শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
বিশ্বমানের একটি জামিয়ার গল্প যুক্তরাষ্ট্রে জুমার বয়ান ও ইমামতি করলেন পীর সাহেব চরমোনাই শোক জানাতে মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমির বাসভবনে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঢাকার আবহাওয়া আজ কেমন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর খেলাফত শ্রমিক মজলিসের ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ শাখা পুনর্গঠন, নেতৃত্বে যারা ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের ৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ গঠন শহীদ নাসরুল্লাহ বদরের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান খেলাফত মজলিস আমিরের ডেঙ্গুর টিকা আনতে উদ্যোগ নেবে ডিএসসিসি মুফতি নাসরুল্লাহ বদরের পরিবারের পাশে এনসিপি ইসলামি শ্রমনীতি ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে: গাজী আতাউর রহমান

‘সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে’ 

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশের চিকিৎসা খাতকে চরমভাবে অবহেলা ও লুটপাট করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে চিকিৎসা খাতকে মারাত্মকভাবে অবহেলা করা হয়েছে। অন্যান্য খাতের মতো চিকিৎসা খাতেও লুটপাট হয়েছে। অনেক জায়গায় অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন বিক্রি করে দেওয়া হতো। অ্যান্টি-স্নেক ভ্যাকসিনও যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও সরবরাহ করা হতো না। রোগীদের ঠিকমতো ওষুধ দেওয়া হতো না, চিকিৎসকরাও নিয়মিত হাসপাতালে আসতেন না। নার্স ও চিকিৎসকদের রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা হিসেবে আমরা পেয়েছি। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। গত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ৯তলা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এ কাজ চলতি বছর থেকেই শুরু হবে এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শেষ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে প্রসূতি মায়েদের জন্য ২৫টি, শিশুদের জন্য ২০টি এবং ভবিষ্যতে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর জন্য ১০টি শয্যা বরাদ্দ থাকবে। এতে কিডনি রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যেতে হবে না। পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি সেবার ব্যবস্থা করা হবে। নারী রোগীদের জন্য নারী ফিজিওথেরাপিস্ট এবং পুরুষ রোগীদের জন্য পুরুষ ফিজিওথেরাপিস্ট থাকবে।

মন্ত্রী জানান, পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও আড়াই হাজার নার্স ও আড়াই হাজার টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত এসব নিয়োগের অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন জনবল নিয়োগের পর আগামী ছয় মাসের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক দেওয়া শুরু হবে।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে হেলথ সেন্টার গড়ে তোলা হবে। এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হবে। প্রতিটি হেলথ সেন্টারে চিকিৎসক, নার্স ও আয়া থাকবে। এর অধীনে তিনটি করে ওয়ার্ড নিয়ে একটি করে স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্র গঠন করা হবে। সেখানে কেয়ারগিভাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের উচ্চ ও নিম্ন রক্তচাপ পরিমাপ করবেন, স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক পরীক্ষা করবেন এবং প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করবেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কারও শারীরিক সমস্যা ধরা পড়লে তাকে ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারে পাঠানো হবে। সেখানে চিকিৎসা সম্ভব হলে চিকিৎসা দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হবে।

তিনি আরও জানান, আগামী কিছুদিনের মধ্যে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন করা হবে। এছাড়া নারীদের চিকিৎসাসেবার জন্য দেশের আট বিভাগে ৮টি ক্যানসার ইনস্টিটিউটের কাজ চলমান রয়েছে।

হাসপাতাল পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ