শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬ ।। ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দারুল উলুম দেওবন্দে বর্ণাঢ্য আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস পালিত ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া ‘সবার সহায়তায় সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দূর করতে পারবে’ স্বপ্ন দেখে ধর্মীয় সিদ্ধান্ত নয়, কাবার ইমামের সতর্কবার্তা আকিদায়ে খতমে নবুওয়ত প্রতিটি মুসলমানের ঈমানের অপরিহার্য ভিত্তি: ধর্মমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছর কুষ্টিয়া সদরের প্রধানমন্ত্রী আমিই: আমির হামজা সাংবাদিককে লাঞ্ছনার অভিযোগে ছাত্রদলের ৩ কর্মী বহিষ্কার ভারতের স্বাধীনতা দিবসে আলেমদের অবদান তুলে ধরলেন মাওলানা আরশাদ মাদানী ফরিদপুরে ইসলামী আন্দোলনের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ফের বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে উৎপাদন চালু  

হজ্জে মাবরুরের বদলা কেবল জান্নাত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

|| মুহাম্মদ উসামা হাবীব ||

হজ্জে মাবরুর—হজের অধিকাংশ মর্যাদা ও চূড়ান্ত প্রতিদান প্রাপ্তির অন্যতম শর্ত। হাদিসের বর্ণনার দিকে তাকালে আমরা এমনটিই জানতে পারি। যেমন, বুখারি-মুসলিমের এক প্রসিদ্ধ বর্ণনায় আছে—হজ্জে মাবরুর, এর চূড়ান্ত বিনিময় তো কেবল জান্নাত। (সহিহ বুখারি: ১৭৭৩, সহিহ মুসলিম: ১৩৪৯)

আল্লাহ তায়ালার নিকট সর্বোত্তম আমল কী—এর তালিকা দিয়েছেন নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাতেও ঈমান ও জিহাদের পরই হজ্জে মাবরুরের কথাই উল্লিখিত। যেমন, বুখারির এক হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি ঈমান আনা। জিজ্ঞেস করা হলো, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। জিজ্ঞেস করা হলো, তারপর কোনটি? তখন তিনি বলেন, হজ্জে মাবরুর। (সহিহ বুখারি: ১৫১৯)

কিন্তু হজ্জে মাবরুরের মানে কী? আমাদের কষ্টের হজ, মাবরুর হবে কীভাবে? সে জন্য আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে লক্ষ করতে হবে—রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জে মাবরুরের কী ব্যাখ্যা দিয়েছেন! কী বলেছেন তিনি এই বিষয়ে! মুসনাদে আহমদের এক হাদিসে এসেছে, হজরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, হজ্জে মাবরুর কী? তিনি বললেন, মানুষকে খাবার খাওয়ানো এবং ভালো কথা বলা। মুসনাদে আহমদের আরেক হাদিসে এসেছে, খাবার খাওয়ানো এবং (মানুষকে) সালাম দেওয়া।

নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক হজ্জে মাবরুরের এমন পরিচয় দেওয়ার অন্যতম একটি কারণ এও হতে পারে—মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে, আজন্ম অভ্যস্ত আরামদায়ক পরিবেশ থেকে হিজাজ ভূমিতে মেহমান হয়। স্বাভাবিকভাবেই 'গাইরে জি যারঈন' অর্থাৎ, তৃণলতাহীন উষড়াঞ্চলে তার কষ্ট হবে। এবং অগণিত মানুষের আনুষ্ঠানিক সমাগমে যারা খিদমতে নিয়োজিত থাকে—তারাও এক পর্যায়ে হাঁপিয়ে ওঠে। দায়িত্বের বোঝা নামিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে চায়। এমন কষ্ট আর অপ্রীতিকর পরিবেশেও যারা সদয় হবে, সহমর্মী হবে, সদ্যোগে দায়িত্ব নিবে, তারাই পাবে হজ্জে মাবরুরের সম্মানজনক পুরস্কার।

বর্তমান সময়ে এই সুযোগ গ্রহণের সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন হজ এজেন্সির কর্তা ও কর্মীরা। কারণ, প্রথমত, তাদের দায়িত্বটাই এমন। এর উপর ভিত্তি করেই তাদের সফলতা নির্ণীত হয়। দ্বিতীয়ত, বর্তমানে হজের সফরে এমন অনেক ফর্মালিটি আছে, যেগুলো তাদের মাধ্যমেই সম্পাদন সম্ভব। অন্যরা চাইলেও পূরণ করতে পারবে না। অতএব, হজ এজেন্সির কর্তা ও কর্মী বা হাজিদের খেদমতে যারা নিয়োজিত—এটা তাদের জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বিরাট সুযোগ। সুতরাং এই সুযোগ কৃতজ্ঞচিত্তে গ্রহণ উচিত। নিয়ত বিশুদ্ধ থাকলে তারাই হবে দুনিয়া-আখেরাতের সবচে’ বেশি লাভবান। আল্লাহ তায়ালা আমাদের শুদ্ধ নিয়তে কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: প্রবন্ধকার, শিক্ষক, ইমাম ও খতিব

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ