শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ।। ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৫ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন সরোয়ার আলমগীর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আইআরজিসির ৩ সদস্য নিহত মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য শুরু হচ্ছে প্রমিত উচ্চারণ ও উপস্থাপনা শেখার কোর্স হাইআতুল উলয়ার সঙ্গে একাত্মতা হুফফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশনের কথার ফুলঝুরি নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে: পীর সাহেব চরমোনাই জামিয়া ফরিদাবাদের ৭০ সালা দস্তারবন্দি মহাসম্মেলন ২৩ ও ২৪ নভেম্বর ‘জাতি বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়’ যুব জমিয়তের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সফল করতে সিলেটে মতবিনিময় ঢাকায় ‘ইমামুল হিন্দ শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলবী (রহ.) কনফারেন্স’ ১৮ জুলাই মোহাম্মদপুরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নাগরিক সমাবেশ শুক্রবার

ফেরাউনের লাশ ও কুরআনের ঘোষণা: ইতিহাস, বিজ্ঞান ও বিশ্বাসের এক বিস্ময়কর মিলন 

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান

ফেরাউন—মিসরের সেই একচ্ছত্র শাসক, যিনি নবী মূসা (আঃ)-এর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে নিজেকে ঈশ্বর দাবি করেছিলেন। পবিত্র কুরআনে তার গল্প একটি সতর্কবার্তার মতো স্থান পেয়েছে, যেখানে অহংকার, অবাধ্যতা এবং আল্লাহর প্রতি বিদ্রোহের পরিণতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

কুরআনের ঘোষণা

কুরআনের সূরা ইউনুসে আল্লাহ তাআলা বলেন—“আজ আমি তোমার দেহকে রক্ষা করব, যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারো।”(সূরা ইউনুস: আয়াত ৯২)

এই আয়াতের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ফেরাউনের দেহকে সংরক্ষণ করা হবে এবং তা ভবিষ্যতের মানুষের জন্য এক নিদর্শন হয়ে থাকবে।

ইতিহাসের পৃষ্ঠা ও ফেরাউনের মৃত্যুর ঘটনা

ইতিহাসবিদরা ও মিসরীয় প্যাপিরাস অনুসারে, মিসরের এক ফেরাউন রেড সি বা লোহিত সাগরে ডুবে মারা যান। এই বর্ণনা মিলে যায় হযরত মূসা (আঃ)-এর সময়ের ঘটনার সঙ্গে, যখন তিনি তার অনুসারীদের নিয়ে সাগর পেরোচ্ছিলেন এবং পেছনে ধাওয়া করতে গিয়ে ফেরাউন সৈন্যবাহিনীসহ ডুবে মারা যায়।

মমি আবিষ্কার ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা

১৮৯৮ সালে মিসরের লাক্সরে কিং র‌্যামসেস পরিবারের একটি মমি আবিষ্কৃত হয়। অনেক গবেষক ও মিসরোলজিস্ট মনে করেন, এই মমিই সেই ফেরাউনের দেহ, যার কথা কুরআনে বলা হয়েছে।

পরবর্তীতে বিখ্যাত ফরাসি চিকিৎসক ড. মরিস বুকাই এই মমিটি পরীক্ষা করেন। তিনি দেখতে পান—দেহটি এমনভাবে সংরক্ষিত, যেন মৃত্যুর পর তড়িৎ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মমিটির ফুসফুসে জল, লবণ ও শ্বাসরোধের চিহ্ন মেলে, যা ডুবে মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়।

বুকাই বলেন, “কুরআন ছাড়া আর কোনো ধর্মগ্রন্থে এই দেহ সংরক্ষণের কথা বলা হয়নি। আমি যখন এটা কুরআনে পড়ি, আমি অবাক হয়ে যাই এবং ইসলাম গ্রহণ করি।”

বিশ্বাস, বিজ্ঞান ও বার্তা

এই ঘটনা শুধু একটি ঐতিহাসিক সত্য নয়, বরং কুরআনের অসাধারণ প্রামাণিকতা ও অলৌকিক বার্তার নিদর্শন। একদল অহংকারী শাসকের পতনের গল্প যেমন এতে আছে, তেমনি মহান আল্লাহর প্রতিশ্রুতি যে অটুট—তার সাক্ষ্যও মেলে।

ফেরাউনের সংরক্ষিত লাশ আমাদের জন্য শুধুই এক জাদুঘরের নিদর্শন নয়, এটি এক ঈশ্বরপ্রদত্ত শিক্ষা—অহংকার, অবাধ্যতা ও অন্যায়ের পরিণতি কী হতে পারে। কুরআনের এই ঐতিহাসিক ঘোষণার বাস্তব প্রমাণ আজও চোখের সামনে উপস্থিত, যা চিন্তাশীলদের জন্য গভীর বার্তা বয়ে আনে।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ