ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইনের অপচেষ্টার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খেলাফত মজলিস। দলটির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এ ধরনের একতরফা পদক্ষেপ শুধু অমানবিকই নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন ও বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তিরও পরিপন্থি।
বৃহস্পতিবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত খেলাফত মজলিসের মাসিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন এবং পরিচালনা করেন মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।
নেতৃবৃন্দ বলেন, গত এক মাস ধরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটানোর চেষ্টা করছে। ভারতে কোনো বাংলাদেশি অবৈধভাবে অবস্থান করলে বা অপরাধে জড়িত থাকলে তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য গ্রেপ্তার, বন্দিবিনিময় চুক্তি এবং দুই দেশের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের মতো স্বীকৃত প্রক্রিয়া রয়েছে। এসব বৈধ পদ্ধতি অনুসরণ না করে একতরফাভাবে সীমান্তে মানুষ ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা প্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থি।
তারা বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কখনোই পুশইনের মতো একপাক্ষিক ব্যবস্থা মেনে নিতে পারে না। শুধু ভাষা বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশে পাঠানোর অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
খেলাফত মজলিস নেতৃবৃন্দ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে আরও দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান। তারা বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি সীমান্তসংক্রান্ত চুক্তিগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ফোরামেও বিষয়টি তুলে ধরার দাবি জানান তারা।এ সময় পুশইন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সীমান্তে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) যে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, তার প্রশংসা করে এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে নেতৃবৃন্দ দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, হত্যা, ধর্ষণ, মাদক, অশ্লীলতা, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, লোডশেডিং এবং ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা দেশের মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, অধ্যাপক আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা।
এমএন/