সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


টিকটকে ওয়াজ নিয়ে মশকরা; দায় কার, বন্ধ হবে কবে?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আলী আবদুল মুনতাকিম ।।

‘জোরে চিল্লাইয়া কন, ঠিক না বেঠিক’। ‘এ যুবক আওয়াজ দে’। ‘আরও জোরে-হু হু, বইসা যান-হুহু’।

এক শ্রেণির আলেম বক্তার মাহফিলের মঞ্চে উক্ত বাক্যগুলো ছুড়ে দেয়া মুদ্রাদোষে পরিণত হয়েছে। সিনেমার গান নকল করে গাওয়া, সিগারেট পানের নানাহ স্টাইল দেখানো, নোয়াখালী-সিলেট-চিটাগাং এর ভাষা নকল করে শ্রোতাদর্শকদের হাসানো, ওয়াজের মঞ্চে লাফ দেয়া, শ্রোতারা মঞ্চে এসে হুজুরের গলা চেপে ধরা, মাইক ছুড়ে ফেলা, মঞ্চের পর্দা ছিড়ে ফেলা, লাফ দিয়ে শামিয়ানার চূড়ায় উঠে পড়া, এগুলো বক্তারা আবার উপভোগ করে এই ভেবে যে তার কথায় শ্রোতারা ফানাফিল্লাহ হয়ে গেছেন, জোরে চিৎকার দেয়া বা ধমক দিয়ে নিজের বড়ত্ব জাহির করা ইত্যাদি এখন ওয়াজের উপাদান। বক্তাগণ ছাফাই গেয়ে বলেন মাহফিল জমানোর স্বার্থে এগুলো করতে হয়। শুধু বলব- ছিঃ ছিঃ…।

টিক টক আর ইউটিউব ওয়ালারা মাহফিলের এসব বাক্য নিয়ে যাচ্ছে তাই বিদ্রুপ করে যাচ্ছে। হাজারো ভিউয়ার এগুলো দেখে মাওলানাদের গালি তো দিচ্ছেই বরং অস্বাভাবিকভাবে তরুণ- যুবকদের ওয়াজবিমূখী হতে দেখা যাচ্ছে।

আমি আমার এক নিকটাত্মীয়কে বললাম, ইউটিউব-টিকটকে সময় নষ্ট না করে ইউটিউবে ওয়াজ শোনা ভাল নয় কি। এটিতো ধর্মীয় ক্লাসের মত, ক্লাসটি করলে অনেক কিছু শিখতে পারবেন।

তিনি আমাকে জবাব দিলেন, ইউটিউবে সার্চ দিলে তো আগে চলে আসে মোল্লাদের কণ্ঠে জেমস্ আর মমতাজের গান। নোয়াখালী সিলেটের ভাষার ব্যাংঙ্গ বিদ্রুপ। শুনে দেখেছি। ওয়াজের কথাগুলো বা আমলের কথাগুলো মনে থাকে না। মনে থাকে তাদের ব্যাঙ্গ করা গান আর হরিণীর বাঘিনীর কিসসা-কাহিনি।

আমি ভীত হয়ে গেলাম।বলে কি? হেদায়েত পাওয়ার একটা বড় মাধ্যম তো মাহফিল। কে গোপালগঞ্জ এর জামাই, কোন আলেমের কথায় পুলিশ উঠাবসা করে, ১৫০ মাইল গতিতে কোন হুজুর গাড়ি চালায়, কোন হুজুর নতুন গাড়ি কিনে প্রথম মাকে উঠিয়েছে, কোন হুজুর ১৫০০০ মাহফিলের দাওয়াত পেয়ে মাত্র ৯০ টি সিলেক্ট করেছে। কোন আলেমের ছাত্রের ছাত্র হওয়ার যোগ্যতাও আরেক আলেমের নেই। কোন গোত্রকে কাফের না বললে তারাও মুরতাদ কাফের হয়ে যাবে ইত্যাদি এখন ওয়াজের প্রধান খাদ্য। এগুলো শুনে শ্রোতাদের জোরে সুবহানাল্লাহ বলতে বাধ্য করা হয়। ১৫০ মাইল গতিতে গাড়ি চালান শুনিয়ে শ্রোতাদের বলেন, সুবহানাল্লাহ বলুন। কেন বলতে হবে?

এক ইউটিউবার আমেরিকায় বসে তার ভাষায় এক অহংকারী-দাম্ভিক আলেম জিহাদিকে রোষ্ট করে প্রোগ্রাম পোস্ট করেছেন। রোস্টিং পোস্ট এর জবাবে তিনি ওই ইউটিউবারকে অন্য মাহফিলের মঞ্চে এমন ধমক দিয়েছেন যা এখন প্রচন্ড ভাইরাল। জিহাদি সাহেব ওই ইউটিউবারকে ক্যানসারে বা এক্সিডেন্টে মৃত্যুর বদদোয়া করে