বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে হামলা-ভাঙচুর, ৪ মামলায় আসামি ২ হাজার প্রবীণদের সুস্থতায় সুষম খাদ্য ও সঠিক পরিচর্যা জরুরি ‘যৌথ অভিযান নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিত প্রক্রিয়া’ হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ২২ মসজিদুল হারামের ধর্মীয় বিষয়ক উপপ্রধান নিয়োগ হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেসে নতুন নিয়ম, নির্দিষ্ট মেসেজে গুনতে হবে টাকা সৌদিতে ইসলাম অবমাননার মামলায় শ্রীলঙ্কান তরুণের মৃত্যুদণ্ড ‘প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার’ ভারতে প্রতিবাদ সত্ত্বেও ভেঙে ফেলা হলো ঐতিহাসিক মসজিদের অংশ বিশেষ

প্রচলিত খতমে বুখারি অনুষ্ঠিত হয় না দারুল উলুম দেওবন্দে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ফাহীম সিদ্দিকী
লেখক ও শিক্ষক

বিদআত রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়লে মানুষের ঈমান আকীদা ও চিন্তাধারার মধ্যেও প্রবেশ করে বিকৃতি। দেওবন্দি মতাদর্শে বিদআত এবং কু-সংস্কারের কোন সুযোগ নেই। দেওবন্দিয়াত শরিয়তের অনুকরণ এবং সুন্নাহ থেকে ভিন্ন কোন বস্তু নয়।

হজরত আলকামা থেকে বর্ণিত, একবার সাহাবী হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বললেন, সেই সময়ে তোমাদের অবস্থা কী দাঁড়াবে যখন এমন দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয় তোমাদের গ্রাস করবে যে, যুবক লোকটি এ বিপর্যয়ের মধ্যে বৃদ্ধে পরিণত হচ্ছে, ছোটরা বয়স্কে পরিণত হচ্ছে। যখন কোনো বিদআত ছুটে গেলে বলাবলি শুরু হবে যে, তুমি সুন্নাহ ছেড়ে দিয়েছ। শাগরিদরা বলল, কখন অবতরণ করবে এই বিপর্যয়? তিনি বললেন, যখন তোমাদের সামনে হক্কানী আলেমগণ বিদায় নিয়ে যাবেন। তাদের জায়গায় মূর্খদের প্রতিষ্ঠা বৃদ্ধি পাবে, তোমাদের মাঝে কারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে অথচ প্রাজ্ঞ ফকীহের সংখ্যা হ্রাস পাবে। নেতার সংখ্যা বেড়ে যাবে অথচ আমানতদার লোকের সংখ্যা কমে যাবে। যখন দুনিয়ার রুটি রোজগার তালাশ করা হবে আখিরাতের আমল দিয়ে এবং দ্বীনী ইলম শিক্ষা করা হবে দুনিয়া কামাইয়ের উদ্দেশ্যে। (ইমাম দারেমী, আস সুনান ১/৬৪)

বর্তমানে কওমি মাদারিসে খতমে বুখারির নামে ভিন্নরকম অনুষ্ঠান মাত্রাতিরিক্ত হচ্ছে এবং তা দিন দিন বেড়েই চলেছে! দেওবন্দেও এক সময় তা ছিল, পরে কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে দিয়েছে। সিরিয়াতেও এমন প্রথা ছিল, যা পরবর্তীতে শাইখ জামালুদ্দিন কাসেমি রহ. বন্ধ করে দেন।

২৪শে মার্চ ২০১৯ চট্রগ্রাম নজিরহাট বড় মাদরাসায় বুখারি শরিফের সমাপনী দরসে দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম, মাওলানা আবুল কাসেম নুমানি (যীদা মাজদুহু) তার বয়ানে বলেছেন, আপনারা উম্মতের জন্য অনুসরণীয়। অতএব, আপনাদের প্রতিটি কদম হতে হবে খুবই সতর্কতার সাথে। আপনাদের পদস্খলন মানে জাতির পদস্খলন। এই যে বুখারি শরিফের খতম, কোথাও এর নজির নেই! দারুল উলুম দেওবন্দেও বুখারি শরিফ খতম হয়। কিন্তু কেউ জানে-ই না! কোন উসতাজ বা অন্য ক্লাসের ছাত্ররাও পর্যন্ত জানতে পারেন না। এমনকি মুহতামিম সাহেবও জানেননা! দাওরায়ে হাদিসের ছাত্ররাও বুঝতে পারে না যে, কখন সমাপ্ত হবে? আচমকা একদিন উসতাজ বলবেন, আজ শেষ করে দেব! ব্যস সে দিনই দুআর মাধ্যমে শেষ করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এ নিয়ে খুব বাড়াবাড়ি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তা বিদআত পর্যায়ে চলে যাচ্ছে! অতএব, আপনারা সম্মিলিতভাবে এর লাগাম টেনে ধরুন এবং আস্তে আস্তে তা বন্ধ করে দিন।

দারুà¦