বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ ।। ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ায় ৩ শিশুর মৃত্যু সিলেটে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী, শ্রীমঙ্গলের পথে যাত্রা স্বপ্নে জীবিত দেখে মৃত্যুর ১৮ দিন পর কবর খনন, এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ‘দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে ইনসাফভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ার সময় এখনই’ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী জার্মানি  ‘ডিএনসিসি’র হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা: আয়োজক ও প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ৮৪ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, ইসরায়েলকে ইরানের হুঁশিয়ারি ১০ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত মাদরাসার বেতন সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অল্প বয়সেই হাফেজ হয়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে রুবায়েত ও মৃদুল

মূলহোতাসহ গুজরাট দাঙ্গা-গণহত্যায় অভিযুক্তরাও খালাস!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: গতকাল শুক্রবার নারোদা পাটিয়া গণহত্যা মামলায় গুজরাট হাইকোর্ট  এক রায়ে রাজ্যের তৎকালীন মন্ত্রী ও বিজেপি নেত্রী মায়া কোদনানিকে বেকসুর খালাস দিয়েছে। অন্যদিকে, হিন্দুত্ববাদী বজরং দলের সাবেক নেতা বাবু বজরঙ্গিকে নিম্ন আদালতের দেয়া যাবজ্জীবন সাজা কমিয়ে ২১ বছর করা হয়েছে।

২০০২ সালে ভারতের গুজরাটের নারোদা পাটিয়ায় ভয়াবহ গণহত্যায় হাইকোর্টের রায়ে ক্ষতিগ্রস্ত মুসলিমরা হতাশ হয়েছেন। অভিযুক্তরা রেহাই পাওয়ায় তারা হতাশা ব্যক্ত করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা সুবিচার পেলেন না বলে আক্ষেপ করেন।

গুজরাট হাইকোর্ট জানায়, সাক্ষীদের বক্তব্যে যথাযথ মিল না থাকায় তথ্যপ্রমাণের অভাবে মায়া কোদনানিকে বেকসুর খালাস দেয়া হল। কিন্তু এর আগে নিম্ন আদালত নারদা পাটিয়া দাঙ্গা মামলার শুনানিতে মায়া কোদনানিকে ওই ঘটনার ‘মূলহোতা’ বলে চিহ্নিত করেছিল।

অপরদিকে অভিযুক্ত বাবু বজরঙ্গিকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছিল নিম্ন আদালত। গতকাল শুক্রবার সেই সাজা কমিয়ে তাকে ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে হাইকোর্ট।

মায়া কোদনানি ছাড়াও বিশেষ সিট আদালতে সাজা হয়েছিল এমন মোট ১৮ জনকে হাইকোর্ট বেকসুর খালাস ঘোষণা করেছে।

মায়া কোদনানি গুজরাটে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-মন্ত্রিসভায় নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার পরবর্তী সময়ে নারোদা পাটিয়ায় যে গণহত্যা সংঘটিত হয়, নিজে উপস্থিত থেকে তিনি সেই দাঙ্গা পরিচালনা করেছিলেন।

আদালতের ওই রায়ের পর নারোদো পাটিয়ার ভয়াবহ ওই গণহত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মুসলিমরা তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

মায়া কোদনানির রেহাই প্রসঙ্গে রুকসানা নামে ক্ষতিগ্রস্ত এক নারী বলেন, তার পরিবারের দু’জনকে হত্যা করা হয়েছিল। তার মা ও বোনসহ আশেপাশের অনেককে সেসময় হত্যা করা হয়েছিল। ওই রায়ে তারা খুশি নন।

কারণ, একজন নারী হয়ে নারীদের সঙ্গে সেদিন পাশবিক উন্মুক্ত তাণ্ডব ঘটিয়েছিলেন। লোকদের হত্যা করিয়েছিলেন। নারী হয়ে উনি নারীর সম্মান দেননি। যদি এ ধরণের আচরণ ওনার সঙ্গে বা ওর মেয়ের সঙ্গে হতো তাহলে কী হতো?

শরিফা বিবি শেখ নামে এক ক্ষতিগ্রস্ত নারী বলেন, আমার ১৬ বছরের ছেলেকে আমার সামনে হত্যা করা হয়েছিল। তলোয়ারের আঘাতে হত্যা করে তাকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। আদালতের রায়ে হৃদয় ভারাক্রান্ত।’

‘আমাদের পরিবারের ৮ জনকে হত্যা করা হয়েছিল, তাদেরকে কেটে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। আদালতে আমরা সাক্ষী দিয়েছি, বিচারকের সামনে আমরা বলেছিলাম, আমাদের চোখের সামনে ওরা এসব কাজ করেছিল, ওদেরকে আমরা চিনি। এরা এভাবে হত্যা করেছে, কেটেছে, তরুণীদের ধর্ষণ করেছিল। ওদেরকে আজ নিরপরাধ বলা হচ্ছে! কোনো সুবিচার পেলাম না আমরা।’

সে সময় ছোট ছোট মাসুম শিশুদের হত্যা করা হয়েছে, যুবতী মেয়েদের ধর্ষণ করা হয়েছে। আমরা কী তাহলে অপরাধী? যদি ওদের অপরাধ না পাওয়া যায় তাহলে ওদের বেকসুর রেহাই দিয়ে আমাদের সঙ্গে যে জুলুম হয়েছে সেজন্য আমাদের গ্রেফতার করুন। আপনারা যখন ওদের সাজা দিতে পারবেন না তাহলে এসবের সাজা আমাদের দিন।’

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে গুজরাটের নারোদা পাটিয়ায় ভয়াবহ গণহত্যায় ৯৭ জন মুসলিম নিহত ও বহু মানুষ হয়েছিলেন।

এইচজে


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ