অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংযুক্ত করার লক্ষ্যে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ভূমি-সংক্রান্ত আইনকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
সৌদি আরবের জেদ্দায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের উন্মুক্ত নির্বাহী কমিটির বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে এ নিন্দা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এসময় অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ভূমি ক্রয়সংক্রান্ত আইনকে দ্ব্যর্থহীনভাবে নিন্দা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই চলমান সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।
জেদ্দায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি বলেন, এই আইন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের আইনগত ও জনমিতিক চরিত্র পরিবর্তনের লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে আল-কুদস আল-শরিফও অন্তর্ভুক্ত।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পশ্চিম তীরে ভূমি ক্রয় সহজ করা এবং ভূমি নিবন্ধন উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি ভূমির মালিকদের ভয়ভীতি ও হয়রানির ঝুঁকিতে ফেলছে। এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ন্যায়ভিত্তিক ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তিকে দুর্বল করছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী দুই-রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই দীর্ঘদিনের এই সংকটের কার্যকর সমাধান হতে পারে। ইসরায়েলের ভূমি-সংক্রান্ত আইন প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনিদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাই।
একই সঙ্গে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাকর্মীদের জন্য অবাধ ও শর্তহীন প্রবেশাধিকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত নারী, পুরুষ ও শিশুদের কাছে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর দাবিও জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মুসলিম উম্মাহর প্রতি রমজানের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
ওআইসি বৈঠকের সাইডলাইনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মদু এনজি, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত মুসা কুলাকলিকায়া এবং সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ এলখরেইজির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
এসব বৈঠকে ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সরকার ও জনগণকে অভিনন্দন জানান। তারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তারা নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব বৈঠকে সরকারের পররাষ্ট্রনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং ওআইসি সচিবালয়ের কার্যকারিতা বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।
বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তঃসরকারি সংস্থা বিষয়ক সচিব এম ফরহাদুল ইসলাম এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম জে এইচ জাবেদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
আইএইচ/