সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে ট্যানারি স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়াকে ‘ক্লাসিক কেস অব মিসম্যানেজমেন্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে তিনি বলেছেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত ছিল সঠিক।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে বিসিক চামড়া শিল্পনগরী-এর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, উচ্চমাত্রার বর্জ্য উৎপন্ন হওয়ায় ট্যানারি শিল্প এমন স্থানে হওয়া উচিত, যেখানে আধুনিক বর্জ্য শোধনাগারের সুবিধা রয়েছে। সেই বিবেচনায় সাভারে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অব্যবস্থাপনা হয়েছে।
তিনি বলেন, যেভাবে স্থানান্তর হয়েছে, সেটি ছিল ক্লাসিক কেস অব মিসম্যানেজমেন্ট। ফলে বর্জ্য শোধনাগারটি পরিকল্পিত সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে না। আবার স্থানান্তরিত অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানও টিকে থাকতে পারেনি। অনেক প্রতিষ্ঠান মাঝপথেই বন্ধ হয়ে গেছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে সরকার দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রথমত, সিইটিপিকে পরিকল্পিত দৈনিক ২৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য শোধন সক্ষমতায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং ক্রোমিয়াম পুনরুদ্ধার (ক্রোমিয়াম রিকভারি) ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। দ্বিতীয়ত, স্থানান্তরের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ও লোকসানে পড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় লাভজনক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া।
তিনি বলেন, যেসব উদ্যোক্তা আগ্রহ ও সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন, সেখানে নতুন বিনিয়োগকারী আনার বিষয়েও আমরা কাজ করছি
পরে মন্ত্রী শিল্পনগরীর বিভিন্ন ট্যানারি কারখানা পরিদর্শন করেন এবং মালিকদের সঙ্গে শিল্পের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন।
এদিকে, ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনেও সাভারের ট্যানারিগুলোতে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া আসা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত শিল্পনগরীতে মোট ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯টি কাঁচা চামড়া এসেছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর চামড়া শিল্পনগরী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাইয়ান জানান, এ সময়ের মধ্যে ১ হাজার ৫৯৬টি ট্রাকে করে এসব চামড়া শিল্পনগরীতে পৌঁছায়। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়া ছিল ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৯৫৯টি এবং ছাগল-ভেড়ার চামড়া ছিল ১৬ হাজার ৯০টি।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কার্যক্রম আরও বাড়তে পারে।
আইও