ড. হেলাল মহিউদ্দীন।।
তাদের সুশৃঙ্খল রাখার জন্যও যদি কোনো ব্যবস্থা নিতে হয়, তাদের সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে করা যাবে না এবং মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা যাবে না। এ ধারায় এমনকি প্রাথমিক স্কুল পর্যায়ের শিশুদের শারীরিক নিরাপত্তার কথাও স্পষ্ট উল্লেখ আছে। ফলে বাংলাদেশের জন্য শিশু নির্যাতন বন্ধে আইন প্রণয়নের নৈতিক বাধ্যবাধকতাও ছিল। তারপর ৯টি বছর লেগে গেল ‘নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধ আইন ২০০০’ পেতে। এ উদাহরণ থেকেই বোধগম্য কেন আমাদের হাতে করপোরাল পানিশমেন্টের সমতুল্য বাংলা শব্দ নেই।
শুনেছিলাম ও পড়েছিলাম যে এক শ-দেড় শ বছর আগে গ্রামের অভিভাবকেরা সন্তানদের টোলে রেখে এসে বলতেন, ‘পণ্ডিতমশাই, আপনার হাতে তুলে দিলাম। মানুষ করতে গিয়ে মাংস-চামড়া তুলে ফেলার প্রয়োজন হলে তুলে ফেলবেন। শুধু হাড্ডিগুলো ফেরত দিলেই চলবে।’ গবেষণাটি করতে নেমে দেখলাম সেই ২০১২ সালেও ‘মাংস-চামড়া রেখে হাড্ডি ফেরত দিলেই চলবে’ কথাটি গ্রামেগঞ্জের লোকেরা বলছে। আমরা বুঝি এটি আক্ষরিক অনুরোধ নয়। এটি শিক্ষকের একক কর্তৃত্বে অভিভাবকের আস্থা রাখার রূপক। মানে শাস্তি যা দেওয়ার দেবেন, আমরা প্রতিবাদ জানাব না।
এক শ-দেড় শ বছর আগের পণ্ডিতের পাঠশালার ঐতিহ্য ক্রমে স্কুলে, মাদ্রাসায়, মক্তবে, এতিমখানায় সমাজ স্বীকৃত আচরণিক উত্তরাধিকারের রূপ নিয়েছে। ফলে বিদ্যায়তনে শিশু নির্যাতন অলিখিত সামাজিক অনুমোদন পেয়ে গিয়েছিল। আমরা খেয়াল করলাম অনেকেই সমস্যাটিকে হয় খুবই হালকা করে দেখেছিলেন অথবা আদৌ কোনো সমস্যাই ভাবছিলেন না। কেউ কেউ বলছিলেন, ‘ভাই, মারধর খেয়েছি বলেই তো মানুষ হয়েছি।’ এমনও বলেছেন, ‘মাইরের ওপর কোনো ওষুধ নাই।’
শিশুদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ মোটেই করা যাবে না, তার বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে ১৯৯১-এর জাতিসংঘ শিশুবিষয়ক সনদের ২, ৬, ১২ ও ২৮ ধারা, বিশেষত ২৮ (১ ক), ২৮ (১ঙ) ২৮ (২) ধারায়। সেগুলোকে আমলে নিলে পিতা-মাতার বাইরে অন্য কেউ শিশুদের উচ্চ স্বরে ভর্ৎসনা বা তিরস্কারও করার অধিকার রাখেন না। গবেষণাকালে একটি স্কুলের একজন প্রধান শিক্ষককে এ কথাগুলো জানানোর পর তিনি কতটা বিরক্ত হয়েছিলেন, এখনো স্পষ্ট মনে আছে।
সরাসরি বলেছিলেন, ‘ভাই, আপনি এসে পড়ান। আপনারা দূর থেকে উড়ে এসে কী করে বুঝবেন, কী রকম যন্ত্রণা নিয়ে আমাদের কাজকর্ম।’ সেই গবেষণাকালে জানলাম, মন্ত্রণালয় থেকে এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা তদারকি বিভাগগুলো থেকে প্রায়ই নির্দেশনা পাঠানো হয়। তবে সেগুলোকে আমলে নিলে শিক্ষকদের চলে না। থানার শিক্ষা কর্মকর্তারাও ‘মুখে মারধর করবেন না’ বললেও নাকি আকারে-ইঙ্গিতে জানান দেন যে শà