সোমবার, ২০ মে ২০২৪ ।। ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ ।। ১২ জিলকদ ১৪৪৫


আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস: পরিবার গঠনে ইসলামের নির্দেশনা 

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
প্রতীকি ছবি

|| মুফতি মাহমুদ হাসান ||

আজ ১৫ মে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস। পরিবার সমাজের মৌলিক একক ভিত্তি। এর দ্বারাই সমাজ গঠিত হয়।পরিবারের সকল সদস্যই সমাজ গঠনকারী স্তম্ভ। এই স্তম্ভ যত শক্তিশালী ও স্থিতিশীল হবে সমাজ তত সুন্দর এবং শক্তিশালী হবে। তাই প্রত্যেক সভ্যতা সমাজ গঠনে পরিবারের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারপ করে থাকে।

পারিবারিক মূল্যবোধ সংরক্ষণেই সমাজকে সামাজিক জীবনের উত্থান-পতন থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। বর্তমান সময়ে পশ্চিমা সভ্যতার আক্রমণ চলছে। আমাদের সমাজকে পশ্চিমা রঙ্গে রাঙ্গানোর ব্যাপারে মিডিয়ার প্রচারণা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে সব ক্ষেত্রে ইসলামের পরিবার ব্যবস্থার পরিপূর্ণ দিক-নিদর্শনাকে জীবনে কাজে লাগানো অত্যাবশ্যক।

পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখার কিছু নির্দেশনা:

১.পরিবার সর্বোত্তম আশ্রয় : মানুষের  সর্বোত্তম আশ্রয় পরিবার। একমাত্র পরিবার মানুষের বৈষয়িক ও মানসিক আশ্রয়।পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাঁর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই মধ্য হতে স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে গিয়ে শান্তি লাভ কর এবং তিনি তোমাদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এর ভেতর নিদর্শন আছে সেই সব লোকের জন্য, যারা চিন্তা-ভাবনা করে। (সুরা রোম, আয়াত : ২১)

.পারিবারিক সম্পর্ক অটুট রাখা: সমাজে পারিবারিক সম্পর্ক অটুট থাকলে মানুষ বহু ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়। কেননা তারা পরস্পরকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আত্মীয়গণ আল্লাহর বিধানের একে অন্য অপেক্ষা অধিক হকদার। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত। ’ (সুরা আনফাল, আয়াত : ৭৫)


৩.পারিবারিক বন্ধন রক্ষায় পার্থিব লাভ : বর্তমান দেখা যায় অনেক মানুষ পার্থিব লাভ-ক্ষতির বিবেচনা করে পরিবার-পরিজনকে এড়িয়ে চলে। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সা. সম্পর্ক রক্ষাকারীর জন্য পার্থিব কল্যাণের সুসংবাদ দান করেছেন। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি চায় তার জীবিকা প্রশস্ত হোক এবং আয়ু বৃদ্ধি পাক সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৮৬

৪.ইবাদতের নামেও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা কাম্য নয় : ইসলাম পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন জীবন অনুমোদন করে না। এমনকি আল্লাহর অধিক ইবাদতের জন্য পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার অনুমতি নেই। ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলেন, ‘ইসলামে বৈরাগ্যবাদের কোনো স্থান নেই। বিয়ে পরিহারের কারণে মানুষ বহু কল্যাণ ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়। ’ (ফিকহুস সুন্নাহ : ৩/৩৬)

৫.কষ্ট সত্ত্বেও পরিবার থেকে দূরত্ব নয় : পারিবারিক জীবনে কোনো সংকট দেখা দিলে তা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। চলার ক্ষেত্রে পারিবারিক জীবনে নানা ধরনের সংকট তৈরি হয়। ভুল বোঝাবুঝি ও মতভিন্নতা দেখা দেয়। ইসলাম এমন সমস্যাগুলো উপেক্ষা করে পারিবারিক জীবনযাপনের নির্দেশ দেয়।

ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের সঙ্গে সত্ভাবে জীবনযাপন করবে, তোমরা যদি তাদের অপছন্দ করো, তবে এমন হতে পারে যে আল্লাহ যাতে প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন তোমরা তাকেই অপছন্দ করছ। ’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১৯)

আল্লাহ আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক অক্ষুন্য রাখতে তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: সিনিয়র শিক্ষক:মুনিরুল উম্মাহ যাত্রাবাড়ী ঢাকা।

এনএ/


সম্পর্কিত খবর


সর্বশেষ সংবাদ