শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
বিগত সরকারের টিকা না দেওয়ার খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জান্নাতের নেয়ামতের অপূর্ব বর্ণনা দিলেন মসজিদে নববীর খতিব জাতিসংঘ অধিবেশন শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি নারী সাংবাদিকের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ কওমি মাদরাসার মানোন্নয়ন ও অপপ্রচার মোকাবিলায় ঢাকায় মুহতামিম সম্মেলন সোমবার উচ্চাকাঙ্ক্ষা মুমিনের ঈমানি চেতনারই অংশ: মসজিদে হারামের খতিব রশীদ আহমদ ফেরদৌসের স্মরণে খেলাফত মজলিসের আলোচনা সভা গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে: লতিফ ‌‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের’ সেনাপ্রধানদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত ‘নিউইয়র্ক সফরে ১১ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ প্রধানমন্ত্রীর ৩০ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত’

সমালোচনার জন্য যাচাই-বাছাই ও দলীল-প্রমাণ চাই

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।।মাওলানা মুহাম্মাদ হেমায়েত উদ্দীন।।

কারও ত্রুটি-বিচ্যুতি প্রদর্শনপূর্বক যে আলোচনা হয় সেটাই সমালোচনা। সমালোচনায় কারও ত্রুটি-বিচ্যুতি তথা দোষ নিয়ে আলোচনা হয় বিধায় সমালোচনা এক ধরনের অপবাদ। আর কারও সম্বন্ধে অপবাদ আরোপ করতে হলে অপবাদের অনুকূলে দলীল-প্রমাণ পেশ করা জরুরি।

হজরত আয়েশা রা,-এর প্রতি যারা ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করেছিল, কুরআনে কারীমে তাদেরকে শাসিয়ে বলা হয়েছে,

لولا جاءوا عليه بأربعة شهداء فاذ لم يأتوا بالشهداء فاولئك عند الله هم الكاذبون

অর্থাৎ, কেন এই লোকগুলো এ বিষয়ে চারজন সাক্ষী পেশ করল না? সুতরাং যখন এরা সাক্ষী পেশ করল না তখন এরাই আল্লাহর নিকট মিথ্যাবাদী। (সূরা নূর: ১৩)

এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় অপবাদের অনুকূলে সাক্ষী তথা দলীল-প্রমাণ পেশ করা জরূরী। অন্যথায় তা মিথ্যার শামিল হবে। সমালোচনাও যেহেতু এক ধরনের অপবাদ, তাই সমালোচনার অনুকূলে যথাযথ দলীল-প্রমাণ উপস্থাপিত হতে হবে। অন্তত সমালোচনাকারির নিজের কাছে যথাযথ দলীল-প্রমাণ থাকতে হবে। অন্যথায় সে আল্লাহর নিকট মিথ্যা বলার দায়ে অভিযুক্ত হবে।

উল্লেখ্য, আয়াতটি যদিও ব্যভিচারের অপবাদ প্রসঙ্গে নাযেল হয়েছে, তবে উসূলে ফিকহের ইস্তিমবাত সংক্রান্ত প্রসিদ্ধ ফর্মুলা দালালাতুন্নস (دلالة النص)-এর ভিত্তিতে অন্যান্য অপবাদের ক্ষেত্রেও এর হুকুম প্রযোজ্য।

যে বিষয়ে কেউ সমালোচনা করতে চান সমালোচনা করার পূর্বে সে বিষয়ে যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিতে হবে। এ বিষয়টি প্রমাণিত হয় নিম্নোক্ত হাদীছ থেকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

كفى بالمرء كذبا ان يحدث بكل ما سمع

অর্থাৎ মানুষের মিথ্যুক হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে যা শুনবে (যাচাই-বাছাই ছাড়া) তা-ই বর্ণনা করে দিবে। (মুকাদ্দামায়ে মুসলিম) অতএব কারও কোন দোষ শুনেই (বা অন্য কোনভাবে জেনেই) তার সমালোচনায় প্রবৃত্ত হওয়া বিধিবদ্ধ নয়। যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিতে হবে।

সমালোচনার ক্ষেত্রে উপরোক্ত দু'টো বিষয় তথা দলীল-প্রমাণ থাকা ও যাচাই-বাছাই করে নেয়া অত্যন্ত জরূরী। মিথ্যা ও অপবাদের কবীরা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য জরূরী। অথচ দেখা যায় আমরা অনেকেই কোনো রকম যাচাই-বাছাই ছাড়াই, যথাযথ দলীল-প্রমাণ ছাড়াই অন্যের উপর নানান ধরনের অপবাদ চালিয়ে দেই। কিছু অপবাদ আছে গদবাধা, অবলীলায় যেগুলো আমরা একে অন্যের উপর চাপিয়ে থাকি।

যেমন: উনি অমুকের দালাল, অমুকের এজেন্ট, অমুকের পা চাটা গোলাম, অমুক থেকে মাল-পানি খেয়েছেন, অমুকের কাছে মাথা বিক্রি করে দিয়েছেন, উনার কথা ষড়যন্ত্রমূক, উনি বাতিল, ভণ্ড ইত্যাদি। যারা অন্য কারও প্রতি এ জাতীয় অপবাদ আরোপ করে থাকেন তাদের কাছে কি এগুলোর সপক্ষে উপযুক্ত দলীল থাকে? তারা কি যথাযথভাবে এগুলো যাচাই করে নেন? অধিকাংশের বেলায় উত্তর হবে 'না'। তবে কি তারা এভাবে অপবাদ আরোপ করাকে গোনাহই মনে করেন না? তাহলে তো তা আরও মারাত্মক গোনাহ হয়ে দাঁড়াবে। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করেন। আমীন!

এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ