মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬ ।। ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
মাদরাসা শিক্ষার কারিকুলাম যুগোপযোগী ও কর্মসংস্থানমুখী করার উদ্যোগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ছেলেদের জন্যও উপবৃত্তির ভাবনা সরকারের বাইতুল মোকাররম প্রতিষ্ঠায় শামসুল হক ফরিদপুরীর অনন্য অবদান হেরা গুহার নিঃসঙ্গ ভাবনা বুলবুল হত্যা: সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে ওসির সঙ্গে ইসলামী যুব আন্দোলনের সাক্ষাৎ দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি ঢাকা মেডিকেল এলাকার আশপাশ যেন গাঁজাখোর জোন: কে এম শরীয়তুল্লাহ জামেয়া দ্বীনিয়া দারুল আবরার মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা হেলাল উদ্দিন আফতাবি-র ইন্তেকাল ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমীরে মজলিসের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ২৩২

৮০০ বছরের ঐতিহ্যের স্মারক যে মসজিদটি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

অপরূপ সৌন্দর্যের পুরাকীর্তি নকশায় সাজানো হবিগঞ্জের শংকরপাশা শাহী জামে মসজিদটি ৮০০ বছর ধরে ঐতিহ্যের স্মারক হয়ে আছে। সৃষ্টির পর থেকে এ মসজিদের কোনো ধরনের সংস্কার হয়নি। প্রত্মতত্ত্ব বিভাগ এটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ায় কোন ধরনের সংস্কার কাজ করতে পারছেন না স্থানীয়রাও। মসজিদটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা দর্শনার্থীরা।

স্থানীয়রা জানান, সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ’র শাসনকালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামে শাহী জামে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। শুরুতে মসজিদের নাম শংকরপাশা শাহী জামে মসজিদ নামকরণ করা হলেও বর্তমানে এর নামকরণ করা হয়েছে উচাইল শাহী জামে মসজিদ।

দূর থেকে দেখলে যে কারও দৃষ্টি কাড়ে ঐতিহ্যবাহী লাল টকটকে এ মসজিদটি। এর চারপাশ ঘিরে রয়েছে কবরস্থান। মসজিদের দক্ষিণে রয়েছে হজরত শাহ জালাল (রহ.) এর সফরসঙ্গী হজরত শাহ মজলিস আমিন (রহ.) এর মাজার। প্রায় প্রতিদিনই এখানে মাজার জিয়ারত ও মসজিদ দেখতে আসেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজন।

প্রাচীন আমলের নানান কারুকাজে সাজানো রয়েছে এর ভেতর ও বাইরের অংশ। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে আরবি হরফে লেখা রয়েছে যা অস্পষ্ট। আর মসজিদের এসব কারুকাজ দেখে যে কারোরই চোখ জুড়িয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরেই মসজিদের কোন সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

প্রকৃতপক্ষে স্থানীয়রা কত বছর পূর্বে এ মসজিদটি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল তার সঠিক তথ্য জানেন না। মসজিদটির দেয়াল ৫ ফুট প্রশস্ত, রয়েছে ৪টি গম্বুজ, কিন্তু এর কোন মিম্বর নেই। মসজিদের ভেতরে একসাথে মাত্র ৪০ ও বারান্দায় আরো ১০ জন মুসল্লি নামাজ পড়তে পারে।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা মসজিদটি সংস্কারের দাবি জানান। তারা মনে করেন প্রাচীন ঐতিহ্য এ মসজিদটি সংস্কারের পাশাপাশি যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করা হলে প্রাচীন এ মসজিদটি ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, মসজিদটি এখন সংস্কার করা প্রয়োজন। সংস্কার করা হলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আরো পর্যটকরা আসবে। হবিগঞ্জ থেকে আসা জসিম উদ্দিন জানান, আমি প্রবাসে থাকি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এ মসজিদের বিষয়ে জানতে পেরেছি, তাই আজ এসে মসজিদটি বাস্তবে দেখলাম। খুবই সুন্দর ও নান্দনিক।

মসজিদে ৪৫ বছর ধরে ইমামতি করছেন মো. বজলুল হক। তিনি জানান, মসজিদের ইতিহাস কেউই সঠিকভাবে বলতে পারে না। অনেকেই গায়েবি মসজিদ বলে, তবে আমি শুনেছি শাহ আলাউদ্দিন হুসেন শাহর আমলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। সর্বশেষ এরশাদ সরকারের আমলে মসজিদটি সংস্কার করা হয়। এরপর আর কোন সংস্কার করা হয়নি। এখন সংস্কারের প্রয়োজন।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বাদল জানান, মসজিদটি সংস্কার করা প্রয়োজন। সংস্কার করা হলে এর সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটকের সংখ্যাও বাড়বে। তিনি বলেন, মসজিদের বাউন্ডারির কাজ বাকি, এছাড়া সামনের অংশে কিছু মেরামত করতে পারলে আরো বেশি বেশি করে দর্শনার্থী আসবে। সূত্র: বাসস

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ