150552

পুলিশ পরিচয়ে বাসচালককে হত্যা, ৮৭ রুটে চলছে পরিবহন ধর্মঘট

আওয়ার ইসলাম: গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে বাস থেকে চালককে নামিয়ে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ও সংশ্লিষ্ট ১৯ সড়কপথে এবং চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কসহ সংশ্লিষ্ট ৬৮টি সড়কপথে চলছে ২৪ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট। বুধবার ( ২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এক বৈঠক থেকে এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। ধর্মঘট প্রত্যাহারে বুধবার বিকাল ৫টায় পরিবহন শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বৈঠক করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন।

এতে জেলা পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনাসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠকে প্রশাসনের ডাকে সাড়া দেননি শ্রমিক নেতারা। তারা ধর্মঘটের পক্ষে অনড় অবস্থান নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শ্রমিক ফেডারেশন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক আহ্বান করেছেন। এ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে কিনা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মুসা বলেন, গত সোমবার রাত ৮টায় যাত্রীবাহী বাসটি কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট পার হয়ে শিকলবাহা ভেল্লাপাড়া ব্রিজ এলাকায় আসে। এ সময় ডিবি পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে আনুমানিক ৭ জন পুরুষ বাস থামান। এরপর তারা বাসে উঠে তল্লাশি শুরু করেন।

এক পর্যায়ে তারা ড্রাইভারকে হাতকড়া পরিয়ে বাস থেকে নামিয়ে রাস্তার পাশে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে বেধড়কভাবে পেটানো হয়। পেটাতে পেটাতে আবারও জালালকে বাসের ভেতরে আনে তারা।

এ সময় তারা বলেন, ইয়াবা কোথায় রেখেছিস বল, বের করে দে। ড্রাইভার উত্তর দেন, স্যার আমার কাছে কোনো ইয়াবা নেই। এ কথা শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে ডিবি সদস্যরা তাকে আবারও রাস্তার পাশে অন্ধকারের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়, রাস্তায় ফেলে লাথি মারা হয়।

১০ থেকে ১৫ মিনিট পর মুমূর্ষূ অবস্থায় তাকে বাসের ভেতরে ফেলে ডিবি সদস্যরা দ্রুত চলে যায়। এই ঘটনার পরে চট্টগ্রাম শহর থেকে বিকল্প চালক এনে বাসটিকে নগরীর কর্নেলহাট কাউন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।

শ্যামলী পরিবহনের ওই বাসের সুপারভাইজার আজিম উদ্দিন বলেন, রাত আড়াইটার দিকে আমরা ড্রাইভার জালালকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (বন্দর) এস এম মোস্তাইন হোসাইন বলেন, ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের সুপারভাইজার জানিয়েছেন, সেখানে গোয়েন্দা পুলিশ যায়নি। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। মামলা হলে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোস্তাইন হোসাইন বলেন, ‘এটা নৃশংস ঘটনা। খবর পাওয়ার পর কর্ণফুলী ও পটিয়া থানার পুলিশের সঙ্গে নগর গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ দল তদন্ত শুরু করেছে। আমরা আশাবাদী, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আইনের আওতায় আসবে।’

এমএম/

ad

পাঠকের মতামত

৩ responses to “ইসলামি ইতিহাসে আল্লাহর আনুগত্যের সাক্ষী মসজিদুল কিবলাতাইন”

  1. hello!,I really like your writing very a lot! share we keep in touch extra approximately your article on AOL?
    I require an expert in this space to solve my problem.

    May be that is you! Looking ahead to peer you.

  2. Hello it’s me, I am also visiting this website on a regular basis, this site is truly fastidious and
    the users are actually sharing pleasant thoughts.

  3. Hi, i think that i saw you visited my website so i came to “return the
    favor”.I’m trying to find things to enhance my website!I suppose its ok to use some of your ideas!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *