শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮


জ্বালানি সংকট নিরসনসহ ১০ দফা প্রস্তাব জমিয়তের শুরা অধিবেশনে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের শুরা অধিবেশনে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমন, কওমি সনদের স্বীকৃতি অনুযায়ী চাকরির সুযোগ সৃষ্টি এবং ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারসহ ১০ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের হলরুমে অনুষ্ঠিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের শুরা অধিবেশন-২০২৬-এ এসব প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদদীন যাকারিয়ার পরিচালনায় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

অধিবেশনে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোতে বলা হয়, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদ ও সংসদের বাইরে ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনা হলেও জনজীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন ও দ্রব্যমূল্যের ক্ষেত্রে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে সিন্ডিকেট ও স্বার্থান্বেষী মহলের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হাসপাতাল, ব্যবসা, সেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে আইনের নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগের দাবি জানানো হয়। নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বার্থান্বেষী ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রস্তাবে বলা হয়, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। এ ধরনের অভিযোগ ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

কওমি সনদের স্বীকৃতির বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। প্রস্তাবে কওমি দাওরায়ে হাদিস তথা মাস্টার্স সমমানের সনদধারী আলেমদের সরকারি প্রাথমিক ও দাখিল স্তরের কারি শিক্ষক পদে নিয়োগের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে কামিল স্তর পর্যন্ত আলিয়া মাদরাসা এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য সেক্টরে সম্মানজনক পদে কওমি শিক্ষার্থীদের নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানানো হয়।

সরকারি তহবিল থেকে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে তালিকাভুক্তির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ইনসাফভিত্তিক ভাতা বণ্টন নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও মুসলিম জাতিসত্তা-সংস্কৃতি রক্ষায় ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং পশ্চিমা সংস্কৃতির আগ্রাসন মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্যোগের নিন্দা জানানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামের পবিত্রতা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনাগুলোরও নিন্দা জানিয়ে এ ধরনের ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ