শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ ।। ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১১ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :

জামায়াত জোট ছাড়ছে খেলাফত মজলিস!


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি: 

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক খেলাফত মজলিসে জোট নিয়ে অসন্তোষ চলছে বেশ কিছু দিন ধরে। জোটে যথাযথ মূল্যায়িত না হওয়ার অভিযোগ দলটির। এজন্য তৃণমূলের পক্ষ থেকে খেলাফত মজলিসকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়ার ব্যাপারে ছাপ দেওয়া হচ্ছে নির্বাচনের পর থেকেই। এবার সে পথেই হাঁটছে খেলাফত মজলিস। ১১ দলের সঙ্গে খেলাফত মজলিসের দূরত্ব এখন অনেকটাই স্পষ্ট। রংপুর বিভাগীয় সমাবেশের পর সিলেটের সমাবেশেও যোগ দিচ্ছে না খেলাফত মজলিস। আগামীকাল শনিবার (২৫ জুলাই) সিলেটে যখন সমাবেশ, তখন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় শূরার বৈঠক হবে ঢাকায়। সেখানে ঘোষণা দিয়ে জোট ত্যাগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে। 

শনিবার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের। তবে সমাবেশে খেলাফত মজলিসের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত থাকছেন না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সমাবেশের প্রচারণার জন্য তৈরি ব্যানার ও পোস্টারেও খেলাফত মজলিসের কোনো নেতার নাম রাখা হয়নি। বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে দলটির জোট থেকে দূরত্ব তৈরির স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সিলেট নগরের রেজিস্ট্রারি মাঠে আয়োজিত খেলাফত মজলিসের সমাবেশ ও গণমিছিল শেষে জেলা সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ বলেন, শনিবার ঢাকায় কেন্দ্রীয় শূরা সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকেই নির্ধারিত হবে খেলাফত মজলিস ১১ দলীয় ঐক্যে থাকবে কি না। একই দিনে শূরা বৈঠক থাকায় দলের শীর্ষ নেতারা সিলেটের সমাবেশে অংশ নেবেন না।

 

অন্যদিকে, ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা সিলেটের সমাবেশ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে আলিয়া মাদরাসা মাঠে মঞ্চ নির্মাণ, লিফলেট বিতরণ, প্রচার মিছিল ও মাইকিংসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির ও ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় সমন্বয়ক মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, খেলাফত মজলিসের কেউ সমাবেশে থাকবেন কি না, তা আমরা নিশ্চিত নই। তারা জোট ছাড়ছেন—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্যও আমাদের কাছে নেই। তবে সমাবেশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং এখান থেকেই আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচির দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, রাজশাহী থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক বিভাগীয় সমাবেশের শেষ আয়োজন হবে সিলেটে। এখান থেকেই নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করবেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তবে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী জোট ছাড়ার বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি আওয়ার ইসলামকে বলেন, জামায়াতসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনি সমঝোতা হয়েছে, রাজনৈতিক জোট হয়নি। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কয়েকটি যৌথ কর্মসূচি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু যেহেতু আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক জোট হয়নি, তাই জোটে থাকা বা না থাকার প্রশ্নও সেভাবে আসে না।

মাওলানা মামুনুল হক এবং তার দলের দিকে ইঙ্গিত করে খেলাফত মজলিসের একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ার ইসলামকে বলেন, জোটে নির্বাচনের আগ থেকেই আমরা অবমূল্যায়িত। একটি ইসলামি দল বা একজন নেতাকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে বাকিদের মর্যাদাহানি করা হয়েছে। আসন বণ্টনের ক্ষেত্রেও আমরা বৈষম্যের শিকার। যে দলটিকে আমাদের চেয়ে বেশি আসন দেওয়া হয়েছে তাদের সাংগঠনিক কাজ কোনোক্রমেই আমাদের চেয়ে বেশি নয়। তারপরও আমরা ঐক্যের খাতিরে সেটা মেনে নিয়েছি। কিন্তু নির্বাচনের পরও সেই বৈষম্য দেখা যাচ্ছে। আমাদের সেভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। ফলে আমরা জোটে থাকব কি না সেটা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। যেহেতু তৃণমূলের পক্ষ থেকে জোট ছেড়ে স্বতন্ত্রভাবে সংগঠনকে জোরদার করার চাপ আছে, এজন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সেভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছেন।

আওয়ার ইসলাম/জেডএম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ