মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬ ।। ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
মাদরাসা শিক্ষার কারিকুলাম যুগোপযোগী ও কর্মসংস্থানমুখী করার উদ্যোগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ছেলেদের জন্যও উপবৃত্তির ভাবনা সরকারের বাইতুল মোকাররম প্রতিষ্ঠায় শামসুল হক ফরিদপুরীর অনন্য অবদান হেরা গুহার নিঃসঙ্গ ভাবনা বুলবুল হত্যা: সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে ওসির সঙ্গে ইসলামী যুব আন্দোলনের সাক্ষাৎ দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি ঢাকা মেডিকেল এলাকার আশপাশ যেন গাঁজাখোর জোন: কে এম শরীয়তুল্লাহ জামেয়া দ্বীনিয়া দারুল আবরার মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা হেলাল উদ্দিন আফতাবি-র ইন্তেকাল ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমীরে মজলিসের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ২৩২

মৌলিক সাহিত্যে লেখক ফোরাম পদক পেলেন মাওলানা যাইনুল আবিদীন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: রাকিবুল হাসান

বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরাম এবার তিনজন গুণী লেখককে পদকে ভূষিত করেছে। শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচার কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচা মিলনায়তনে ফোরামের যুগপূর্তি অনুষ্ঠানে এই পদক প্রদান করা হয়।

তিনজনের মধ্যে মৌলিক সাহিত্য রচনায় পদক পেয়েছেন বিশিষ্ট লেখক-মুহাদ্দিস ও কথাশিল্পী মাওলানা মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন।

নিচে তাঁর বিস্তারিত পরিচয় তুলে ধরা হলো-

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার নিবিড় ছায়াঘেরা গ্রাম- চাষিরচর। গ্রামের দুই পাশে ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ তুলে বয়ে গেছে মেঘনা ও গোমতী নদী। নদী বিধৌত এই গ্রামে ১৯৬৭ সনের ২০ নভেম্বর জন্মেছেন গুণী লেখক মাওলানা মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন।

পিতার আন্তরিক ইচ্ছায় লেখাপড়া শুরু করেছিলেন এক হাফেজ সাহেবের কাছে। প্রাইমারি স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে ভর্তি হন দাউদকান্দি উপজেলার ঢাকারগাঁও মাদরাসায়। সেখানেই হয় মাদরাসা শিক্ষার আনুষ্ঠানিক হাতেখড়ি। এরপর ঢাকার যাত্রাবাড়ী, ফরিদাবাদ, বারিধারা মাদরাসা হয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি দেন বিশ্ববিখ্যাত বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দে। সেখানে আরবি সাহিত্যের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে ফিরে আসেন দেশে।

শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করার পর প্রিয় উস্তাদ মাওলানা ইসহাক ফরিদী রহ.-এর অনুরোধে চৌধুরীপাড়া মাদরাসায় কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ময়মনসিংহ জামিয়া ইসলামিয়া চরপাড়া মাদরাসায় খেদমত করেন। পরবর্তী সময়ে হাদিসের দরস দিয়েছেন জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া ও দারুল উলুম রামপুরায়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর রামপুরার জামিয়া কাসেম নানুতুবীর শায়খুল হাদিস হিসেবে কর্মরত।

লেখালেখি : ফরিদাবাদ মাদরাসায় পড়ার সময় লাজনাতুত তলাবার ছায়ায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার সূচনা করেন। এরপর থেকে তাঁর কলম চলছে অবিরত। লেখার সুবাধে ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য পেয়েছেন মাওলানা আখতার ফারুক ও মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের। সাপ্তাহিক মুসলিম জাহানের সম্পাদনায় দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম : মাওলানা মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীনের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক। তাঁর মৌলিক গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : আমাদের নবীজি, শব্দের সৌরভ শব্দের সানাই, লেখালেখির শিকড় শিখর, কবি না কবিতা হবো, ইসলামে জীবিকার সমাধান, ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মাদ, ভয়-স্বপ্ন সংগ্রাম, নারীর শত্রু মিত্র, সাহিত্যের ক্লাস, বক্তৃতার ক্লাস, ভুবনজয়ী নারী, আকাশে অঙ্কিত নাম, শহীদানের গল্প শোন, ইসলাম এ কালের ধর্ম, সাহসের গল্প।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি : তাজা ঈমানের ডাক, আমেরিকার নওমুসলিমদের ঈমানদীপ্ত কাহিনী, হালাল হারাম, মানবতার নবী, দেশে দেশে, ইসলাম ও ফ্যাশনের সংঘাত, ভারতীয় নওমুসলিমদের ঈমান জাগানিয়া সাক্ষাৎকার, আল্লাহকে যদি পেতে চাও ইত্যাদি।

লেখালেখিতে অনন্য অবদানের জন্য তিনি মাসিক নকীব পদকসহ বিভিন্ন পদক ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, প্রত্যেক পদকপ্রাপ্তকে সম্মানা ক্রেস্ট এবং নগদ অর্থমূল্য প্রদান করা হয়।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ