আবদুল্লাহ তামিম।।
ক্রমে আরো অশান্ত হয়ে ওঠছে ভারত, রাজধানী দিল্লিতে রাজপথে দেখলেই গুলির নির্দেশ! মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৩। এদিকে দেশের এ কঠিন পরিস্থিতিতে দারুল উলুম দেওবন্দের মসজিদে কদিমে গতকাল এশার পর অশ্রুসিক্ত দোয়া অনুষ্ঠান হয়।
দোয়ায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি কামনা করে দারুল উলুম দেওবন্দের শতাধিক ছাত্র-শিক্ষক অংশ নেন। বিশেষ করে দিল্লির সংঘর্ষে আহত ও নিহতদের জন্য দোয়া করা হয়।
ভারতীয় পত্রিকার বরাতে জানা যায়, মৌজপুর, ব্রহ্মপুরী, ভজনপুরা চক, গোকুলপুরী-সহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে দফায় দফায় সংঘর্ষ।
এদিকে, দিল্লির একটি মসজিদে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। দিল্লি একটি মসজিদে গেরুয়া পতাকা টানিয়ে হামলা ভাঙচুর করে উগ্রবাদী হিন্দুরা। মসজিদের মিনারে গেরুয়া পতাকা টানিয়ে দেয়।
দিল্লির চার জায়গায় জারি কারফিউ। জারি হল ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ (দেখা মাত্র গুলি)-এর অর্ডার। মৌজপুর, জাফরাবাদ, কারওয়ালনগরে, চাঁদবাগে জারি কারফিউ। এরই মধ্যে এসএন শ্রীবাস্তবকে স্পেশাল কমিশনার (আইন-শৃঙ্খলা) নিয়োগ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাত পর্যন্ত দিল্লিতে মৃতের সংখ্যা ১৩। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন সাংবাদিকও। আহতের সংখ্যা হুহু করে বাড়ছে। তাদের বেশিরভাগই গুলিবিদ্ধ।
উল্লেখ্য, সিএএ-র বিরুদ্ধে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই অবস্থান বিক্ষোভ চলছিল জাফরাবাদ, সীলামপুর-সহ একাধিক জায়গায়। কিন্তু রবিবার সেখানে সিএএ-র সমর্থনে পাল্টা মিছিল করেন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র। তিন দিনের মধ্যে বিক্ষোভ না সরালে তারা কাউকে মানবেন না, রাস্তায় নেমে আসবেন বলে হুমকি দেন তিনি।
তার পরই জাফরাবাদ-সহ আশাপাশের এলাকার পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। সিএএ বিরোধীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন সিএএ সমর্থকরা। গতকাল মৌজপুর, গোকুলপুরী-সহ একাধিক এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। তাতে এক পুলিশকর্মী-সহ ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হেড কনস্টেবল রতনলাল, শাহিদ, মহম্মদ ফুরকান, রাহুল সোলাঙ্কি এবং নাজিম। বাকি দু’জনকে শনাক্ত করা যায়নি। এ ছাড়াও ইটের আঘাতে ২০০ মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সূত্র: দেওবন্দ মিডিয়া
https://www.facebook.com/427173144135423/videos/174644757319497/?t=4
-এটি