বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬ ।। ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২২ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
২০২৬-২৭ সালের অনুমোদিত ১২৮ ওমরাহ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ ​মুরাদনগরের ইউএনও সারওয়ার রাব্বী গুরুতর অসুস্থ: জমিয়তের দোয়ার আহ্বান জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ক্যাম্পাসে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান ছাত্র জমিয়তের স্মৃতির পাতায় ৫ আগস্ট ও নতুন স্বাধীনতার ভোর গুমের তদন্ত পুলিশের হাতে থাকলে ন্যায়বিচার মিলবে না: গাজী আতাউর রহমান জমিয়তের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মজলিসে আমেলার শেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত ছাত্রদল-শিবিরের হামলার নিন্দা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সিলেট বিভাগ দিয়ে শুরু হচ্ছে বেফাক বোর্ডের মাদরাসা পরিদর্শন বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় সৌদি শুক্রবার আফতাবনগরের খতমে নবুওয়াত কনফারেন্সে বয়ান করবেন দেওবন্দের মুহতামিম

আবারও রাজনীতির মাঠে সরব হচ্ছেন মাহাথির

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: বয়স ৯৫ বছর হলেও আবার ক্ষমতায় ফেরার জন্য কসরত করছেন মাহাথির মোহাম্মদ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিনকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের জন্য এক রকম মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি।

মাহাথির মোহাম্মদ গত ফেব্রুয়ারি মাসে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তাতে পাকাতান হারাপান জোটের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে।

মাহাথিরের নিজ দল বেরসাতুতেও ভাঙন ধরে ওই সময়। বের হয়ে যান মুহিদ্দিন ইয়াসিন। তিনি নতুন জোট গঠন করেন ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের (ইউএমএনও) সঙ্গে। এই ইউএমএনও এখন মূলত দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের রাজনৈতিক দল।

ওই সময় মাহাথিরের পদত্যাগের মূল কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী হতে চাওয়া আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তার মতবিরোধ। আনোয়ার প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, মাহাথির সেই মোতাবেক কথাও দিয়েছিলেন ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে।

কিন্তু দুই বছর পর আর আনোয়ারকে প্রধানমন্ত্রী করতে চাননি তিনি। আর তাতেই পাকাতান হারাপান জোটে ভাঙন ধরে। ওই সুযোগে মাহাথিরের নিজের রাজনৈতিক দলের মুহিদ্দিন ইয়াসিন দল ভেঙে বনে যান প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে অবশ্য দেশটির সুলতানের আনুকূল্যও পেয়েছেন ইয়াসিন।

মাহাথির অবশ্য ভেঙে গেলেও মচকাননি। তিনি পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চেয়েছিলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন ইয়াসিনের প্রতি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সুকৌশলে তা এড়িয়ে গিয়ে এবং করোনাভাইরাস মহামারির দোহাই দিয়ে পার্লামেন্ট বন্ধ রাখেন। সমালোচকেরা বলে থাকেন, ঠিক ওই মুহূর্তে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করা ইয়াসিনের জন্য কঠিন ছিল। তাই এই সময়ক্ষেপণের কৌশল। অবশেষে ১৩ জুলাই পার্লামেন্টে স্পিকার পরিবর্তনের প্রস্তাব আনেন ইয়াসিন।

আবার আওয়াজ তুলেছেন মাহাথির মোহাম্মদ। এশিয়া টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ইয়াসিনের সরকার একটি অবৈধ সরকার। এটি নাজিব রাজাকের মতো দুর্নীতিবাজদের ক্লিনচিট দিতে উঠে–পড়ে লেগেছে। কারণ, নাজিবের ইউএমএনও দলের সমর্থন ছাড়া এক দিনও টিকবে না বর্তমান সরকার। তাই টিকে থাকতে হলে নাজিবকে সুরক্ষা দিতে হবে ইয়াসিনকে।

মাহাথিরের অভিযোগ, সরকার–নিয়ন্ত্রিত কোম্পানি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তিনি পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়েছিলেন। দুর্নীতি কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এখন ইয়াসিন ক্ষমতায় এসে সব পেশাদারকে সরিয়ে সেখানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বসাচ্ছেন। ফলে দুর্নীতির পথ সুগম হচ্ছে।

সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাহাথির বলেছেন, মুহিদ্দিন ইয়াসিনের কারণে তার দল ভেঙে গিয়েছে। ভাঙা দল নিয়ে নির্বাচন করার পরিবর্তে তিনি নতুন নামে নতুন একটি দল আনার বিষয়ে ভাবছেন। প্রয়োজন হলে নতুন দল গঠন করতে তিনি পিছপা হবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন।

দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ জটিল হচ্ছে দিন দিন। মাহাথির মোহাম্মদ এই মাঠের পুরনো খেলোয়াড়। বুড়ো হাড়ে তিনি যে আবার ভেলকি দেখাবেন না, কে বলতে পারে। চলতি মাসেই ৯৫-এ পা দিয়েছেন তিনি। নব্বইয়ের কোটাতে এসেই সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন মাহাথির।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ