শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ।। ২১ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সিলেটের জামেয়া আশরাফিয়া ইসলাম নগর মাটিজুড়ার বার্ষিক মাহফিল ৮ নভেম্বর ইসলামী যুব আন্দোলন খুলনা মহানগরের সভাপতি আব্দুর রশিদ, সম্পাদক মুফতি মঈনুল ইসলাম রাজধানীতে বৈশাখী পরিবহনের বাসে আগুন  বৃষ্টি নিয়ে আবারও সতর্কবার্তা আবহাওয়া অধিদপ্তরের গণভোট নিয়ে জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে সরকার: আমিরে মজলিস জুহাইমানের দখলে কাবা, দুই সপ্তাহ বন্ধ ছিল জুমার খুতবা দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধন বাবুনগর মাদরাসার মাহফিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি শ্রমিক মজলিসের জামিয়া কাসিমুল উলূমের ৮৫তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ৭ নভেম্বর  

বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার এখন ভিক্ষুক!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: ‘স্যার আমাকে ১০টি টাকা দেন। রুটি খাবো। খুব খিদে পেয়েছে। কদিন ধরে খায়নি কিছু’। সামনে কোনো ভদ্রলোক পেলে স্যালুট দিয়ে সৈনিকের অঙ্গভঙ্গিমায় নম্র ভাষায় ভিক্ষুকের মতো হাত বাড়িয়ে দেন। এমন এক পাগলবেশী মানুষের সন্ধান পাওয়া গেছে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার উত্তর খয়রাকুড়ি গ্রামে।

নাম তার আনোয়ার হোসেন। পিতা মৃত আমিন উদ্দিন সিকদার। ভিক্ষাবৃত্তিই তার একমাত্র পেশা। কারও মন চাইলে টাকা দেন, আবার কেউ মুখ ফিরিয়ে নেন। স্বাধীনতাযুদ্ধের ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতার দাবি জানিয়ে আসছেন। যেই লোকটির জন্ম হয়েছিল ১৯৫২ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭০ সালের ২রা মে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (আর্মি সিরিয়াল নং ১০৩৩৮৩৭)তে যোগ দিয়েছিলেন।

প্রথম ট্রেনিং নেন চিটাগাং। তারপর চলে যান পাকিস্তানের করাচিতে। তিনি জানান, তখন তার সঙ্গে ছিলেন মেজর মোজাম্মেল, মেজর বর্ধন, নায়ক সুবেদার খলিলুর রহমান, হাবিলদার হাছেন আলীসহ অনেকেই। একপর্যায়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে করাচির ডিআই খান সেন্ট্রাল জেলে তাদের বন্দি করে রাখা হয়। একই জেলে ২৫শে মার্চ কালো রাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকেও আটক করে রেখেছিলেন বলে সৈনিক আনোয়ার হোসেন জানান। অবশেষে দেশ স্বাধীন হলে ১৯৭৪ সালের ১৭ই ডিসেম্বর দেশে ফেরার সুযোগ পান। এরপর পুনরায় বাংলাদেশে সেনাবাহিনীতে মনোনিবেশ দেন।

যশোহর ক্যান্টনমেন্টে চাকরি করাবস্থায় চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর থেকে উল্টা দিকে ঘুরে যায় তার ভাগ্যের চাকা। নিয়তির কাছে হার মেনে জীবিন-সংগ্রামে এক দুর্বিসহ জীবন এসে তাকে গ্রাস করে। ভিক্ষাবৃত্তির মতো একটা পেশাকে আঁকড়ে ধরে পাগলবেশে চলে তার জীবন। আনোয়ার বলেন, স্যার আমার একটাই দাবি, সরকার যেন আমার ভাতার ব্যবস্থা করে দেয়। আমিও তো যুদ্ধ করার জন্যে প্রস্তুত ছিলাম। আমাকে যদি বন্ধি করে না রাখা হতো তাহলে মুক্তিযুদ্ধে আমিও তো ঝাঁপিয়ে পড়তাম। লক্ষ্মীকুড়া গ্রামের মতিন বলেন, আর্মি থাকাবস্থায় আনোয়ার আর আমি একই অবস্থায় পাকিস্তানে বন্দি ছিলাম। কিন্তু আমাদের ভাগ্যে কোনো স্বীকৃতি আজও মিলেনি। তিনি বলেন, আমাদের একটাই দাবি- সরকার যেন আমাদের ভাতার ব্যবস্থা করে দেয়। সূত্র: মানবজমিন।

এসএস/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ