মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬ ।। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ৯ জিলহজ ১৪৪৭


গণহত্যা বিতর্ক ও শাপলা প্রসঙ্গ


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী ||

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, বিশেষ করে Genocide Convention (১৯৪৮)-এ বলা হয়েছে, গণহত্যা হলো এমন অপরাধ, যখন কোনো নির্দিষ্ট জাতি, ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী বা জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা বা হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়।

সাধারণভাবে বলতে গেলে, গণহত্যা এমন এক ধরনের ভয়াবহ অপরাধ, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিশ্চিহ্ন, দুর্বল বা ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে হত্যা ও নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। এখানে শুধু নিহতের সংখ্যা নয়, বরং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য—একটি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বকে আঘাত করা।

ইসলামের দৃষ্টিতেও নিরপরাধ মানুষের জীবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন— ‘যে ব্যক্তি কোনো প্রাণকে হত্যা করল, অন্য কোনো প্রাণের বদলা ছাড়া বা পৃথিবীতে ফাসাদ ছড়ানোর কারণে ছাড়া—সে যেন সমস্ত মানবজাতিকে হত্যা করল।’ (সূরা আল-মায়িদা ৫:৩২)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা ইসলামের দৃষ্টিতে শুধু একটি ব্যক্তিগত অপরাধ নয়; বরং তা পুরো মানবতার ওপর আঘাতের মতো ভয়াবহ ও গুরুতর অন্যায়।

শাপলা ও শাহবাগকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সময়ে দেশ কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। শাপলায় অবস্থান করেছিল ইসলাম ও দেশপ্রেমিক নিরস্ত্র, নিরীহ জনগণ। পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, সেখানে বিপুল পরিমাণ বুলেট, টিয়ার সেল ও অন্যান্য দমনমূলক অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে একটি জনগোষ্ঠীর ওপর কঠোর অভিযান চালানো হয়।

তাই এই ঘটনাগুলোকে শুধু সংখ্যার বিচারে ছোট করে দেখার প্রবণতা থাকলে, তা ইতিহাসের একটি সংবেদনশীল অধ্যায়কে উপেক্ষা করার শামিল হবে। মানবতার দৃষ্টিতে এসব ঘটনার সঠিক মূল্যায়ন এবং ন্যায়বিচারই হওয়া উচিত মূল দাবি।

এছাড়া পৃথিবীতে এমন বহু মানবতাবিরোধী ট্রাজেডি রয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে নির্ভুল মৃত্যুসংখ্যা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবুও সেসব ঘটনায় মানুষ সাধারণত সংখ্যার চেয়ে অপরাধের প্রকৃতি, উদ্দেশ্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করে।

লেখক: মহাসচিব, ইসলামী ঐক্যজোট

জেডএম/

 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ