রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ১১ মাঘ ১৪৩২ ।। ৬ শাবান ১৪৪৭


সিলেট-৩ আসনে মাওলানা রাজুকে জেতাতে ঐক্যবদ্ধ ১১ দল

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে রিকশা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু। জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সবাই তাকে সমর্থন দিয়েছেন। জোটের এই প্রার্থীকে জেতাতে এককাট্টা হয়েছে সব দল। 

এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন দক্ষিণ সুরমার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ। এছাড়া এনসিপি ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীও সক্রিয় ছিলেন মাঠে। তবে শেষ পর্যন্ত জোটের সমীকরণে এই আসনটি পায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটি প্রার্থী করে তরুণ প্রভাবশালী আলেম হাফেজ মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজুকে। ইতোমধ্যে তিনি ভোটের প্রচারে সাড়া ফেলেছেন। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। জনসাধারণও তাকে ঘিরে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে। 

জোট থেকে মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর মাওলানা রাজু ছুটে যান জামায়াতের মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদের বাড়িতে। তার সঙ্গে কোলাকুলি করে সহযোগিতা চান। মাওলানা লোকমান আহমদও সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। 

ইতোমধ্যে রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদসহ তিন উপজেলার জামায়াত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে মাওলানা লোকমান আহমদ জানান, প্রতীক পরিবর্তন হলেও ১১ দলকে আসনটি উপহার দিতে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা প্রাণপণে চেষ্টা করবেন। তিনি সবাইকে ভোটের প্রচারে সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দেন। 

এ সময় মাওলানা রাজু মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের ত্যাগ ও কোরবানির কথা স্মরণ করেন এবং তাদের উপযুক্ত প্রতিদানের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। এ সময় তিনি জানান, তার বিজয় মানে এগার দলের বিজয়। এজন্য কে প্রার্থী হয়েছেন সেটা না দেখে এগার দলকে ভোটের মাঠে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু। 

এছাড়া মনোনয়ন বঞ্চিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন শুরু থেকেই মাওলানা রাজুকে সমর্থন দিয়ে আসছেন। তারা রাজুকে সঙ্গে নিয়ে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। 

মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু সক্রিয় রাজনীতিতে না থাকলেও ছাত্রজীবনে ছাত্র মজলিসের তুখোড় নেতা ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি শিক্ষা ও সেবামূলক নানা কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। তিনি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়া গহরপুরের প্রিন্সিপাল। কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সহসভাপতি ও অন্যতম নীতিনির্ধারক। কওমি বোর্ডগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা আল-হাইয়্যাতুল উলয়ারও তিনি সদস্য। প্রভাবশালী তরুণ আলেম হিসেবে সারাদেশে তার পরিচিতি রয়েছে।

মুসলেহ উদ্দীন রাজুর বাবা ছিলেন প্রখ্যাত আলেম শাইখুল হাদিস আল্লামা নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরী, যিনি কওমি শিক্ষাবোর্ডের প্রায় নয় বছরের সভাপতি ছিলেন। বাবার পরিচিতি এবং নিজের বহুমুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মাওলানা রাজু এলাকাবাসীর কাছে আগে থেকেই জনপ্রিয়। ১১ দলীয় জোটের সমর্থন পাওয়ায় এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এম এ মালেকের সঙ্গে রিকশা প্রতীকের রাজুর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ