুয়াল গেমের প্রচারণার জন্য নির্মিত ভিডিওতে ৬২ বছর বয়সী আল কালবানিকে সামরিক পোশাকে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। এ সময় তার পেছনে বেশ কয়েকজন সহযোগীকেও দেখা যায়।

গত ১৮ নভেম্বর সৌদি আরবের জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির (জিইএ) চেয়ারম্যান ​তুর্কি আল শেখ টুইটারে সেই ভিডিও শেয়ার করেছেন। মক্কার পবিত্র গ্র্যান্ড মসজিদের সাবেক ইমাম আদেল আল কালবানিও এই ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। সেখানে ক্যাপশনে তিনি লেখেছেন, ‘আপনি কি মনে করেন, আমি হলিউডে যেতে পারবো?’ কমেন্টে জিইএ’র চেয়ারম্যান তুর্কি আল শেখ লিখেছেন, ‘হ্যাঁ প্রিয়, আমি মনে করি আপনি যেকোনো কিছুতেই এগিয়ে যাবেন।’

-কেএল

সর্বশেষ সব সংবাদ