বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ১ রমজান ১৪৪৭


আমিরের কারণেই বাজিমাত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

||বিশেষ প্রতিনিধি||
অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে এবার ইসলামি দলগুলোর সরব উপস্থিতি ছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বিপুলসংখ্যক আলেম-উলামা এর আগে কখনো জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। তবে যতটা ভালো ফলাফল করার কথা ছিল ততটা হয়নি। এর মধ্যেও ইসলামি দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবার তুলনামূলক ভালো করেছে। এর পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছেন দলটির আমির মাওলানা মামুনুল হক। মূলত তাঁর ব্যক্তিত্বের কারিশমায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে দুইজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর বাইরে ইসলামী আন্দোলন এবং খেলাফত মজলিস থেকে আরও দুজন নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবার বেশ কয়েকজন তারকা প্রার্থী দিলেও শেষ পর্যন্ত ভোটে জিতে আসতে পারেননি। তবে তারা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছেন। এর আগে এত বিপুলসংখ্যক আলেম কখনো ভোটের লড়াইয়ে এতটা প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে পারেনি। সিট ছাড়াও ভোটের হারেও বাজিমাত করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটি ভোটের হারে পঞ্চম দল হিসেবে উঠে এসেছে। তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ২.০৯ শতাংশ। আর ইসলামী আন্দোলনের ভোটের হার ২.৭০ শতাংশ। যদিও সাংগঠনিক শক্তিমত্তার দিক থেকে অনেক এগিয়ে চরমোনাই পীর সাহেবের নেতৃত্বাধীন দলটি। 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবার জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে নির্বাচন করেছে। দলটি আসন ভাগাভাগির সময়ই অন্যদের চেয়ে বেশি আসন নিজেদের ভাগে নিতে সক্ষম হয়। এর বড় কারণ হলো, আমির মাওলানা মামুনুল হকের কারিশমা। এই জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে যাওয়ার পর বিপুল কদর বেড়ে যায় মাওলানা মামুনুল হকের। জামায়াত যেকোনো মূল্যে তাকে জোটে রাখার ব্যাপারে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখায়। এতে মাওলানা মামুনুল হকের দল বাড়তি সুবিধা পায়। জোট থেকে ২৩টি আসনে ছাড় পায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। এর বাইরে আরও বেশ কয়েকটি আসন উন্মুক্ত রাখা হয়, যেখানে দলটির নেতারা রিকশা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন। 

জোটসঙ্গী কারও কারও অভিযোগ, মাওলানা মামুনুল হক নিজের প্রভাবে বেশিসংখ্যক আসনে প্রার্থী দিয়েছেন। বিশেষ করে খেলাফত মজলিস বেশ মনঃক্ষুণ্ন হয়। দলটি সাংগঠনিক সক্ষমতার দিক থেকে কাছাকাছি অবস্থানে থাকলেও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তুলনায় প্রায় অর্ধেক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পায়। মূলত মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বের কারণেই অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে খেলাফত মজলিস। যদিও দলটির মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের সর্বপ্রথম ‘একবাক্স নীতি’র প্রস্তাব করেন বলে দাবি করা হয়। কিন্তু আসন ভাগাভাগির প্রশ্নে প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. আহমদ আব্দুল কাদেরও তেমন গুরুত্ব পাননি। 

২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনের আগে কারামুক্ত হয়ে মাওলানা মামুনুল হক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আমিরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি সংগঠনের মহাসচিব ছিলেন। মূলত মাওলানা মামুনুল হককে আমির করার পরই বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনায় আসায়। আমির জাতীয় ফিগার হওয়ায় দলটির নাম বারবার উচ্চারিত হতে থাকে। আমিরের ব্যক্তিত্বের সুফল লাভ করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। 

মাওলানা মামুনুল হক দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশিষ্ট আলেমদের অনেকেই বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগ দেন। বিশেষ করে এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সর্বজন স্বীকৃত, প্রভাবশালী ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একঝাঁক আলেমকে নিজ দলে টানতে সক্ষম হন মাওলানা মামুনুল হক। তাদের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রার্থীও করেন। অনেকের ব্যাপারে ভোটের বৈতরণী পার হয়ে আসার আশা করা হলেও শেষ পর্যন্ত খুব বেশি আসতে পারেননি। তবে ভোটে তারা মোটামুটি একটা আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। লক্ষাধিক কিংবা লাখের কাছাকাছি ভোট পাওয়া প্রার্থীর সংখ্যা বেশ কয়েকজন। আর এতেই মূলত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ভোটের হারে এগিয়ে গেছে।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ