শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
সাইবার সুরক্ষা আইন অপব্যবহার করবে না বর্তমান সরকার: ডা. জাহেদ আমাদের প্রিয় গাঁও শুরু হচ্ছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের তৃতীয় দফার মুয়াজ্জিন প্রশিক্ষণ আওয়ামী দোসরদের গ্রেফতার করলে পুরস্কার পাবে পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চার বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা ফের রিয়াদে হুথি হামলা, ড্রোন ভূপাতিতের দাবি সৌদির বিগত সরকারের টিকা না দেওয়ার খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জান্নাতের নেয়ামতের অপূর্ব বর্ণনা দিলেন মসজিদে নববীর খতিব জাতিসংঘ অধিবেশন শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি নারী সাংবাদিকের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ

ইসলামের এক নির্ভিক সৈনিক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহ.

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: আমিরে হেফাজত ও শায়খুল হাদিস আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী রহ ছিলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহঃ-এর হাতে গড়া শিষ্য, স্থলাভিষিক্ত এবং সুযোগ্য প্রতিনিধি।

তাকে ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে বাবুনগর মাদরাসা থেকে আহ্বান করে হাটহাজারী মাদরাসার মসনদে হাদীসে বসিয়েছেন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ ইসলামী অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব বানিয়ে প্রশিক্ষিত করেন, যাতে পরবর্তিতে তিনি সংগঠনের হাল ধরে ইলমে নববীর উত্তরাধিকার বহন করতে পারেন। তিনি কিছু দিন হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আমৃতু শিক্ষা পরিচালক ছিলেন। তিনি ছিলেন প্রখর মেধাবী শিক্ষক ও প্রথিতযশা মুহাদ্দিস।

তার শ্রদ্ধাভাজন পিতা হাটহাজারী মাদরাসার সাবেক মুহাদ্দিস হজরত আল্লামা আবুল হাসান চাটগামী রহঃ লিখিত ‘তানজিমুল আশতাত’ নামক মিশকাত শরিফের সুবিশাল ব্যাখ্যা গ্রন্থ বাংলাদেশ-ভারত ও পাকিস্তানের ছাত্র-শিক্ষকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। অনেক চড়াই উতরাই ও ঘাত অভিঘাত অতিক্রম করার বাস্তব অভিজ্ঞতা ছিল তার। ওস্তাদ আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ:-এর মতো তারও রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ছিল না। আলাপচারিতায় বোঝা যায় প্রচলিত রাজনীতির কূটকৌশল ও কূটনীতির মারপ্যাঁচের সাথে তিনি পরিচিত নন। আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহঃ-এর ইন্তেকালের পর তিনি হেফাজতে ইসলামের আমির নির্বাচিত হন।

ছাত্র ও জনতার প্রতি সব সময় তার অকৃত্রিম স্নেহ ও দোয়া ছিল। হাদিস বিষয়ে যে কোনো জটিল প্রশ্ন করা হলে কোন চিন্তা ভাবনা ছাড়াই তাৎক্ষণিক জবাব দিতেন। এতে হাদিসশাস্ত্রে তার গভীরতা ও পান্ডিত্যের পরিচয় মেলে। তিনি ছিলেন মূলত সমাজ সচেতন ও উম্মাহর দরদি এক মনীষী। সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এমন এক রাহবার যার ওপর আস্থা রাখা যায়; যাকে সাধারণ মানুষ ভালোবাসেন। পদলোভ, অর্থলিপ্সা ও ক্ষমতার অভিলাষ তার ছিল না। সারা জীবন জ্ঞানচর্চা, ধর্মপ্রচার ও সমাজ পরিবর্তনের মেহনত করে গেছেন। চাপ বা আপোস তাকে নববী আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। সারল্য ও অনাড়ম্বরতা তার জীবনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। স্বাধীন দেশে লাল-সবুজের মানচিত্রে বসবাসরত সকল জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য তিনি নিরলস সংগ্রাম করে গেছেন।

১৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর ১২.০০ টা ৩০ মিনিটে ৬৮ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লক্ষ-কোটি অনুরাগীদের শোক সাগরে ভাসিয়ে আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্য লাভ করেন। দুঃসময়ে জাতি তাকে হারিয়ে মাঝি বিহীন নৌকার মত হয়ে গেল। তার ইন্তেকালে দেশের কওমি অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজà§