নিজস্ব প্রতিবেদক
আবারও বিতর্কিত সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি মো. আমির হামজা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আগামী পাঁচ বছরে কুষ্টিয়া সদর আসনের জন্য আমিই প্রধানমন্ত্রী।’
নিজের সংসদীয় এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সরকারি বাজেটের ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, সরকারের দেওয়া বাজেট তার হাত দিয়েই এলাকায় বাস্তবায়িত হবে। উন্নয়নকাজের কৃতিত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন—সরকারের দেওয়া অর্থে কাজ হলে সেটির কৃতিত্ব কোনো ব্যক্তি নিতে পারেন কি না।
তার এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
জামায়াতের এই এমপি এর আগেও নানা সময় বিতর্কিত ও বেফাঁস মন্তব্য করে তুমুল আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুষ্টিয়ার সরকারি হাসপাতাল প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘কুষ্টিয়ায় ওপরওয়ালা কেউ নেই, ওপরওয়ালা এখন আমি।’নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পুরোনো ভিডিওতে বিএনপির প্রয়াত নেতা আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে অবমাননাকরভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বিএনপি এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায় এবং পরে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও হয়। আমির হামজা অবশ্য দাবি করেন, ভিডিওটি পুরোনো এবং কাটাছেঁড়া করে ছড়ানো হয়েছে।
আমির হামজার অতীতের সবচেয়ে গুরুতর বিতর্কগুলোর একটি ২০২১ সালের ঘটনা। সে সময় ওয়াজের মাধ্যমে উগ্রবাদ ছড়ানোর অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। পুলিশের অভিযোগ ছিল, তার কিছু বক্তব্য তরুণদের উগ্রবাদে আকৃষ্ট করতে পারে এবং তার বিরুদ্ধে সিটিটিসির তদন্তাধীন মামলা ছিল। পরে আদালতে দেওয়া তার জবানবন্দি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে তাকে ওয়াজের মাধ্যমে উগ্রবাদ ও ধর্মীয় উসকানির অভিযোগ স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদন করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে পরবর্তী আইনি অবস্থার বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আইও/