মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ৪ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
মাওলানা উসমান ফয়েজীর ইন্তেকালে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়তের মহাসচিবের শোক মোবাইল আসক্তি: তরুণ প্রজন্মের নীরব নৈতিক সংকট কাজের পরিধি বাড়াতে ইসলামী আন্দোলনের ১৩ উপকমিটি গঠন ‘আল্লামা উসমান ফয়েজীর দীর্ঘদিনের খেদমত নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে’ চট্টগ্রাম বিভাগে বেফাকের মাদরাসা পরিদর্শন শুরু আগামীকাল কুমিল্লায় অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার মেখল মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা উসমান ফয়েজী আর নেই ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় ছাত্র জমিয়তের উদ্বেগ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল বসানো হবে: শিক্ষা সচিব তুরস্ক ভ্রমণে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন দক্ষিণ কোরিয়ার নারী

ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৪৩৮ জন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

এবারের ঈদে দেশের সড়ক ও মহাসড়কে প্রাণহানি ঘটেছে ৪০৭ জনের। আহত হয়েছে ১ হাজার ৩৯৮ জন। একই সময়ে রেলপথে ১৮টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছে। নৌ-পথে দুটি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ পথ মিলিয়ে মোট ৪১৯টি দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত ও ১ হাজার ৪২৪ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যাত্রী কল্যাণ সমিতির সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য তুলে ধরেন। 

সংগঠনের সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান সরকারের গত ১৫ বছরে ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলে দেশের সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা আগের তুলনায় ভালো থাকায় যানবাহনের গতি বেড়েছে। দেশের সবকটি সড়ক-মহাসড়কের পাশাপাশি পদ্মাসেতুতে মোটরসাইকেলের অবাধ চলাচলের কারণে এই সেতুতে মোট যাত্রীর ৭.৫ শতাংশ মোটরসাইকেলে যাতায়াত করেছে। 

ঈদযাত্রায় শুরুর দিন (৪ এপ্রিল) থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা (১৮ এপ্রিল) পর্যন্ত ১৫ দিনে ৩৯৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০৭ জন নিহত ১৩৯৮ জন আহত হয়েছে। গত ২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরে ৩০৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২৮ জন নিহত ও ৫৬৫ জন আহত হয়েছিল। বিগত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৩১.২৫ শতাংশ, প্রাণহানি ২৪.০৮ শতাংশ এবং আহত ১৪৭.৪৩ শতাংশ বেড়েছে। 

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ১৯৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৫ জন নিহত ও ২৪০ জন আহত হয়েছে, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৯.৬২ শতাংশ, নিহতের ৪০.৫৪ শতাংশ এবং আহতের ৩০.৩৭ শতাংশ প্রায়। 

দুর্ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট যানবাহনের ৪০.৫০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৪.২৮ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান-লরি, ৬.৫০ শতাংশ কার মাইক্রো জিপ, ৫.৯৬ শতাংশ নছিমন-করিমন-ট্রাক্টর-লেগুনা-মাহিন্দ্রা, ৬.১৪ শতাংশ অটোরিকশা, ১২.১১ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক-ভ্যান-সাইকেল ও ১৪.৪৬ শতাংশ বাস এসব দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব দুর্ঘটনার ৩২.৫৮ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ১০.০২ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ৫০.৬২ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়। এছাড়া সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৬.০১ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.২৫  শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৫০ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে ঘটেছে।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে নৈরাজ্য ও পথে পথে হয়রানি: যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানিয়েছে, সরকারের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে নৈরাজ্য ও পথে পথে যাত্রী হয়রানি ছিল চরম। গণপরিবহনগুলোতে ঈদকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের কারণে বাসের ছাদে, ট্রেনের ছাদে, খোলা ট্রাক ও পণ্যবাহী পরিবহনে যাত্রী হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দরিদ্র লোকজনদের ঈদে বাড়ি যেতে হয়েছে। 

এনএ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ