বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ।। ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ৯ মহর্‌রম ১৪৪৮


কালেমার পতাকা: ধর্মীয় প্রতীক নাকি রাজনৈতিক প্রকল্প?


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| মনযূরুল হক ||

কালেমা লেখা পতাকা দেখেই ভড়কায়েন না। সৌদির পতাকাতেও কালেমা লেখা আছে, তাতে তাদের ইসরায়েলের সঙ্গে জোট বেঁধে ইরানে হামলা করতে কুণ্ঠা হয় নাই। যদিও ইরানের পতাকায়ও ‘আল্লাহ’ লেখা আছে।

বিস্ময়ের কথা হলো, সৌদি যখন প্রতিষ্ঠা হয়, তখন উসমানী খেলাফত বা শরীফ হুসাইন, তাদের রেজিমেন্টাল পতাকাও ছিল কালেমা লেখা। তাদের দুই শক্তির বিরুদ্ধে ‘আলে সৌদ’ও তাদের কালেমা খচিত পতাকা নিয়েই লড়াই করেছে।

কালেমার পতাকা আফগানিস্তানেও আছে, তাতেও রক্ত ঝরাতে হচ্ছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ; যাদের নাম ‘ইসলামিক রিপাবলিক’ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতীকে এখনও আরবি হরফে ‘ইমান, ইত্তিহাদ, নজম’ লেখা।

শেষে কালেমা লেখা পতাকা নিয়ে আফগানিদের সেই ত্রিশূলের দেশ ভারতে গিয়ে চুক্তি করতে হইছে, কাশ্মিরকে ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে স্বীকার করতে হইছে। উইঘুর মুসলিমদের ‘চিনের নিজস্ব বিষয়’ মেনে চিনের সঙ্গে চুক্তি করতে হইছে, এমনকি সেই রাশিয়ার স্বীকৃতি পেয়ে আনন্দে দূতাবাসের সামনে কালেমা লেখা পতাকা উড়াতে হয়েছে, যারা প্রায় ২০ লাখ মুসলিমকে হত্যা করেছে আফগানিস্তানে।

কোনও কালেমা বা আল্লাহ বা ইমান লেখা দেশ কিন্তু আজও তাদের, তাদের কালেমা লেখা পতাকার স্বীকৃতি দেয় নি।

বোঝা যায়, ‘কালেমার পতাকা’ একটা রাজনৈতিক সিম্বল মাত্র, তাতে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার চেয়ে পতাকাধারীদের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার আহ্বানই বেশি। এক সময় কালেমা লেখা পতাকার দেশও পরে চাঁদ–তারায় শিফট করেছে, চাঁদ–তারা থেকেও কালেমায় গেছে।

দেখুন, ইসলামের বিরাট আবেদন ‘আল–আকসা’ রক্ষার লড়াই যাদের বিশ্ব কাঁপাচ্ছে, সেই ফিলিস্তিনিদের পতাকায় কালেমাই রাখে নাই, বরং সমাজতন্ত্রের ছাপ রাখা বলে।

সুতরাং আধুনিক বিশ্বের বাস্তবতায় এবং রাষ্ট্রব্যবস্থায় পতাকায় কালেমা লেখা থাকা না–থাকায় কিছু আসে যায় না। আসল কথা হলো, উদ্দেশ্য কী, কেন কালেমা লিখছেন? যারা আপনাকে ডাকছেন, তারা কোন রাজনীতি চান। নির্বাচনের আগে বায়তুল মোকাররমের মিম্বরে আবদুল মালেক সাহেব যেমন বলেছিলেন, মনোগ্রামে কোরআনের আয়াত লেখা দেখেই মনে করবেন না যে তারা ইসলামের কিছু—তেমন আর কি।

যতদূর জানি, নবীজির পতাকায় ‘কালিমা লেখা’ ছিল বলে শক্তিশালী বর্ণনা নেই। তাবারানি থেকে যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা ইমাম ইবনে হাজারের মতে দুর্বল (জয়িফ) মত। পতাকায় ইসলামের বাণী বা কালেমা লেখার সূচনা আব্বাসি যুগে হয় বলে ইতিহাসে পাওয়া যায়।

কালেমা তো ভালো, খারেজিরা বর্শার মাথায় কোরআন উঁচু করে বলেছিল—লা হুকমা ইল্লা লিল্লাহ মানে কেবল আল্লাহর বিধান চলবে। আলী (রা.) তখন একটি প্রবাদসম উক্তি করেছিলেন, কালিমাতু হাক্কিন উরিদা বিহাল বাতিল, মানে তাদের কথা সত্য, কিন্তু মতলব খারাপ।

লেখক: সাংবাদিক ও বিশ্লেষক

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ