শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ ।। ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১১ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :

চুপ্পুর পদত্যাগ যথেষ্ট নয়, বিচারের মুখোমুখি করতে হবে: বিকেএম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর পদত্যাগকে স্বাগত জানালেও এটিকে যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (বিকেএম)। দলটির আমির মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর থেকেই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর রাষ্ট্রপতির পদে থাকার নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা ছিল না। সে সময় থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশীজন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল।

তারা অভিযোগ করেন, সে সময় বিএনপি রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগের দাবির সঙ্গে একাত্ম হয়নি; বরং তাকে রাষ্ট্রপতির পদে বহাল রাখার পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। পরে বিএনপির অবস্থান পরিবর্তনের পর তিনি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করে তারা বলেন, এতে জনমনে এ প্রশ্ন তৈরি হয়েছে যে, এই পদত্যাগের পেছনে কেবল নীতিগত কারণ, নাকি রাজনৈতিক সমীকরণও কাজ করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ প্রসঙ্গে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য তার নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক দায়িত্ববোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ক্ষুণ্ন করেছে বলে দাবি করেন তারা।

মামুনুল হক ও জালালুদ্দীন আহমদ আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, সংবিধান লঙ্ঘন এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এস আলম গ্রুপের ব্যাংকিং-সংক্রান্ত অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে সহযোগিতার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিচারিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

তারা বলেন, যে কারণেই সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পদত্যাগ করে থাকুন না কেন, তার পদত্যাগে দেশের মানুষ স্বস্তি অনুভব করছে। তবে শুধু পদত্যাগের মাধ্যমে তার দায় শেষ হয়ে যায় না। তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে উত্থাপিত সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে খেলাফত মজলিসের শীর্ষ দুই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ক্ষমতার অপব্যবহার, সংবিধান লঙ্ঘন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার এবং জনগণের অধিকার হরণে জড়িত সব ব্যক্তি ও সহযোগীর বিরুদ্ধেও দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, দেশের মানুষ কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা গোপন সমীকরণ নয়; বরং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের পুনরাবৃত্তি রোধে সকল অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ