বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ২ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৬ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১ নেপালের বন্যায় সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বালেন্দ্র শাহের কৃতজ্ঞতা  স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে নরওয়ের সহযোগিতা চান এলজিআরডিমন্ত্রী পথশিশুদের জন্য সুরক্ষা কেন্দ্র নির্মাণ করছে বাবুস সালাম ফাউন্ডেশন মুসলমানরা সব বিষয়ে আপস করতে পারে, ধর্ম ও ঈমানে নয়: আরশাদ মাদানী চট্টগ্রামে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পরামর্শ সভা মুফতি মাহবুবুর রহমান নবাবগঞ্জীকে দেখতে হাসপাতালে ঢাকা জেলা জমিয়ত নেতৃবৃন্দ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ‘বাকস্বাধীনতা-সম্মানহানি বিবেচনায় সাইবার আইন সংশোধন করা হবে’  দেখাও সরল পথ

আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারজয়ী বাংলাদেশের চার হাফেজকে সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেছেন, দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ভালো কোনো অর্জন করলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তার স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন না। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সকল মুসলমানের অর্জন।’

হাফেজদের উৎসাহিত ও সম্মান জানানোর বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের সন্তানরা তাদের যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে ভালো কিছু অর্জন করলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা সরকারের নীতি। মেধাবীদের উৎসাহ ও যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে এর সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও দেশ পাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সরকার গঠনের পর থেকেই মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর অংশ হিসেবেই আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে পুরস্কারজয়ী হাফেজদের শিক্ষকরা বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভব হলে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের আরও প্রতিযোগিতা সামনে এলে নিয়ম অনুযায়ী সরকারকে জানালে সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা এরকম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতে অংশগ্রহণ করুক এবং অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে তাদের নিজেদের জন্য, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য তারা সম্মান এবং গৌরব নিয়ে আসুক।’

দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিবর্তনের লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কাজের ধরন ভিন্ন হলেও লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, যাতে সবাই ভালো ও শান্তিতে থাকতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী হাফেজদের বই উপহার দেন। এর আগে প্রতিযোগিতায় যে সূরাগুলো তিলাওয়াত করে তারা পুরস্কার অর্জন করেছেন, সেগুলোর আয়াতও তাদের কণ্ঠে শোনেন তিনি।

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া চার প্রতিযোগীই পুরস্কার অর্জন করেন।

প্রতিযোগিতার ১৫ পারা বিভাগে পুরুষদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন হাফেজ মুহাম্মদ জাকারিয়া। একই বিভাগে নারীদের মধ্যে তৃতীয় হন হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান। আর ৩০ পারা বিভাগে পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন হাফেজ শেখ মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ও হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর, সাজেদা খাতুন ও মাওলানা রফিকুল ইসলামও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ