আওয়ার ইসলাম: লিবিয়ায় চলমান উত্তেজনা ও সহিংসতার মধ্যেই চীনের সাহায্য চাইলো মিশর। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শৌক্রে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এর সঙ্গে এক ফোনালাপে এ কথা বলেছেন। মূলত দেশটিতে তুরস্কের প্রভাব ঠেকাতে এই সাহায্য চেয়েছে মিশর।
মিডেল ইস্ট মনিটরের বরাতে জানা যায়, ফোনালাপে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিবিয়ায় চলমান ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন। কীভাবে দেশটিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
লিবিয়ায় খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মিকে (এলএনএ) সমর্থন করছে মিশর। তাদের সঙ্গে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব। কেউ কেউ দাবি করে, এলএনএকে সমর্থন করছে রাশিয়া ও ফ্রান্সের মতো দেশও। অন্যদিকে, তাদের বিরোধী পক্ষ গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল একোর্ডকে (জিএনএ) সমর্থন দিচ্ছে রাশিয়া। জিএনএ দেশটির জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার।
ফোনালাপে শৌক্রে লিবিয়ায় মিশরের অবস্থান সম্পর্কে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন। বলেন, মিশরের লক্ষ্য লিবিয়ায় শান্তিপূর্ণ একটি পরিবেশ তৈরি করা। যাতে সেখানে একটি দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মিডেল ইস্ট মনিটর বলছে, সম্প্রতি তুর্কি সমর্থন পেয়ে জিএনএ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ শহর ও এলাকা থেকে এলএনএকে বিতাড়িত করেছে। এর মধ্যে অন্যতম দেশটির রাজধানী ত্রিপোলি। এখন তারা মিশর সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ সিরতে শহরের দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে নড়েচড়ে বসেছে মিশর। দেশটির প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি লিবিয়ায় সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এমনকি দেশটির পার্লামেন্ট তাতে অনুমোদন দিয়েছে। তুর্কিদের রুখতে এবার চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে কায়রো।
তবে মিশরের পক্ষ থেকে সাহায্য চাওয়া হলেও ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ফোনালাপে তিনি বলেন, এ রকম অস্থিতিশীল একটি পবিবেশে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সবচেয়ে সহায়ক হবে জাতিসংঘ। আপনাদের জাতিসংঘের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। একই সঙ্গে লিবিয়ার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ চলাচলে সবাইকে তৎপর হতে হবে। তা না হলে দেশটি উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের একটি উর্বর ভূমিতে পরিণত হবে।
-এটি