মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬ ।। ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ১৪ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :
রমজানে বিতর নামাজ পড়ার উত্তম সময় কখন? গণভোটের জনরায়কে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা হচ্ছে: খেলাফত মজলিস কওমি থেকে পুলিশে ১০০০ কনস্টেবল নিন পরিবেশ ছাড়পত্র পেলেই বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে: ডিএনসিসি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল  ল’ বোর্ডের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ  মহিলা মাদরাসায় অগ্নিকাণ্ড: ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ‘প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে’ রাজশাহীতে নিখোঁজ দুই মাদরাসা ছাত্র উদ্ধার ইফতার-সাহরিতে অসহায় প্রতিবেশীর খোঁজ রাখুন: শায়খ আহমাদুল্লাহ

হাদিসে বর্ণিত উপাদানে মিলছে ‘করোনার ‍পূর্ব লক্ষণগুলো’র সমাধান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

হামিম উল কবির: শ্বাসকষ্ট, হাঁচি-কাশি, গলা ব্যথার প্রোফেটিক মেডিসিন (হাদিসে বর্ণিত ওষুধ) কুস্ত। কুস্ত নামের গাছের শিকড় বহু বছর ধরে গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নবী হজরত মুহাম্মদ সা: ও তাঁর বেশ কয়েকজন সাহাবি কুস্তকে হাঁচি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথার ওষুধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশুদ্ধতম হাদিস বই বুখারি শরিফে এই হাদিসগুলো রয়েছে। কুস্ত আরবিতে কুদ আল হিন্দ নামে পরিচতি। এ ছাড়া আবু দাউদ শরিফেও এর বর্ণনা আছে। কেউ কেউ বলছেন, করোনা সংক্রমণ যেহেতু ফুসফুস ও গলায় প্রদাহ তৈরি করে সে কারণে করোনা সংক্রমণেও কুস্ত কাজ করতে পারে। কারণ মুসলমানরা বিশ্বাস করেন নবী মুহাম্মদ সা: যা বলেছেন, তার সবই আল্লাহর পক্ষ থেকেই বলেছেন।

বুখারির ৫ হাজার ৬৯২তম হাদিসে উম্মে কাইস বিনতে মিহসান (রা:) বলেন, নবী হজরত মুহাম্মদকে সা: বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন- কুদ আল হিন্দ দিয়ে চিকিৎসা করো। গলার সমস্যায় এবং কণ্ঠ ও ফুসফুসের সূক্ষ্ম ঝিল্লির প্রদাহে এটা মুখে ভেতরের এক অংশে রাখো। ৭টি রোগকে এটি সাড়াতে পারে।’

বুখারির ৫ হাজার ৬৯৬ নম্বর হাদিসে আনাস (রা:) নবী মুহাম্মদ সা থেকে বলেছেন, তোমাদের সন্তানদের গলাব্যথা হলে তাদের গলায় চাপ না দিয়ে কুস্ত দাও। আবু দাউদ শরিফে মিহসানের কন্যা উম্মে কাইস (রা:) বর্ণনা করেছেন, আমি আমার ছেলেকে নবীর সা: কাছে আনলাম। তখন আমি গলা ফুলে যাওয়ায় তার আল জিহবায় চাপ দিয়েছিলাম। নবী সা বললেন, কেন তোমরা তোমাদের ছেলেদের কষ্ট দাও? কুদ আল হিন্দ ব্যবহার করো। এতে ৭টি রোগের উপসম রয়েছে। এর মধ্যে ফুসফুসের সমস্যা একটি। আবু দাউদ (র) বলেন, কুদ আল হিন্দ বলতে তিনি ভারতীয় কুস্তকে বুঝিয়েছেন।

গলার সংক্রমণবিষয়ক আরেকটি হাদিস বর্ণনা করেছেন হজরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা:)। তিনি বলেন, একদিন নবী সা: তাঁর বাড়িতে আসলেন এবং দেখলেন একটি ছেলেকে তাঁর কাছে আনা হয়েছে। ছেলেটির মুখ ও নাক থেকে রক্ত ঝরছিল। নবী সা: জানতে চাইলেন কী হচ্ছে? আয়িশা (রা:) বললেন, ছেলেটি গলা সংক্রমণে ভুগছে। নবী বললেন, ভবিষ্যতে যেকোনো ছেলে এ রকম গলার সংক্রমণে অথবা মাথা ব্যথায় ভুগলে ওর মধ্যে কালো কুস্ত ঘষো এবং ছেলেটাকে এটা চুষতে দাও। আয়েশা (রা:) নবী মুহাম্মদের সা:-এর কথামতো কাজ করলেন এবং শিশুটি স্বাস্থ্যবান (সুস্থ) হয়ে গেল। (মুসনাদ আবি ইয়ালা : ১৯১২)। কুস্ত বা কুদ আল হিন্দবিষয়ক আরো কয়েকটি হাদিস রয়েছে।

দুই ধরনের কুস্ত পাওয়া যায়। এর মধ্যে কুস্ত আল হিন্দ একটু কালো এবং গরম। অপরটি হলো কুস্ত আল বাহরি। এটা মৃদু ও সাদা। কুস্ত আল হিন্দ কুথ আল সাংস্কৃতও বলা হয়। কুস্ত উত্তরপশ্চিম ও উত্তরপূর্ব হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চলে পাওয়া যায়। ভারতীয় উপমহাদেশে কুস্ত নিউমোনিয়া, ফুসফুস সংক্রমণসহ অন্যান্য ফুসফুস সংক্রান্ত অসুস্থতা, গলা সংক্রমণের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ ছাড়া চীনা, কোরিয়ান গাছ-গাছরা সম্পর্কীয় ঔষধী বইয়ের মধ্যেও একই রোগের ওষুধ হিসেবে বর্ণনা করা আছে।

মক্কার ম্যাটার্নাল অ্যান্ড চিলড্রেন হাসপাতালে কুস্ত আল হিন্দ নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। মিসরেও হাদিসে বর্ণিত এই ওষুধটি নিয়ে গবেষণা চলছে। বাংলাদেশে এই ওষুধটি চকবাজারের হার্বাল ওষুধের দোকানে পাওয়া যায়। গাছ-গাছড়া নিয়ে যারা ওষুধ তৈরি করেন তারা কুস্ত ব্যবহার করেন।

-কেএল


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ