আওয়ার ইসলাম: ভারতের লাদাখ সীমান্তে চীনের হামলায় ভারতীয় বেশ কয়েকজন সেনা নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য দফায় দফায় বৈঠক হলেও এখনো ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই দেশই সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছে দু’দেশই।
জানা যায়, সম্প্রতি এক নিবন্ধে ভারতের সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জে আর মুখোপাধ্যায় বলেছেন, লাদাখসহ আরো বেশ কয়েকটি অঞ্চল দখলের বিষয়ে চীনারা নজর রাখছে। সেখানে চীন-ভারত উত্তেজনার আদ্যোপান্ত নিয়ে লিখেছেন তিনি।
নিবন্ধটিতে জে আর মুখোপাধ্যায় বলেন, চীনের নীতি নির্ধারকেরা চান, মধ্যবর্তী সাম্রাজ্যের সেই পুরনো হিসেবের পথে এগুতে। প্রাচীনকাল থেকেই চীনারা তাদের দেশকে 'মধ্যবর্তী সাম্রাজ্য' বলে থাকেন। আর সেই পথে এগুতে তারা পাঁচটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সেগুলো হলো- আর্থিক বৃদ্ধি ও উন্নয়ন, ভরসা অর্জন, প্রতিকূলতার মোকাবেলা, সম্পদের বহুমুখী ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাইওয়ানকে কোণঠাসা করা।
সুপারপাওয়ার হওয়া চীনের দীর্ঘদিনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা। সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দুনিয়া এবং ভারত ও জাপানের মতো রাষ্ট্রগুলো সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের পথে বাধা বলে মনে করে তারা।
আর সেই বাধা দূর করতে তাইওয়ানকে দখল করে নিজেদের বন্দরগুলো সুরক্ষিত করা, অধিকৃত তিব্বত ও শিনজিয়াংয়ের পাশাপাশি মঙ্গোলিয়াকে নিয়ে গড়া 'বাফার জোন' এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ করা। কারণ এগুলো চীনাদের বাণিজ্য ও কৌশলগত শক্তির উৎস। এ ছাড়া সেখানের খনিজ সম্পদ নিয়ন্ত্রণ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তাদের লক্ষ্য।
ভারতের উত্তর-পূর্বে চীন অধিকৃত তিব্বতের সঙ্গে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার সীমান্তবর্তী এলাকার বড় একটি অংশ চীন অবৈধভাবে দখল করেছে কিংবা দাবি করছে। ১৯৬২ সালের যুদ্ধে তারা প্রায় ৩৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার আয়তনের লাদাখ লাগোয়া আকসাই দখল করেছিল। এরপর ১৯৬৩ সালের ২ মার্চ বেআইনি চুক্তির মাধ্যমে ৫ হাজার ১৮০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা চীনকে দিয়ে দেয় পাকিস্তান। তারপরও এখন পূর্ব লাদাখের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দাবি করছে চীন।
১৯৪৯ সালে চীনা ফৌজ শিনজিয়াং এবং তিব্বত দখল করার পর থেকেই লাদাখ বিতর্কের সূচনা হয়। এরপর ১৯৫৯ সালে তৎকালীন চীনা প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই জওহরলাল নেহরুকে একটি চিঠি দেন। সেই চিঠির মাধ্যমে আকসাই চীনের অধিকার দাবি করে তারা। যদিও ততদিনে চীন ওই এলাকা দখল নিতে শুরু করে এবং পরবর্তী দুই বছরে তারা আরো অগ্রসর হয়।
সবমিলিয়ে লাদাখের প্যাংগং লেকের একটি বড় অংশ, গালওয়ান নদী উপত্যকার একাংশ, দেপসাং সমভূমির আশপাশের এলাকা, চুমার, হট স্প্রিং, ডেমচক, দৌলত বেগ ওল্ডি-সহ বেশ কিছু এলাকাকে নিজেদের দাবি করে তারা। ওই এলাকাগুলোর সীমানা জুড়েই লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি)। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৫৯৭ কিলোমিটার। চীন এখন দাবি করছে, পুরো লাদাখই তাদের। এ দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং বাস্তবে এর কোনো প্রমাণ নেই।
-এটি