সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোটের সমর্থন পেয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু। আনুষ্ঠানিক প্রচারের শুরুতেই তিনি এলাকাবাসীর দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। নিজ প্রতীক রিকশা নিয়ে তিনি ছুটে বেড়াচ্ছেন এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত। সংসদীয় আসনের প্রতিটি এলাকায় পৌঁছার টার্গেট নিয়েছেন তিনি।
এই আসনে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও খেলাফত মজলিসের তিনজন শক্তিশালী প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তাদের পেছনে ফেলে মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু জোটের মনোনয়ন আনতে সক্ষম হন। তবে তিনি মনোনয়ন পেয়েই ছুটে যান মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের দুয়ারে। তাদের সঙ্গে নিয়েই তিনি প্রচার কাজ চালাচ্ছেন।
মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা দেলওয়ার হোসাইনের কাছে ছুটে যান। তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। তারাও আন্তরিকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচারের শুরুর দিন বৃহস্পতিবার দিনভর রিকশা প্রতীকের প্রার্থী ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে ছুটে যান এবং রিকশা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। এদিন তার সঙ্গে প্রচারে যোগ দেন এনসিপির ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ ও খেলাফত মজলিসের মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন।
কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে রাজু জানান, তিনি জিতে যাওয়া মানে দশ দল জিতে যাওয়া। তিনি এমপি হওয়া মানে মাওলানা লোকমান আহমদ, ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ ও মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন এমপি হওয়া। এবারের নির্বাচনে একক কোনো দল বা প্রার্থী নয়, সবাই সম্মিলিতভাবে এমপি হবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় মনোনয়ন বঞ্চিত ব্যারিস্টার জুনেদ ও মাওলানা দেলওয়ার সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং নিজ দলের কর্মী-সমর্থকদের প্রতিও কাজ করার আহ্বান জানান।
শুক্রবার ভোটের প্রচারের দ্বিতীয় দিনে মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু বালাগঞ্জের দেওয়ানবাজার, মোরারবাজারসহ আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ করেন। কয়েকটি উঠান বৈঠকেও যোগ দেন। এ সময় এলাকাবাসীকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। তারা রিকশা প্রতীককে যেকোনো মূল্যে বিজয়ী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু সক্রিয় রাজনীতিতে না থাকলেও ছাত্রজীবনে ছাত্র মজলিসের তুখোড় নেতা ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি শিক্ষা ও সেবামূলক নানা কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। তিনি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়া গহরপুরের প্রিন্সিপাল। কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সহসভাপতি ও অন্যতম নীতিনির্ধারক। কওমি বোর্ডগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা আল-হাইয়্যাতুল উলয়ারও তিনি সদস্য। প্রভাবশালী তরুণ আলেম হিসেবে সারাদেশে তার পরিচিতি রয়েছে।
তার বাবা ছিলেন প্রখ্যাত আলেম শাইখুল হাদিস আল্লামা নূরউদ্দীন আহমদ গহরপুরী, যিনি কওমি শিক্ষাবোর্ডের প্রায় নয় বছরের সভাপতি ছিলেন। বাবার পরিচিতি এবং নিজের বহুমুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মাওলানা রাজু এলাকাবাসীর কাছে আগে থেকেই জনপ্রিয়। ১০ দলীয় জোটের সমর্থন পাওয়ায় এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এম এ মালেকের সঙ্গে রিকশা প্রতীকের রাজুর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরএইচ/