নুরুদ্দীন তাসলিম।।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের চীফ ইয়োসি চোহান ও সেনাপ্রধান হারতাজ হ্যালও-এর কাতার সফরের পর নতুন একটি বিষয় সামনে এসেছে। আল আকসা দখলে ইসরায়েলকে কাতার সহায়তা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে ফিলিস্তিন।
আরব ও ইসরায়েল ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আবলাগ এর খবরে এ তথ্য ওঠে এসেছে।
আবলাগ জানিয়েছে, মোসাদ প্রধান ও জেনারেল হ্যালোও দুই সপ্তাহ আগে দোহায় যান ২৪ ঘন্টার এক সফরে। দোহার পক্ষ থেকে হামাসকে আর্থিক সহায়তা বন্ধের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা স্থগিত করে গাজা এলাকায় হামাসকে কাতারের আর্থিক সহায়তা চালু রাখতে রাজি করা ছিল এ সফরের উদ্দেশ্য।
ইসরায়েলের কাতার সফরের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফিলিস্তিনিরা। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ বলছেন, কাতারের কাছে ডলারের বিনিময়ে আমাদের আত্মমর্যাদা বিক্রি করেছে হামাস। পয়সার বিনিময়ে হামাসকে দমিয়ে রেখে ইসরাইলকে কোন প্রতিরোধ ছাড়াই কুদস দখলে সহায়তা করতে চায় দোহা।
ইহুদিদের ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের বিপরীতে শুধুমাত্র খাদ্য ও চিকিৎসাকে ফিলিস্তিনের প্রধান সমস্যা বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। হামাসের প্রতি আর্থিক সহায়তা জারি রেখে এক দিকে আল কুদসের উপর ইসরাইলের দখলদারিত্বকে শাক্তিশালী করছে কাতার।অপর দিকে ফিলিস্তিনিদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ বাড়াচ্ছে।
ফিলিস্তিনের সাধারেসংগঠনগুলো বলছে, তেল আবিবে ইসরাইলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে সফল করতে সহায়তা করছে কাতার। ফিলিস্তিনি এক বুদ্ধিজীবী বলেন ইসরাইল গাজায় শান্তি চাচ্ছে এমন সময় যখন হামাস আর্থিকভাবে কারো সহায়তার মুখোপেক্ষী। ইসরায়েল ফিলিস্তিন দুই দেশের প্রয়োজনই এখন পুরা করছে কাতার।
ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী এভিগডর লিবারম্যান বলছেন মোসাদ প্রধান ও জেনারেলের দোহা সফরের উদ্দেশ্য ছিল কাতার যেন হামাসের প্রতি সহায়তা জারি রাখে। কাতারের প্রতি হামাসকে মাসে ১৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা করার দাবি জানিয়েছে ইসরাইল কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েলি এক টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লিবারম্যান বলেছেন,মূলত প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বার্তা নিয়ে কাতার সফরে গিয়েছিলেন মোসাদ প্রধান ও সেনাপ্রধান। ৩০ মার্চের পরও হামাসকে কাতারের সহায়তা জারি রাখার আবেদন করা হয়েছে এ সফরে। কেননা৩০ মার্চের পর কাতার হামাসকে সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
ইসরায়েল সাবেক এ প্রতিরক্ষা প্রধান আরো বলেন মিসর ও কাতার হামাসের উপর অসন্তুষ্ট। তারা হামাসের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায়। হামাসের প্রতি নেতানিয়াহুর হঠাৎ এমন বন্ধু সূলভ আচরণকে ফিলিস্তিন থেকে নেতানিয়াহুর সন্ত্রাসবাদ দমনের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন লিবারম্যান।
আল আরাবিয়া সংবাদদাতার বরাতে জানা গেছে ৬ মাসের মধ্যে মোসাদ প্রধানের এটি দ্বিতীয় দফা কাতার সফর ছিল। যার উদ্দেশ্য মোসাদের প্রতি কাতারের আর্থিক সহায়তা জারি রাখা।
আর আরাবিয়া অবলম্বনে নুরুদ্দীন তাসলিম।
-এটি