fbpx
           
       
           
       
শিরোনাম :
বিটকয়েন: প্রকৃতি ও শরঈ দৃষ্টিভঙ্গি
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১ ৭:১৯ অপরাহ্ণ

প্রশ্ন: মাননীয় মুফতি সাহেব, বিটকয়েন হলো অনলাইন মুদ্রা। এটার দাম ওঠা নামা করে। এখন এটার দাম যখন কমে তখন এটাতে ইনভেস্ট করলে, দাম বাড়লে বিক্রি করা যায়। এগুলো জায়েজ হবে কি না?

বিষয়টা আরেকটু খুলে বলি, বিটকয়েনের বর্তমান বাজারে মূল্য ৪৭০০০ ডলার। এটা আবার নেমে ৩০০০০ ডলারে চলে আসে। দাম কমলে আপনি যদি ১০০ ডলার ইনভেস্ট করেন। দাম বাড়লে এটা প্রায় ১২০ ডলারের মত হয়ে যাবে। এভাবে ইনভেস্ট করা কতটুকু শরিয়ত সম্মত? জানালেল উপকৃত হবো।

নিবেদক
সুহেলুজ্জামান

জবাব: বিটকয়েন সম্পর্কে জানার পূর্বে আমাদেরকে দু’টি বিষয় একটু ক্লিয়ার হতে হবে। ক. ইসলাম ধর্মের অনন্য সার্বজনীনতা ও অনুপম বৈশিষ্ট্যের একটি হলো ইসলাম সর্বকালে সমান তালে চলনসই। কোন দেশ, সমাজ কিংবা গণ্ডির বৃত্তে আবদ্ধ নয়। খ. ইসলামের হুকুম আহকাম সাধারণত দু’ ধরনের হয়ে থাকে;

১. ইবাদত তথা সরাসরি শরিয়াহ প্রবর্তিত আহকাম। এর মূল ইল্লত তথা কার্যকারণ আমাদের জানা থাকুক বা না থাকুক। শরিয়াহ যেভাবে করতে বলেছে সেভাবে করতে হবে। ফেকাহর পরিভাষায় একে ‘আমরে তায়াব্বুদি’ও বলে।

২. আদত তথা মানুষের দৈনন্দিনের চাহিদা ও জীবন চলার ক্ষেত্রে শরীয়তের আদর্শিক পথ ও পন্থা এবং কুরআন সুন্নাহ সমর্থিত লেনদেন, রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও সমাজনীতির ব্যাপক অনুশীলন। ইসলাম ধর্মের প্রথম অনুপম বৈশিষ্ট্যটি মূলত এ (দ্বিতীয়) কারণেই সমুজ্জল। বিভাময়।

সর্বকালে নতুন আবিস্কৃত মাসয়ালা মাসায়েলের সমাধান যুগের ফকিহ মুফতিগণ ইসলামের এ দ্বিতীয় প্রকার ব্যাপকতাকে সামনে রেখে করে থাকেন। তবে তা অবশ্যই ফুকাহায়ে কেরামের মাধ্যমে কুরআন সুন্নাহ থেকে উৎসারিত কিয়াস ও মূলনীতির আলোকেই করতে হবে।

সময়ের হাতধরে কালে কালে নিত্য নতুন অনেক মাসয়ালার উদ্ভব হয়েছে। হচ্ছে। হবে। সব মাসয়ালার সমাধান শরীয়াহর মূলনীতির আলোকেই করতে হবে। প্রশ্নে উল্লেখিত বিটকয়েন বর্তমান সময়ের আলোচিত একটি নতুন মাসয়ালা যদিও আমাদের দেশে তা এখনোও সরকার কর্তৃক স্বীকৃতি ও ব্যাপকতা লাভ করে নি। তথাপি আমরা শরীয়াহর মূলনীতির আলোকে এর সমাধানের চেষ্টা করবো। বিইযনিল্লাহ।

বিটকয়েন কী?

বিটকয়েন হল একটি ভার্চুয়াল মুদ্রা। এর ক্ষুদ্র একক হল মিলি বিটকয়েন এবং সাতোশি। ১ বিটকয়েন সমান ১০০০ মিলি বিটকয়েন এবং সাতোশি ১ বিটকয়েনের সমান ১ কোটি সাতোশি।

বিটকয়েন একটি অনলাইন নির্ভর ক্রিপ্টোকারেনসি বা ডিজিটাল মুদ্রা যার কোন বাস্তব অস্তিত্ব নেই। অর্থাৎ অন্যান্য মুদ্রার মত এটি ধরা ছোঁয়া যায় না; কোন ব্যাংকের ভল্টে কিংবা ক্যাশ বাক্সে এটি রাখা যায় না। এই মুদ্রার কোন নিয়ন্ত্রণকারী দেশ বা ব্যাংক নেই। সাধারণত মুদ্রা ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের উদ্দেশ্য থেকে এই মুদ্রার ধারণা চালু হয়। ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত মুদ্রা দিয়ে কোন পণ্য বা সেবার লেনদেন করতে গেলে সেই লেনদেন যেমন কোন দেশ, ব্যাংক বা সংস্থা কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় এই মুদ্রার সেরকম কোন নিয়ন্ত্রণকারী নেই। তাই এই মুদ্রা দিয়ে সারা বিশ্বে সকল প্রকার বৈধ অবৈধ লেনদেন নিশ্চিন্তে সম্পন্ন করা যায়।

সর্বপ্রথম ২০০৯ সালে বিটকয়েন এর উদ্ভাবন হয়। সা‌তো‌সি নাকা‌মো‌তো নাম ব্যবহার করে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই মুদ্রার উদ্ভাবন করেন এবং ওই বছরই একটি সফটওয়্যার চালুর মাধ্যমে এটি আত্মপ্রকাশ করে। বিটকয়েন এর বাজার মূল্য: প্রথম দিকে ১৩০৯ বিটকয়েন সমান ১ ডলার ছিল, অবাধ ও নিয়ন্ত্রনহীন লেনদেনের সুবিধার কারণে খুব দ্রুত সারা বিশ্বে বিটকয়েন গ্রহণযোগ্যতা পায়। বর্তমানে ২৫ জুলাই ২০১৯ এর হিসাব অনুযায়ী ১ বিটকয়েন সমান প্রায় ৯,৯৯৩ ডলার যা বাংলাদেশি টাকার হিসেবে প্রায় ৮৪৪,৩৪৮ টাকা।

বিটকয়েন রাখার জন্য কোন ব্যক্তিকে অবশ্যই একটি অনলাইন ওয়ালেট থাকতে হবে প্রতি বিটকয়েন ওয়ালেট এর বিপরীতে একটি ইউনিক আইডি বা অ্যাকাউন্ট নম্বও দেয়া হয়। যেখান থেকে আপনি বিটকয়েন খরচ করতে পারবেন অথবা, জমা করতে পারবেন।

বিটকয়েন উপার্জন:
১) অন্যান্য মুদ্রার মতো কোন কিছু ক্রয় বিক্রয় করে আপনি বিটকয়েন পেতে পারেন।
২) অন্য কোন মুদ্রা বিনিময়ের মাধ্যমে বিটকয়েন পাওয়া যায় ।
৩) কোন ওয়েব সাইটে কাজ করার মাধ্যমে।
৪) এটি যেহেতু একটা ক্রিপ্টোকারেন্সি সেহেতু অনলাইনে মাইনিং এর মাধ্যমে বিটকয়েন সংগ্রহ করা যায়। মাইনিং হল সারা পৃথিবীর কোন না কোন প্রান্তে বিটকয়েনের মাধ্যমে সংঘটিত হওয়া লেনদেনকে কোন ইউজার কর্তৃক অথরাইজ করার জন্য একটি স্বয়ংক্রিয় অ্যালগরিদম প্রক্রিয়া।

বিটকয়েন সংগ্রহ ও সংরক্ষণ:
বিটকয়েনের শরিয়াহ পর্যালোচনা নিয়ে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম কাজ করে আইএফ এ কন্সালটেন্সি বাংলাদেশ। ‘বিটকয়েন: পরিচিতি ও পর্যালোচনা’ শিরোনামে তারা গত ১৮-০১-২০১৮ তারিখে ঢাকার বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের অডিটিরিয়ামে এক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেখানে বিটকয়েন সংগ্রহ ও সংরক্ষণ বিষয়ে মুফতিগণ বলেন, বিটকয়েন মূলত দুটি পন্থায় সংগ্রহ করা হয়। যথা;

এক. মাইনিং করে। দুই. ক্রয় করে। যার কাছে বিটকয়েন আছে সেটা কাগুজে মুদ্রায় ক্রয় করা। বিটকয়েন সংগ্রহের জন্য এ দ্বিতীয়টিই এখন পর্যন্ত বহুল ব্যবহৃত মাধ্যম। একেই বলা হয় ‘বিটকয়েন ইনভেষ্ট’। (আর প্রশ্নে মূলত এ পদ্ধতির শরিয়াহ সমাধান চাওয়া হয়েছে)। বলা বাহুল্য বিটকয়েন সংগ্রহের দুটি মাধ্যমই বেশ প্রতারণাপূর্ণ। বহু মানুষের টাকা খোয়া গেছে।

বিটকয়েন সংরক্ষণ: ইলেক্সট্রনিক বিশেষ পন্থা তথা E wallet এর মাধ্যমে বিটকয়েন সংরক্ষণ করা হয়। এর মাধ্যমে বিটকয়েন বেচা কেনাও করা হয়। কয়েকটি প্রসিদ্ধ-ই ওয়ালেট হল এর মাধ্যমে বিটকয়েন প্রেরণ করা, গ্রহণ করা সবই সম্ভব।

শরিয়াহর দৃষ্টিতে মুদ্রা নিয়ন্ত্রণের মাপকাঠি: বিটকয়েনের শরঈ দৃষ্টিভঙ্গি পর্যালোচনার ও বিশ্লেষণের পূর্বে আমরা শরীয়তের দৃষ্টিতে প্রচলিত মুদ্রার বাস্তবতা ও প্রকৃতি জেনে নিব। কোন পণ্য বা বস্তুকে মুদ্রা বলা কিংবা মুদ্রা বলে স্বীকার করে নেয়ার শরিয়াহ মাপকাঠি কী?

রাসুল স. এর হাদিস ও ইসলামি শরিয়াহ স্কলারগণের বক্তব্য থেকে বুঝা যায় এর মাপকাঠি দু’টি সামানে তাখলিকি তথা এমন বস্তু মুদ্রা হওয়া যার সৃষ্টিই হয়েছে মুদ্রা বা কারান্সি হিসেবে ব্যবহারের জন্য অথবা বলতে পারি, যার মধ্যে সত্তাগত মুদ্রার গুণ রয়েছে। এমন বস্তু দু’টি। স্বর্ণ ও রূপা। খায়রুল কুরুন তথা তিন কল্যাণ যুগে এ দু’টি বস্তু মুদ্রা হিসেবে স্বীকৃত ছিল। ফেকাহর প্রসিদ্ধ কিতাব হেদায়াতে একটি বাক্যের মাধ্যমে সে দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। (بخلاف النقود لأنها للثمنية خلقة)

সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত মুদ্রা। ফেকাহর বিখ্যাত রেফারেন্স বুক হেদায়া কিতাবের লেখক সে দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, لأن الثمنية لإصطلاح । এখন প্রশ্ন হলো, মুদ্রা সমাজ ও রাষ্ট্র স্বীকৃত কখন হবে? এ ব্যাপারে ফকিহগণ দু’টি মত পেশ করেছেন।

ক. জনসাধারণের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এর প্রচলন শুরু হবে। (কিন্তু বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও বৈশ্বিক ব্যবস্থাপনার কারণে বাহ্যিকভাবে এ পদ্ধতি কোনভাবেই সম্ভব নয়।)

খ. খোদ রাষ্ট্রই কোন বস্তুকে মুদ্রার জন্য আখ্যায়িত করা। যেমন আমাদের দেশে কেন্দ্রিয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে টাকাকে মুদ্রা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীর জুড়ে এ পদ্ধতিই চালু রয়েছে। সে হিসেবে বর্তমানে কোন বস্তু মুদ্রা বা মূল্যমান হওয়ার জন্য এ দ্বিতীয় পদ্ধতিই স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য যেমনটি প্রখ্যাত ফকিহ মুফতি মুজাহেদুল ইসলাম কাসেমি রহ. বলেছেন।

সুতরাং কোন বস্তু মুদ্রা কিংবা মূল্যমান হওয়ার জন্য আন্তঃরাষ্ট্রীয় কিংবা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও ভ্যালু থাকতে হবে। যেমন আমাদের দেশের একশ টাকায় ‘চাহিবামাত্র ইহার বাহককে একশ টাকা দিতে বাধ্য থাকিবে’ এ বাক্য লেখার মাধ্যমে স্বীকৃতি দেয়া আছে। এখন রাষ্ট্র কর্তৃক এ স্বীকৃতি বিলুপ্ত করলে তা মূল্যমান হারিয়ে কেবল একটি কাগজের টুকরায় পরিণত হবে। কাউকে ফ্রি দিলেও নিতে চাইবে না। ‘চাহিবামাত্র…’ এ বাক্যটিই রাষ্ট্রিয় স্বীকৃতি।

বিটকয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সির শরঈ সমাধান জানতে হলে উল্লেখিত শরঈ মূলনীতির সাথে আরো একটি বিষয় জানতে হবে। তা হলো,

প্রথমত: মুদ্রা সামানে উরফি তথা রাষ্ট্রিয় মূল্যমান হওয়ার তা কি মূল সামানে তাখলিকি তথা সত্তাগত মূদ্রার মর্যাদায় না কি তা সত্তাগত মূদ্রার সত্যায়নপত্র অর্থাৎ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তা একটি সনদের মতো ধর্তব্য হবে? আমরা এটিকে রাষ্ট্রিয় স্বীকৃত মুদ্রার পাশাপাশি সত্তাগত মুদ্রার সত্যায়নপত্র বা সনদও ধরতে পারি। (বিদ্যাসাগর আলেম হাকিমুল উম্মত মুজাদ্দিদে মিল্লাত মাওলানা আশরাফ আলী থানবি রহ. , পাকিস্তানের সাবেক গ্রাণ্ড মুফতি শফি রহ. ও বর্তমান বিশ্বের আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্কলার শাইখুল ইসলাম মুফতি তাকি উসমানি হাফি.সহ উপমহাদেশের আলেমগণের রায় এমনটিই।) কেননা রাষ্ট্রের অর্থনীতির পেছনে এ মুদ্রার শক্তি কাজ করে। দেশের উন্নতি অবনতি মুদ্রা বা কারেন্সি ভ্যালুর উপর প্রভাব ফেলে। আরো স্পষ্ট করে বললে, এ অর্থনীতির কারণে কারেন্সির ভ্যালু বাড়ে আবার কখনো কমে।

দ্বিতীয়ত: প্রত্যেক দেশই তার জনগণের কারেন্সির দায়িত্ব গ্রহণ করে থাকে। তাই কোন দেশ নিজস্ব কারেন্সি বন্ধ করে দিলে তা আর মুদ্রা থাকে না। এর মার্কেট ভ্যালুও থাকে না। এ জন্য কখনো কোন টাকা ছিড়ে গেলে তা ব্যাংককে দিলে তারা তা পরিবর্তন করে দেয়।

উল্লেখিত আলোচনা থেকে বুঝা গেল, (ক) বর্তমানে মুদ্রা হতে হলে রাষ্ট্রিয় স্বীকৃতি লাগবে। (খ) জনগণ তার ব্যবহার গ্রহণ করে নিতে। (গ) এ মুদ্রার পেছনে রাষ্ট্রের উন্নতি অবনতি নির্ভর করে। (ঘ) রাষ্ট্র এ মুদ্রার দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

শরঈ মূলনীতির পর আমরা এবার বিটকয়েনের শরঈ সমাধান জানার চেষ্টা করবো। উল্লেখিত মূলনীতির আলোকে ইসলামিক স্কলার ও মুফতিগণ বিটকয়েনের ব্যাপারে বলেন, বিটকয়েন নামক ভার্চুয়াল এ মুদ্রার বেচাকেনা করা, ব্যবহার করা বৈধ নয়। কারণ বিটকয়েনের রাষ্ট্রিয় কোন স্বীকৃতি নেই। যেমন আমাদের বাংলাদেশেই তা নিষিদ্ধ। আর কোন দেশ তা নিষিদ্ধ না করলেও শরঈ অন্যান্য কারণে তা বৈধ হবে না। যেমন ইন্ডিয়াতে অবৈধ থাকলেও কিছুদিন পূর্বে রাষ্ট্রটির সুপ্রিম কোর্ট তা বৈধ ঘোষণা করে। তাছাড়া এ বিটকয়েন আইন বহির্ভূত বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। এবং বিটকয়েনে গারারও রয়েছে।

মোটকথা বিটকয়েন শরঈ দৃষ্টিতে কারেন্সি হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। আইএফএ কন্সালটেন্সির ফাউন্ডার মুফতি আবদুল্লাহ মাসুম হাফি. বিষয়টি আরেকটু খোলাসা করে বলেন, ‘এখানে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হল, বিটকয়েন শরঈ দৃষ্টিতে কারেন্সি কি না? অর্থনীতিবিদ ও ফকীহদের দৃষ্টিতে মুদ্রার চারটি বৈশিষ্ট্য ও অর্থনৈতিক কাজ রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো, (গবফরঁস ড়ভ ঊীবযধহমব) এর সারকথা হল, যে জিনসটি মুদ্রা হবে তার প্রধান বৈশিষ্ট্য হবে যে কোন কিছু ক্রয় বিক্রয়ে বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে তা কাজ করবে’। সুতরাং বিটকয়েন নামক এ ডিজিটাল মুদ্রার মধ্যে মুদ্রার স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ট্য না থাকার কারণে তা ব্যবহার করা জয়েজ নেই।

المراجع والمصادر:
(১) تفسير إبن كثير ১/৬৩৬
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ}… نهى تبارك وتعالى عباده المؤمنين عن أن يأكلوا أموال بعضهم بعضابالباطل، أي: بأنواع المكاسب التي هي غير شرعية، كأنواع الربا والقمار، وما جرى مجرى ذلك من سائر صنوف الحيل،
(২) صحيح المسلم رقم الحديث: ৩৮০৮
عن أبي هريرة قال نهى رسول الله صلى الله عليه و سلم عن بيع الحصاة وعن بيع الغرر ش (بيع الغرر) النهي عن بيع الغرر أصل عظيم من أصول كتاب البيوع ويدخل فيه مسائل كثيرة غير منحصرة كبيع الآبق والمعدوم والمجهول وما لا يقدر على تسليمه.
(৩) هداية ৩/৮১
قوله: ويجوز بيع الفلس بالفلسين باعيانهما عند أبى حنيفة وابى يوسف وقال محمد لا يجوز لأن الثمنية ثبت باصطلاح الكل… بخلاف النقود لأنها للثمنية خلقة …
(৪) هداية ৩/৮০
قوله: وعقد الصرف ما وقع على جنس الاثمان يعتبر فيه قبض العوضيه فى المجلس ….وما سواه مما فيه الربوا يعتبر فيه التعيين ولا يعتبر فيه التقابض …
(৫) فتاوی دار العلوم دیوبند جواب : ১৪৬৭৪৪
(۱، ۲) : آج کل دنیا میں جو مختلف کرنسیاں رائج ہیں، وہ فی نفسہ مال نہیں ہیں، وہ محض کاغذ کا ٹکڑا ہیں، ان میں جو مالیت یا عرفی ثمنیت پائی جاتی ہے ، وہ دو وجہ سے ہے؛ ایک تو اس وجہ سے کہ ان کے پیچھے ملک کی اقتصادی چیزیں ہوتی ہیں ؛ اسی لیے ملک کی اقتصادی ترقی اور انحطاط کا کرنسی کی ویلیو پر اثر پڑتا ہے ، یعنی: اقتصاد ہی کی وجہ سے ملک کی کرنسی کی ویلیو گھٹتی بڑھتی ہے۔ اور دوسری وجہ یہ ہے کہ ہر ملک عوام کے لیے اپنی کرنسی کا ضامن وذمہ دار ہوتا ہے؛ یہی وجہ ہے کہ جب کوئی ملک اپنی کوئی کرنسی بند کرتا ہے تو کرنسی محض کاغذ کا نوٹ بن کر رہ جاتی ہے اور اس کی کوئی ویلیو یا حیثیت باقی نہیں رہتی۔ اب سوال یہ ہے کہ ڈیجیٹل کرنسی کے پیچھے کیا چیز ہے جس کی وجہ سے اس کی ویلیو متعین ہوتی ہے اور اس کی ترقی اور انحطاط سے کرنسی کی ویلیو گھٹتی بڑھتی ہے؟ اسی طرح اس کرنسی کا ضامن وذمہ دار کون ہے؟ نیز کرنسی کی پشت پر جو چیز پائی جاتی ہے، کیا واقعی طور پر اس پر کرنسی کے ضامن کا کنٹرول ہوتا ہے یا یہ محض فرضی اور اعتباری چیز ہے؟
ڈیجیٹل کرنسی کے متعلق مختلف تحریرات پڑھی گئیں اور اس کے متعلق غور کیا گیا تو معلوم ہوا کہ ڈیجیٹل کرنسی محض ایک فرضی چیز ہے اور اس کا عنوان ہاتھی کے دانت کی طرح محض دکھانے کی چیز ہے اور حقیقت میں یہ فاریکس ٹریڈنگ وغیرہ کی طرح نیٹ پر جاری سٹے بازی اور سودی کاروبار کی شکل ہے، اس میں حقیقت میں کوئی مبیع وغیرہ نہیں پائی جاتی اور نہ ہی اس کے کاروبار میں بیع کے جواز کی شرعی شرطیں پائی جاتی ہیں۔ پس خلاصہ یہ کہ بٹ کوئن یا کوئی اور ڈیجیٹل کرنسی، محض فرضی کرنسی ہے، حقیقی اور واقعی کرنسی نہیں ہے، نیزکسی بھی ڈیجیٹل کرنسی میں واقعی کرنسی کی بنیادیں صفات نہیں پائی جاتیں، نیز ڈیجیٹل کرنسی کے کاروبار میں سٹہ بازی اور سودی کاروبار کا پہلو معلوم ہوتا ہے؛ اس لیے بٹ کوئن یا کسی اور ڈیجیٹل کرنسی کی خرید اری کرنا جائز نہیں۔ اسی طرح بٹ کوئن یا کسی بھی ڈیجیٹل کرنسی کی تجارت بھی فاریکس ٹریڈنگ کی طرح ناجائز ہے؛ لہٰذا اس کاروبار سے پرہیز کیا جائے ۔
(৬) جواہر الفقہ ৭/৪৯১ (৭) جدید فقہی مسائل ৪/২৫ (৮) فقہی مقالات ১/২৫
(৯) বিবিসি বাংলা (১৫ ফেব্রয়ারি ২০২১)
(১০) বাংলা ট্রিবিউন (১১ নভেম্বর ২০২০)

উত্তর লিখনে
আবুল ফাতাহ কাসেমী
উস্তাদ, জামিয়া কারিমিয়া আরাবিয়া, রামপুরা, ঢাকা

-এএ

সর্বশেষ সব সংবাদ