একদিনের মাথায় আবাসিক গ্রাহকদের ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আদেশ প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
এতে করে লাইফলাইন গ্রাহকের (৫০ ইউনিট পর্যন্ত) দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা এবং ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীর আগের দাম ৫ টাকা ২৬ পয়সা বহাল থাকছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।
তিনি আরও জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এ সংক্রান্ত নতুন আদেশ জারি করা হবে। এতে করে খুচরা বিদ্যুতের গড় দাম ১০.৬৩ টাকা থেকে ২৩ পয়সা কমে ১০.৪০ টাকা হবে।
গতকাল বুধবার (৩ জুন) ঘোষিত নতুন ট্যারিফ অনুযায়ী, আবাসিকে লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা, একইভাবে আবাসিকের প্রথম ধাপে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা করা হয়। একদিন পরেই বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত দাম প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়। এতে বলা হয়, নিম্ন আয়ের ভোক্তাদের দাম না বাড়ানোর জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে নির্দেশনা রয়েছে।
হতদরিদ্র, নিম্ন আয় এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির কথা বিবেচনা করে লাইলফাইন গ্রাহক সৃষ্টি করা হয়। একটি ৩০ ওয়াটের লাইট ও একটি ফ্যান দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ব্যবহার করেন তেমন গ্রাহকরা এই বিলের আওতায় পড়েন। কিন্তু একাধিক ফ্যান থাকলে কিংবা একটি ফ্যান টানা চব্বিশ ঘণ্টা চালালে লাইফলাইনের আওতায় থাকার সুযোগ কম। তখন সেই গ্রাহককে ভিন্ন স্তরের বিল দিতে হয়। পৃথক ৬টি স্তর রয়েছে, সেই বিদ্যুতের দাম তুলনামূলক অনেকটা বেশি। বিদ্যুৎ বিভাগের নতুন ভাবনাকে ভালো সিদ্ধান্ত মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে নিম্ন আয়ের লোকজন চাপমুক্ত থাকবে।
জুন, ২০২৫’র হিসাব অনুযায়ী, ১ কোটি ৮৬ লাখ লাইফলাইন গ্রাহকের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ৮৭ শতাংশ, বিপিডিবির ৪.৫ শতাংশ, নেসকো ৪ শতাংশ, ওজোপাডিকো ৩ শতাংশ। লাইফলাইন গ্রাহকের সংখ্যা সবচেয়ে কম রাজধানী ঢাকায় বিরতণের দায়িত্বে থাকা ডিপিডিসির ১ শতাংশ এবং ডেসেকোর দশমিক ৫ শতাংশের মতো। অর্থাৎ গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারগুলো এই সুবিধার আওতায় রয়েছে।
জেডএম/
